ইসরাইলি সেনাবাহিনী জানিয়েছে, গাজায় আটক থাকা শেষ জিম্মি ইসরাইলি পুলিশ কর্মকর্তা রান গভিলির লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। সোমবার দেওয়া এক বিবৃতিতে সেনাবাহিনী জানায়, লাশ শনাক্ত করার পর তা দাফনের জন্য ইসরাইলে ফিরিয়ে আনা হবে। খবর আরব নিউজের।
দখলদার দেশটির দাবি অনুযায়ী, ৭ অক্টোবর ২০২৩ সালে হামাসের হামলায় নিহত হওয়ার পর থেকে প্রায় ৮৪০ দিনের বেশি সময় ধরে গাজায় গভিলির লাশ রাখা ছিল। সে হামাসের সঙ্গে লড়াইয়ে অংশ নিলেও কর্মস্থলে ছিলেন না বলে জানানো হয়েছে।
লাশ উদ্ধারের ফলে গাজা যুদ্ধ অবসানে যুক্তরাষ্ট্রের প্রস্তাবিত পরিকল্পনার প্রাথমিক পর্যায়ের একটি গুরুত্বপূর্ণ শর্ত পূরণ হয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে। এর অংশ হিসেবে গাজা ও মিশরের মধ্যকার রাফাহ সীমান্ত ক্রসিং সীমিত আকারে পুনরায় খোলার পথ তৈরি হতে পারে। মার্কিন সমর্থিত ফিলিস্তিনি টেকনোক্র্যাট কমিটি জানিয়েছে, এই সপ্তাহেই ক্রসিংটি খুলে দেওয়া হতে পারে, যদিও ইসরাইলি সরকার এ বিষয়ে তাৎক্ষণিক মন্তব্য করেনি।
ইসরাইলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু নেসেটে সাংবাদিকদের বলেন, গভিলির লাশ উদ্ধার “ইসরাইল রাষ্ট্রের জন্য এক অবিশ্বাস্য অর্জন”। তিনি গভিলিকে “জাতীয় নায়ক” হিসেবে বর্ণনা করেন।
উল্লেখ্য, ৭ অক্টোবর ২০২৩ সালে ফিলিস্থিনের স্বাধীনতাকামী সংঘঠন হামাস গাজায় ২৫১ জনকে জিম্মি করে নিয়ে যায়। পরবর্তীতে ইসরাইল ও হামাসের মধ্যে হওয়া যুদ্ধবিরতির সময় গাজায় ৪৮ জন জিম্মি রয়ে গিয়েছিল, যাদের মধ্যে ২৮ জনকে মৃত বলে ধারণা করা হয়। গভিলি তাদেরই একজন ছিলেন।
হামাসের মুখপাত্র হাজেম কাসেম এক বিবৃতিতে বলেন, গভিলির লাশ উদ্ধারে হামাসের দেওয়া তথ্য সহায়ক ছিল এবং তারা চুক্তির সব দিক বজায় রাখতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। এর মধ্যে গাজার প্রশাসনে জাতীয় টেকনোক্র্যাট কমিটির কাজ সহজ করাও অন্তর্ভুক্ত।
এদিকে গাজার স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, প্রায় দুই বছর ধরে চলা দখলদার ইসরাইলি হামলায় এখন পর্যন্ত ৭১ হাজারের বেশি ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছে।
ইসরাইলি কর্মকর্তারা এর আগে জানিয়েছিলেন, শেষ জিম্মির লাশ ফেরত না আসা পর্যন্ত রাফাহ ক্রসিং খোলার বিষয়ে তারা আপত্তি জানিয়ে যাবেন। রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সীমান্ত খুললেও ইসরাইল গাজায় প্রবেশ ও প্রস্থানের ওপর কঠোর নিয়ন্ত্রণ আরোপ করতে পারে।
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

