লন্ডনে প্রথমবারের মতো ভাড়া করে চালকবিহীন ট্যাক্সিতে যাতায়াতের সুযোগ চালু হয়েছে। বৃহস্পতিবার উবার অ্যাপে ওয়েভের চালকবিহীন গাড়ি যুক্ত হওয়ার মাধ্যমে এ সেবা শুরু হয়। তবে চাইলেই তাৎক্ষণিকভাবে রোবোট্যাক্সি পাওয়ার সম্ভাবনা এখনো খুব কম। কারণ, এ মুহূর্তে মাত্র ১৫টি গাড়ি এ সেবার জন্য অনুমোদিত হয়েছে। এর বিপরীতে লন্ডনে নিবন্ধিত ব্যক্তিগত ভাড়ার গাড়ির সংখ্যা এক লাখের বেশি। স্বচালিত গাড়িতে যাতায়াতের জন্য নিবন্ধিত গ্রাহকের সংখ্যাও প্রায় এক লাখ।
গাড়িগুলোতে এখনো একজন অনুমোদিত মানবচালক সামনের আসনে থাকবেন। প্রয়োজন হলে তিনি গাড়ির নিয়ন্ত্রণ নিজের হাতে নিতে পারবেন।
গত মাসে লন্ডনের পরিবহন কর্তৃপক্ষ ট্রান্সপোর্ট ফর লন্ডন (টিএফএল) এসব গাড়িকে নিরাপত্তা চালকসহ ব্যক্তিগত ভাড়ার গাড়ি হিসেবে অনুমোদন দেয়। তবে নিরাপত্তা চালক ছাড়াই সম্পূর্ণ স্বচালিতভাবে চলাচলের জন্য আলাদা সরকারি প্রক্রিয়ায় অনুমোদন নিতে হবে। এ দায়িত্ব ড্রাইভার অ্যান্ড ভেহিকেল স্ট্যান্ডার্ডস এজেন্সির (ডিভিএসএ্)। এ অনুমোদন পেতে আরও সময় লাগবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
তারপরও বৃহস্পতিবারের উদ্বোধনকে গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে দেখা হচ্ছে। লন্ডনে চালকবিহীন ট্যাক্সি চালুর দৌড়ে প্রযুক্তি কোম্পানিগুলোর মধ্যে উবারকে এগিয়ে দিয়েছে এ উদ্যোগ। ইউরোপের অন্যান্য শহরে এ প্রযুক্তি সম্প্রসারণের জন্য লন্ডনকে গুরুত্বপূর্ণ বাজার হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। গুগলের মালিকানাধীন ওয়েমো এবং চীনা প্রতিষ্ঠান বাইদুও লন্ডনে তাদের রোবোট্যাক্সি পরীক্ষা করছে।
ওয়েভের প্রধান নির্বাহী ও সহপ্রতিষ্ঠাতা অ্যালেক্স কেন্ডাল বলেন, লন্ডন তাদের নিজ শহর এবং বিশ্বের অন্যতম জটিল সড়ক ব্যবস্থার একটি জায়গা। তাই এখানকার মানুষের জন্য প্রথমবারের মতো ওয়েভের কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাচালিত প্রযুক্তি উন্মুক্ত করতে পেরে তিনি গর্বিত।
তিনি বলেন, প্রযুক্তিটি এখনো উন্নয়নের পর্যায়ে রয়েছে। তবে নিরাপত্তা চালক ছাড়াই রোবোট্যাক্সি সেবা চালুর লক্ষ্য তাদের রয়েছে। কবে নাগাদ তা সম্ভব হবে, সে বিষয়ে নির্দিষ্ট সময়সীমা দিতে রাজি হননি কেন্ডাল।
ওয়েভ ভবিষ্যতে ব্যাপক উৎপাদনের উপযোগী গাড়ি ব্যবহারের পরিকল্পনা করছে। এর মধ্যে নতুন নিসান লিফ মডেলের রোবোট্যাক্সিতে তাদের প্রযুক্তি যুক্ত করা হবে। এ প্ল্যাটফর্মের নিরাপত্তা ব্যবস্থা যাচাই এবং সরকারি অনুমোদন নেওয়ার কাজ একসঙ্গে চলছে বলে জানান কেন্ডাল।
ওয়েভের স্বচালিত প্রযুক্তি প্রতিদ্বন্দ্বী ওয়েমোর মতো বিস্তারিত ম্যাপিংয়ের ওপর নির্ভরশীল নয়। বরং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক শেখার মডেলের মাধ্যমে গাড়ি চালানোর সক্ষমতা তৈরি করা হয়েছে।
উবার অ্যাপের মাধ্যমে গাড়ি ডাকা ও আনলক করা যাবে। গাড়িতে থাকা চালক যাত্রীকে পরিচয় দেওয়ার পর জানাবেন, যাত্রার সময় তিনি কথা বলবেন না। তবে যাত্রী চাইলে তিনি গাড়ির নিয়ন্ত্রণ নিজের হাতে নিতে পারবেন।
লন্ডনেই প্রথমবার ভাড়ার জন্য স্বচালিত ট্যাক্সি চালু হলেও বিশ্বের বিভিন্ন শহরে ইতোমধ্যে সম্পূর্ণ চালকবিহীন ট্যাক্সি চলাচল করছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্র, চীন ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের বিভিন্ন শহরে এ ধরনের সেবা চালু রয়েছে।
চলতি বছরের গ্রীষ্মের শুরুতে ক্রোয়েশিয়ার রাজধানী জাগরেবে ইউরোপের প্রথম বাণিজ্যিক রোবোট্যাক্সি সেবা চালু করতেও অংশীদার হয়েছিল উবার। সেখানেও লন্ডনের মতো একজন মানবচালক গাড়িতে থাকেন।
উবারের স্বচালিত পরিবহন বিভাগের প্রধান সারফরাজ মারেদিয়া বলেন, বিশ্বের অন্যতম জটিল সড়ক ব্যবস্থার একটি শহরে নিরাপদ ও সহজলভ্য স্বচালিত গাড়ি প্রযুক্তি সম্প্রসারণের ক্ষেত্রে লন্ডনে এ সেবা চালু করা বড় মাইলফলক।
তবে স্বচালিত গাড়ির দ্রুত সম্প্রসারণ নিয়ে সতর্ক করেছে শ্রমিক সংগঠন জিএমবি। সংগঠনটির জ্যেষ্ঠ সংগঠক ডেভিড ম্যাকমুলেন বলেন, প্রতিদিন লাখ লাখ মানুষ গাড়ি চালিয়ে জীবিকা নির্বাহ করেন। তাই চালকবিহীন গাড়ি চালুর ক্ষেত্রে অত্যন্ত সতর্ক হতে হবে। অন্যথায় নজিরবিহীন সামাজিক ও অর্থনৈতিক সংকট তৈরি হতে পারে।
সূত্র: দ্য গার্ডিয়ান
এমএমআর
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন


