জাপানে নয় জন ব্যক্তিকে হত্যার দায়ে ‘টুইটার কিলার’ খ্যাত তাকাহিরো শিরাইশি নামের এক ব্যক্তির মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হয়েছে। দেশটিতে শুক্রবার (২৭ জুন) প্রায় তিন বছর পর প্রথমবারের মতো এই মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হয়। খবর আল জাজিরা।
‘টুইটার কিলার’ খ্যাত তাকাহিরো শিরাইশির ২০১৭ সালের ওই সিরিয়াল খুনের ঘটনা জাপানকে স্তম্ভিত করে দিয়েছিল। আত্মহত্যা নিয়ে অনলাইনে যেভাবে আলোচনা হয় তা নিয়ে তীব্র বিতর্কও উসকে দিয়েছিল।
৩০ বছরের শিরাইশি তার শিকারদের প্রলুব্ধ করে তার অ্যাপার্টমেন্টে নিয়ে যেতেন এবং পরে শ্বাসরোধে হত্যা ও দেহ থেকে অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ বিচ্ছিন্ন করে ফেলতেন। তার শিকারদের বেশিরভাগই ছিল ১৫ থেকে ২৬ বছর বয়সের তরুণী।
নিখোঁজ একজনের সন্ধানে গিয়ে পুলিশ টোকিওর কাছে জামা শহরের এক অ্যাপার্টমেন্টে মানবদেহের টুকরো পাওয়ার পর ২০১৭ সালের অক্টোবরে ওই সিরিয়াল খুনের ঘটনা আলোর মুখ দেখে।
শিরাইশি পরে জানান, তিনি আত্মহত্যাপ্রবণ যে ৯ জনকে হত্যা করেছেন, তাদের সঙ্গে তার টুইটারে পরিচয় হয়েছিল। সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম টুইটার এখন এক্স নামে পরিচিত।
টুইটারে নিজের প্রোফাইলে সে লিখে রেখেছিল, যারা কষ্টে আছেন, আমি তাদের সাহায্য করতে চাই। যে কোনও সময় আমাকে সরাসরি মেসেজ করতে পারেন।
এরপর যারা তার সঙ্গে যোগাযোগ করতেন, তাদের ভুলিয়ে ভালিয়ে নিজের অ্যাপার্টমেন্টে এনে হত্যা করতো শিরাইশি।
২০১৭ সালে এক নিখোঁজ ব্যক্তির দেহাবশেষ উদ্ধারের মাধ্যমে শিরাইশির অপরাধ সামনে আসে। জবানবন্দিতে অন্তত নয়জনকে হত্যার কথা স্বীকার করেছে সে।
তার দাবি অনুযায়ী, তার শিকারদের সবাই ছিলেন আত্মহত্যাপ্রবণ ব্যক্তি। তাদের অনুমতি নিয়ে কষ্ট থেকে মুক্তি দেওয়ার জন্য হত্যা করা হয়েছে। সামাজিক মাধ্যম টুইটারের মাধ্যমে ভুক্তভোগীদের সাথে যোগাযোগ করতেন বলে তাকে ‘টুইটার কিলার’ উপাধি দেয়া হয়।
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

