উত্তরপ্রদেশে স্কুলের সামনে মুসলিম শিক্ষককে গুলি করে হত্যা

উত্তরপ্রদেশে স্কুলের সামনে মুসলিম শিক্ষককে গুলি করে হত্যা
ছবি: সংগৃহীত।

ভারতের উত্তরপ্রদেশের মঙ্গলবার বিকেলে একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সামনে চল্লিশোর্ধ্ব বয়েসের এক স্কুল শিক্ষককে গুলি করে হত্যা করা হয়েছে। হত্যার পর অভিযুক্ত ৩০ বছর বয়সী গৌরব রাথি থানায় গিয়ে আত্মসমর্পণ করেন বলে জানা গেছে।

বিজ্ঞাপন

নিহত শিক্ষকের নাম নওশাদ আহমেদ। পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রের বরাতে তার বয়স ৪০ থেকে ৪৩ বছরের মধ্যে বলে জানা গেছে। মঙ্গলবার ক্লাস শেষে মোটরসাইকেলে করে বাড়ি ফিরছিলেন তিনি। দুপুর ২টার দিকে স্কুলের গেটের কাছে রাথি নওশাদকে লক্ষ্য করে গুলি চালান বলে অভিযোগ।

এতে একাধিক গুলিবিদ্ধ হয়ে ঘটনাস্থলেই মাটিতে লুটিয়ে পড়েন নওশাদ। স্কুলশিক্ষক তরুণা চৌরাসিয়া তাকে উদ্ধার করে একটি ই-রিকশায় নাজিবাবাদের একটি বেসরকারি হাসপাতালে নিয়ে যান। পরে অবস্থার অবনতি হলে চিকিৎসকেরা তাকে ঋষিকেশের এআইআইএমএসে পাঠান। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় বিকেল ৫টার দিকে তার মৃত্যু হয়।

পুলিশ জানায়, গুলিবর্ষণের কিছুক্ষণ পরই দুটি দেশীয় তৈরি পিস্তল ও ছয় রাউন্ড কার্তুজসহ রাথি থানায় হাজির হন। সংবাদমাধ্যম আমর উজালার বরাতে পুলিশ জানিয়েছে, রাথি কথিতভাবে স্বীকার করেছেন যে তিনি তিনবার গুলি চালিয়েছিলেন। তিনি নৌশাদের বিরুদ্ধে কথিত ‘লাভ জিহাদের সংশ্লিষ্টতার অভিযোগও তোলেন, যা পুলিশ তদন্ত করছে।

বিজনোরের পুলিশ সুপার কে কে বিষ্ণোই জানান, অভিযুক্ত আত্মসমর্পণ করলেও হত্যার কারণ এখনো নিশ্চিত হয়নি। নিহত নৌশাদ রাহাতপুর খুর্দ গ্রামের বাসিন্দা এবং স্থানীয়ভাবে সম্পত্তি কেনাবেচার সঙ্গেও জড়িত ছিলেন বলে জানা গেছে। সম্পত্তি বা আর্থিক লেনদেন সংক্রান্ত বিরোধ থেকে হত্যার ঘটনা ঘটেছে কি না, তাও তদন্ত করা হচ্ছে। গ্রামের মুখিয়া মোহাম্মদ মোস্তফা জানান, হত্যার নির্দিষ্ট কারণ এখনো স্পষ্ট নয়।

নৌশাদ মৃত্যুর পর তার মা, দুই স্ত্রী ও পাঁচ সন্তান রেখে গেছেন। ময়নাতদন্ত শেষে পরিবারের কাছে লাশ হস্তান্তর করা হবে। অভিযুক্তের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ এবং হত্যার উদ্দেশ্য তদন্তাধীন রয়েছে।

সূত্র: মুসলিম মিরর

এমএমআর

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন