নির্বাচনে ভরাডুবি: ট্রাম্পকে কর্মকৌশল পরিবর্তনের আহ্বান রিপাবলিকানদের

নির্বাচনে ভরাডুবি: ট্রাম্পকে কর্মকৌশল পরিবর্তনের আহ্বান রিপাবলিকানদের
ছবি: সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে বড় ধরনের বিপর্যয়ের পর প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে নীতি ও প্রশাসনিক কর্মকৌশল পরিবর্তনের আহ্বান জানিয়েছেন রিপাবলিকান নেতারা। নির্বাচনে ডেমোক্র্যাটরা কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার পাশাপাশি গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি আসনে ট্রাম্পের সমর্থিত প্রার্থীদেরও পরাজিত করেছেন।

রিপাবলিকান নেতা ও রাজনৈতিক কৌশলবিদেরা হোয়াইট হাউসে রদবদল, প্রশাসনে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনা এবং ইরান যুদ্ধ ও শুল্কনীতির মতো বিতর্কিত সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসার পরামর্শ দিয়েছেন। তাদের আশঙ্কা, এসব নীতি দলটির জনপ্রিয়তা কমিয়ে দিয়েছে।

বিজ্ঞাপন

তবে নির্বাচনের ফলকে নিজের জন্য কোনো ধাক্কা বলে মনে করছেন না ট্রাম্প। ফক্স নিউজকে তিনি বলেন, নির্বাচনের ফলকে তিনি নিজের ওপর আঘাত হিসেবে দেখছেন না।

নির্বাচনে জয়ী হয়ে কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ায় ডেমোক্র্যাটরা এখন ট্রাম্প প্রশাসনের আইন প্রণয়ন, নিয়োগ ও কর্মকাণ্ডে বাধা দেওয়ার পাশাপাশি বিভিন্ন বিষয়ে তদন্ত চালানোর ক্ষমতা পেয়েছে। ফলে কংগ্রেসের বাধার মুখে ট্রাম্প নির্বাহী ক্ষমতার ওপর আরও বেশি নির্ভরশীল হয়ে উঠতে পারেন।

এদিকে ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স ইরান যুদ্ধকে নির্বাচনে পরাজয়ের অন্যতম কারণ হিসেবে উল্লেখ করে ট্রাম্পের অবস্থান থেকে কিছুটা দূরত্ব বজায় রাখার ইঙ্গিত দিয়েছেন। ২০২৮ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে সম্ভাব্য রিপাবলিকান প্রার্থী হিসেবে বিবেচিত ভ্যান্সের এমন অবস্থান দলটির অভ্যন্তরীণ বিভাজনের ইঙ্গিত দিচ্ছে।

হোয়াইট হাউসের কর্মকর্তারা সম্ভাব্য কর্মী ছাঁটাই, মন্ত্রিসভায় পরিবর্তন এবং ডেমোক্র্যাটদের তদন্ত নিয়ে উদ্বেগে রয়েছেন। এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা জানিয়েছেন, নির্বাচনের কয়েক সপ্তাহ আগেই অভ্যন্তরীণ জরিপে দুই কক্ষেই রিপাবলিকানদের পরাজয়ের আশঙ্কা দেখা দিয়েছিল। কিন্তু ইরান যুদ্ধ নিয়ে সতর্কবার্তা উপেক্ষা করেন ট্রাম্প।

ইরান যুদ্ধের পাশাপাশি হোয়াইট হাউসের বলরুম নির্মাণ ও ওয়াশিংটনের বিভিন্ন সংস্কারকাজেও ট্রাম্পের অতিরিক্ত মনোযোগ নিয়ে ভোটারদের মধ্যে অসন্তোষ তৈরি হয়েছিল।

তবে নির্বাচনের পরও এসব প্রকল্পের পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন ট্রাম্প। তিনি বলেছেন, বলরুম নির্মাণের কাজ তার কাছে বেশ স্বস্তিদায়ক।

নির্বাচনে বিপর্যয় সত্ত্বেও ট্রাম্পের হাতে এখনো যথেষ্ট নির্বাহী ক্ষমতা রয়েছে। অভিবাসন, শুল্ক, আবাসন ও সরকারি ব্যয়সংক্রান্ত বিভিন্ন সিদ্ধান্তের মাধ্যমে তিনি নিজের নীতির কিছু অংশ বাস্তবায়ন করতে পারবেন। তবে কংগ্রেসের তদন্ত ও জবাবদিহির চাপ এড়ানো তার জন্য কঠিন হবে।

সুত্র: রয়টার্স

আরএ

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন