স্পেনের ক্যানারি দ্বীপপুঞ্জের দক্ষিণে ২৬ দিন ধরে সাগরে ভেসে থাকা একটি নৌকা থেকে ৪৪ অভিবাসীকে উদ্ধার করা হয়েছে। তবে নৌকাটিতে থাকা ১২৮ জনের মধ্যে ৮০ জনের বেশি মারা গেছেন বলে আশঙ্কা করছে স্প্যানিশ কর্তৃপক্ষ। নিহতদের মধ্যে একটি শিশুও রয়েছে।
স্প্যানিশ সম্প্রচারমাধ্যম আরটিভিই জানিয়েছে, গত ৭ আগস্ট গাম্বিয়া থেকে নৌকাটি ১২৮ জন যাত্রী নিয়ে যাত্রা শুরু করে। বুধবার সন্ধ্যায় নৌকাটি ক্যানারি দ্বীপপুঞ্জের গ্রান কানারিয়া দ্বীপের দক্ষিণ-পশ্চিমে ভাসমান অবস্থায় শনাক্ত করা হয়।
স্প্যানিশ মেরিটাইম রেসকিউ সার্ভিস জানায়, স্থানীয় সময় বুধবার সন্ধ্যা ৬টা ৪০ মিনিটের দিকে তাদের একটি বিমান প্রায় ৬৫ নটিক্যাল মাইল (প্রায় ১২০ কিলোমিটার) দূরে নৌকাটিকে দেখতে পায়। পরে উদ্ধারকারী জাহাজ গুয়ারদামার উরানিয়া মধ্যরাতের আগে নৌকাটির কাছে পৌঁছে ৪৪ জনকে উদ্ধার করে।
উদ্ধার হওয়া সবাই সাব-সাহারান আফ্রিকার নাগরিক এবং পুরুষ। নৌকাটির ভেতর থেকে পাঁচটি লাশও পাওয়া যায়। তবে প্রতিকূল আবহাওয়ার কারণে লাশগুলো উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি। ওই সময় সাগরে ঘণ্টায় প্রায় ২০ নট বেগে বাতাস বইছিল এবং ঢেউয়ের উচ্চতা ছিল প্রায় ২ দশমিক ৫ মিটার।
উদ্ধার হওয়া তিনজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় হেলিকপ্টারে করে তাদের সরিয়ে নেওয়া হয়। বাকি ৪১ জনকে গ্রান কানারিয়ার আরগুইনেগুইন বন্দরে নিয়ে যাওয়া হয়। বৃহস্পতিবার ভোরে তারা সেখানে পৌঁছান।
স্প্যানিশ রেড ক্রস জানিয়েছে, পরে আরও তিনজনকে অ্যাম্বুলেন্সে করে হাসপাতালে নেওয়া হয়। ফলে হাসপাতালে ভর্তি হওয়া জীবিতদের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ছয়জনে।
কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, নৌকাটিতে প্রথমে কতজন যাত্রী ছিলেন এবং জীবিতদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে মৃতের সংখ্যা অনুমান করা হয়েছে। সেই হিসাবে ৮০ জনের বেশি অভিবাসী সমুদ্রযাত্রার সময় মারা গিয়ে থাকতে পারেন।
পশ্চিম আফ্রিকা থেকে সমুদ্রপথে ক্যানারি দ্বীপপুঞ্জে পৌঁছানোর চেষ্টা করা অভিবাসীদের জন্য এ পথটি ইউরোপে যাওয়ার সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ অভিবাসন রুটগুলোর একটি। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে এই পথে নৌকাডুবি ও দীর্ঘ সময় সাগরে ভেসে থাকার ঘটনায় বহু অভিবাসীর মৃত্যু হয়েছে।
সূত্র: আনাদোলু এজেন্সি
এমএমএমআর
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন


