যুদ্ধবিধ্বস্ত গাজার শিশুদের জন্য মিসরে স্কুল গড়লেন ফিলিস্তিনি শিক্ষক

যুদ্ধবিধ্বস্ত গাজার শিশুদের জন্য মিসরে স্কুল গড়লেন ফিলিস্তিনি শিক্ষক
ছবি: সংগৃহীত।

মিসরের উত্তর সিনাইয়ের উপকূলীয় শহর এল-আরিশে যুদ্ধবিধ্বস্ত গাজার বাস্তুচ্যুত শিশুদের জন্য একটি স্কুল গড়ে তুলেছেন ফিলিস্তিনি শিক্ষক হাদিল জুরোব। গাজা থেকে পালিয়ে মিসরে আশ্রয় নেওয়া শত শত শিশুর মধ্যে প্রায় ৪০০ জন বর্তমানে এই স্কুলে পড়াশোনা করছে।

বিজ্ঞাপন

গাজা সীমান্ত থেকে প্রায় ৪৪ কিলোমিটার দূরের এল-আরিশে থাকা এসব শিশুকে যুদ্ধের কারণে নিজেদের ঘরবাড়ি ছাড়তে হয়েছে। শহরটির বেশির ভাগ ভবন নিচু এবং রাস্তাগুলো ধুলোময়। সেখানে বাস্তুচ্যুত শিশুদের জন্য পর্যাপ্ত শিক্ষার সুযোগ না থাকায় উদ্যোগটি নেন জুরোব।

এএফপিকে জুরোব বলেন, মিসরে পালিয়ে আসা এসব শিশুর জন্য কোনো স্কুল বা শিক্ষার ব্যবস্থা ছিল না। এ কারণে তাদের জন্য একটি শিক্ষাকেন্দ্র চালুর সিদ্ধান্ত নেন তিনি।

ত্রিশের কোঠায় থাকা জুরোবও যুদ্ধের শিকার। ২০২৩ সালের অক্টোবরে হামাসের ইসরাইলে হামলার পর ইসরাইলের সামরিক অভিযান শুরু হলে প্রায় ছয় মাস পর পরিবারের সদস্যদের নিয়ে গাজা ছাড়েন তিনি। পরে তারা এল-আরিশে আশ্রয় নেন। শহরটি গাজায় ত্রাণ পাঠানো এবং চিকিৎসার জন্য রোগীদের সরিয়ে নেওয়ার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ একটি কেন্দ্র।

জুরোবের মতো সীমান্তবর্তী এলাকার অনেক ফিলিস্তিনি পরিবারেরই গাজা ও মিসর—দুই পাশেই স্বজন রয়েছে। এল-আরিশে পৌঁছানোর পর আত্মীয়দের সহায়তায় নতুন জীবন শুরু করেন তারা।

শুরুতে আরও কয়েকজন বাস্তুচ্যুত ফিলিস্তিনি শিক্ষককে সঙ্গে নিয়ে ভাড়া করা একটি ভবনে অল্পসংখ্যক শিশুকে পড়ানো শুরু করেন জুরোব। ধীরে ধীরে সেই উদ্যোগই রূপ নেয় একটি বিনা মূল্যের পূর্ণাঙ্গ স্কুলে। বর্তমানে ৬ থেকে ১৮ বছর বয়সি প্রায় ৪০০ শিক্ষার্থী এখানে পড়ছে। প্রথম বছরে শিক্ষার্থীর সংখ্যা ছিল প্রায় ১৫০।

শিক্ষার্থীর সংখ্যা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে স্কুল পরিচালনার ব্যয়ও বেড়েছে। জুরোব জানান, ভবন ভাড়া ও শিক্ষা উপকরণের খরচ মেটাতে এখন সহায়তা করছে মিসরের অন্যতম বড় দাতব্য প্রতিষ্ঠান মিসর এল খেইর ফাউন্ডেশন।

উত্তর সিনাইয়ে বর্তমানে এটিই একমাত্র ফিলিস্তিনি স্কুল। অঞ্চলটি মিসরের প্রত্যন্ত ও অর্থনৈতিকভাবে পিছিয়ে থাকা এলাকাগুলোর একটি। ২০১১ সালের গণঅভ্যুত্থানের পর থেকে সেখানে ইসলামপন্থি সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরে নিরাপত্তা অভিযানও চলেছে।

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন