তেহরান বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞানের অধ্যাপক হোসেইন রয়ভারানের মতে, ইরানের পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির বিষয়ে ওয়াশিংটনের সতর্কবার্তা একটি দীর্ঘদিনের অজুহাত মাত্র; কারণ তেহরান কখনোই এমন কোনো অস্ত্র তৈরির চেষ্টা করেনি।
আল জাজিরাকে তিনি বলেন, ‘পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন নিষিদ্ধ করে ইরানে একটি ধর্মীয় ফতোয়া রয়েছে। ইরান যদি এমন কোনো অস্ত্র অর্জন করতে চাইত, তবে তা দ্রুতই করতে পারত; কিন্তু এ বিষয়ে কোনো রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি।’
তিনি বলেন, নিষেধাজ্ঞা, যুদ্ধ এবং স্কুল, ক্রীড়াকেন্দ্র ও অতি সম্প্রতি বিয়ের অনুষ্ঠানে হামলার যৌক্তিকতা প্রমাণের জন্য ওয়াশিংটন গত দুই দশক ধরে পারমাণবিক ইস্যুটিকে ব্যবহার করে আসছে।
তার মতে, ‘তাই আমি মনে করি, এটি নতুন কিছু নয়; এটি সেই একই বয়ান যার আড়ালে যুক্তরাষ্ট্র নিজেকে আড়াল করার এবং নিজেদের সব অপরাধকে বৈধতা দেওয়ার চেষ্টা করে।’
ভেস্তে যাওয়া পারমাণবিক আলোচনার বিষয়ে রয়ভারান বলেন, জেনেভায় ইরান একটি প্রাথমিক সমঝোতায় পৌঁছেছিল। সেইসঙ্গে ওমানের মধ্যস্থতায় কয়েক দিনের মধ্যেই একটি খসড়া চুক্তি স্বাক্ষরিত হওয়ার কথা ছিল, যেখানে তেহরান তার পারমাণবিক কর্মসূচিকে সামরিকীকরণের পথে না নেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল।
তিনি বলেন, ‘কে যুদ্ধে জড়িয়েছিল এবং চুক্তিটি ভেস্তে দিয়েছিল? ট্রাম্প। নির্বাচনের পর আগামী দিনগুলোতে ট্রাম্প যদি আরো বিপজ্জনক হয়ে ওঠেন, তবে ইরানের হাতেও সব ধরনের সক্ষমতা রয়েছে। ইরান এখন যুক্তরাষ্ট্রের সব নৌ-জাহাজ ডুবিয়ে দিতে পারে। তারা তা করছে না কারণ এর পরিণাম ভোগ করতে হবে।’
রয়ভারান বলেন, ইসরাইলের চাপের কারণেই ওই সমঝোতা স্মারকটি ভেস্তে গেছে। তিনি আরো বলেন, হোয়াইট হাউস এবং অনেক সিদ্ধান্তই আসলে আইপ্যাকের নিয়ন্ত্রণ করে।
আরএ
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন


