যুক্তরাষ্ট্রের মিশিগান অঙ্গরাজ্যের সিনেট নির্বাচনে জয় দাবি করেছেন ডেমোক্র্যাট প্রার্থী আবদুল আল-সাইয়েদ। তার দাবি সত্য হলে যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে প্রথম মুসলিম সিনেটর হওয়ার নজির গড়বেন তিনি। তবে বুধবার পর্যন্ত নির্বাচনের ফল আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করেনি।
এপি ও দ্য গার্ডিয়ানের তথ্য অনুযায়ী, ৭৯ শতাংশ ভোট গণনা শেষে রিপাবলিকান প্রার্থী মাইক রজার্সের চেয়ে প্রায় ৫ শতাংশ পয়েন্টে এগিয়ে ছিলেন আল-সাইয়েদ। বুধবার ভোরে ডেট্রয়েটে সমর্থকদের সামনে দেওয়া বক্তব্যে তিনি নিজেকে বিজয়ী ঘোষণা করেন।
নির্বাচনি সমাবেশে আল-সাইয়েদ বলেন, ভোটাররা তাকে নিজেদের বাড়িতে, গির্জায় ও উপাসনালয়ে স্বাগত জানিয়েছেন। তাদের সমর্থনেই এই অবস্থানে পৌঁছেছেন তিনি।
৪১ বছর বয়সি আল-সাইয়েদ পেশায় চিকিৎসক ও জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ। তিনি ওয়েইন কাউন্টির সাবেক স্বাস্থ্য পরিচালক। নির্বাচনি প্রচারে সর্বজনীন স্বাস্থ্যসেবা, জীবনযাত্রার ব্যয় কমানো, ধনীদের ওপর কর বৃদ্ধি এবং রাজনীতিতে করপোরেট অর্থের প্রভাব কমানোর প্রতিশ্রুতি দেন তিনি। একই সঙ্গে ইসরাইলের প্রতি মার্কিন সামরিক সহায়তা বন্ধের পক্ষেও অবস্থান নেন।
তার প্রতিদ্বন্দ্বী মাইক রজার্স সাবেক কংগ্রেস সদস্য ও এফবিআইয়ের সাবেক কর্মকর্তা। নির্বাচনি প্রচারে তিনি প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে নিজের ঘনিষ্ঠতার বিষয়টি তুলে ধরেন।
মিশিগানের এই নির্বাচন ঘিরে ডেমোক্রেটিক পার্টির ভেতরেও বিভক্তি দেখা দেয়। দলীয় প্রাথমিক নির্বাচনে আল-সাইয়েদের কাছে পরাজিত কংগ্রেস সদস্য হ্যালি স্টিভেনস ভোটের মাত্র দুই দিন আগে রিপাবলিকান প্রার্থী রজার্সকে সমর্থন জানান। এতে দলটির অভ্যন্তরীণ বিরোধ আরও প্রকাশ্যে আসে।
নির্বাচনি প্রচারে আল-সাইয়েদের মুসলিম পরিচয় ও ইসরাইল-সংক্রান্ত অবস্থানকে কেন্দ্র করে রিপাবলিকানদের পক্ষ থেকে নানা আক্রমণও আসে। তবে তার বিরুদ্ধে সন্ত্রাসী গোষ্ঠীর সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার অভিযোগের পক্ষে কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি বলে এপির প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
এখন আনুষ্ঠানিক ফল ঘোষণার অপেক্ষায় রয়েছে মিশিগানের সিনেট নির্বাচন। আল-সাইয়েদের জয় নিশ্চিত হলে যুক্তরাষ্ট্রের সিনেটের ইতিহাসে প্রথম মুসলিম সদস্য হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার সুযোগ তৈরি হবে তার।
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন


