যুদ্ধবিরতির চুক্তি অনুমোদন করলো হামাস

আমার দেশ ডেস্ক

যুদ্ধবিরতির চুক্তি অনুমোদন করলো হামাস

অবরুদ্ধ ফিলিস্তিনি ভূখণ্ড গাজায় যুদ্ধবিরতির প্রাথমিক ধাপের অনুমোদন দিয়েছে স্বাধীনতাকামী সংগঠন হামাস। বুধবার কাতারের রাজধানী দোহায় আলোচনার পর এই চুক্তি অনুমোদন দিয়েছে তারা।

প্রাথমিক ধাপের শর্ত অনুযায়ী প্রথম ধাপে ৪২ দিনের জন্য যুদ্ধবিরতি হচ্ছে। এর মধ্যে গাজায় ৭০০ মিটারের মধ্যে নিজেদের প্রত্যাহার করে নেবে ইসরাইলি বাহিনী। ইসরাইলি কারাগার থেকে ২৫০ জন যাবজ্জীবন দণ্ডপ্রাপ্তসহ দুই হাজার ফিলিস্তিনি বন্দিকে মুক্তি দেওয়া হবে। এর বিনিময়ে গাজা থেকে নারী, শিশু ও বৃদ্ধ ৩৩ ইসরাইলি জিম্মিকে মুক্তি দেওয়া হবে। এই সময় আহত ব্যক্তিদের গাজা থেকে চিকিৎসার জন্য বাইরে যাওয়ার সুযোগ দেওয়া হবে।

বিজ্ঞাপন

যুদ্ধবিরতি শুরু হওয়ার সাত দিন পরে মিসরের সঙ্গে রাফাহ সীমান্ত খুলে দেবে ইসরাইলি বাহিনী। এ সময় থেকে রাফাহ থেকে ইসরাইলি সেনা প্রত্যাহার শুরু হবে। চূড়ান্ত ধাপে গিয়ে রাফাহ থেকে ইসরাইলি সেনা সম্পূর্ণ প্রত্যাহার করা হবে।

যুদ্ধবিরতির বিষয়ে আলোচনার জন্য কাতার, মিসর ও আমেরিকার মধ্যস্থতায় দীর্ঘদিন আলোচনা চলছিল দুই পক্ষের মধ্যে। নতুন করে মঙ্গলবার দুই পক্ষের মধ্যে দোহায় আলোচনা শুরু হয়। আলোচনায় অংশ নিতে মোসাদ ও শিনবেতের দুই প্রধানসহ ইসরাইলি এক প্রতিনিধি দল দোহা সফরে যায়।

এদিকে গাজায় ইসরাইলি আগ্রাসনের ৪৬৭তম দিন পার হয়েছে বুধবার। ভোর থেকে স্থানীয় সময় দুপুর ২টা পর্যন্ত অবরুদ্ধ ভূখণ্ডটির বিভিন্ন স্থানে ইসরাইলি হামলায় অন্তত ৩৩ ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন।

এর আগের ২৪ ঘণ্টায় ৬২ জন নিহত হয়েছেন জানায় ফিলিস্তিনি স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়। বুধবারের নিয়মিত বিবৃতিতে তারা জানায়, হামলায় আরও ২৫৩ জন আহত হয়েছেন।

এ নিয়ে ১৫ মাসের চলমান আগ্রাসনে গাজায় নিহতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৪৬ হাজার ৭০৭ জনে। অন্যদিকে আহতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে এক লাখ ১০ হাজার ২৬৫ জন।

বুধবার গাজার বুরেইজি শরণার্থী শিবিরে ইসরাইলি বোমা হামলায় অন্তত পাঁচজন নিহত হয়েছেন। দক্ষিণ গাজার রাফায় ইসরাইলি ড্রোন হামলায় অন্তত দুইজন নিহত হন। মধ্য গাজার নুসাইরাতে হামলায় নিহত হন অন্তত ছয়জন।

গাজা শহরের একটি স্কুলে বোমা হামলায় অন্তত সাতজন নিহত হয়েছেন।

এদিকে ইসরাইলি সামরিক বাহিনী দাবি করেছে, তারা গাজায় অন্তত ৫০টি লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত করেছে। হামলা চালানো স্থান ও স্থাপনা ব্যবহার করে ফিলিস্তিনি যোদ্ধারা তাদের সামরিক তৎপরতা চালাতো।

গাজায় আগ্রাসনের সঙ্গে সঙ্গে অধিকৃত পশ্চিম তীরেও হামলা চালাচ্ছে ইসরাইলি বাহিনী। মঙ্গলবার পশ্চিম তীরের জেনিনের শরণার্থী শিবিরে এক ড্রোন হামলায় অন্তত ছয় ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন।

ইসরাইলি স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের বিবৃতিতে বলা হয়, নিহতদের লাশ জেনিনের সরকারি হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে।

এদিকে ইসরাইলি সামরিক বাহিনীর মুখপাত্র আভিচে আদ্রে এক বিবৃতিতে বলেন, ‘ইসরাইলি প্রতিরক্ষা বাহিনী ও শিনবেতের যৌথ অভিযানে জেনিনে এক লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালিয়েছে বিমান বাহিনীর একটি ড্রোন।’

ফিলিস্তিনি স্বাধীনতাকামী সংগঠন হামাসের সামরিক শাখা ইজ্জুদ্দিন আল-কাসসাম ব্রিগেড এক বিবৃতিতে নিহতদের মধ্যে চারজনকে নিজেদের সদস্য হিসেবে পরিচয় দিয়েছে।

এছাড়া মঙ্গলবার সন্ধ্যা থেকে রাতভর পশ্চিম তীরের বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে অন্তত ১২ ফিলিস্তিনিকে গ্রেপ্তার করেছে ইসরাইলি বাহিনী।

ফিলিস্তিনি বন্দীদের অধিকার বিষয়ক সংগঠন পিপিএস এক বিবৃতিতে জানায়, তুলকারাম, বেথলেহেম, নাবলুস, কালকিলইয়া ও রামাল্লায় এই অভিযান পরিচালনা করে ইসরাইল।

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন