পারিবারিক নির্যাতনের শিকার গর্ভবতী নারীর সংখ্যা বাড়ছে

পারিবারিক নির্যাতনের শিকার গর্ভবতী নারীর সংখ্যা বাড়ছে

ইংল্যান্ডে প্রতিবছর প্রায় ২০ হাজার গর্ভবতী নারী মাতৃত্বকালীন স্বাস্থ্যসেবা নিতে গিয়ে পারিবারিক নির্যাতনের শিকার হওয়ার কথা জানান। নতুন এক বিশ্লেষণে এ তথ্য উঠে এসেছে। তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, প্রকৃত সংখ্যা আরও বেশি হতে পারে, কারণ অনেক নারী নির্যাতনের কথা প্রকাশ করেন না।

ইংল্যান্ডের ন্যাশনাল হেলথ সার্ভিস (এনএইচএস)-এর বিভিন্ন ট্রাস্টের মাতৃত্বকালীন সেবার তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, প্রায় ৩ দশমিক ৩ শতাংশ মাতৃত্বকালীন বুকিংয়ের ক্ষেত্রে নারী চলমান বা অতীতে ঘটে যাওয়া পারিবারিক নির্যাতনের কথা জানিয়েছেন। দেশজুড়ে এনএইচএসের মোট মাতৃত্বকালীন বুকিংয়ের ওপর এই হার প্রয়োগ করলে বছরে প্রায় ২০ হাজার নির্যাতনের ঘটনা প্রকাশ পাওয়ার হিসাব পাওয়া যায়।

বিজ্ঞাপন

এই বিশ্লেষণ করেছে ‘ফর বেবিজ সেক ট্রাস্ট’। সংস্থাটি ইংল্যান্ডের ১১৮টি এনএইচএস ট্রাস্টের কাছে তথ্য চেয়েছিল। এর মধ্যে ৭৪টি ট্রাস্ট ব্যবহারযোগ্য তথ্য দিয়েছে। হিসাবটি সর্বশেষ পাওয়া তথ্যের তিন বছরের গড়ের ওপর ভিত্তি করে করা হয়েছে।

রয়্যাল কলেজ অব মিডওয়াইভসের প্রধান নির্বাহী গিল ওয়ালটন বলেন, এই তথ্য মিডওয়াইফদের দৈনন্দিন কাজের বাস্তবতাকেই সামনে এনেছে। তার মতে, একজন গর্ভবতী নারী নিয়মিত এবং একান্তভাবে যে স্বাস্থ্যকর্মীর সঙ্গে দেখা করেন, অনেক সময় সেই ব্যক্তি হলেন মিডওয়াইফ। ফলে পারিবারিক নির্যাতনের লক্ষণ শনাক্ত করার ক্ষেত্রে মিডওয়াইফদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে।

তবে শুধু নির্যাতনের ঘটনা শনাক্ত করাই যথেষ্ট নয় বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। মিডওয়াইফদের এ ধরনের পরিস্থিতি মোকাবিলায় বিশেষ প্রশিক্ষণ, পর্যাপ্ত সময় ও প্রয়োজনীয় সহায়তা দরকার। ব্যস্ত মাতৃত্বকালীন ওয়ার্ডে কর্মীসংকট ও দীর্ঘ কর্মঘণ্টার কারণে অনেক মিডওয়াইফের ওপর ইতোমধ্যে বাড়তি চাপ রয়েছে।

উইমেনস এইডের অন্তর্বর্তীকালীন বহির্বিষয়ক প্রধান ভেরোনিকা ওকেশট বলেন, গর্ভবতী নারীদের কাছ থেকে পারিবারিক সহিংসতার তথ্য পাওয়ার পর কীভাবে পরবর্তী পদক্ষেপ নিতে হবে, সে বিষয়ে মাতৃত্বকালীন স্বাস্থ্যকর্মীদের আরও ভালো সহায়তা প্রয়োজন। তার মতে, ব্যস্ত ওয়ার্ডে কাজ করা কর্মীদের ওপর এরই মধ্যে অনেক চাপ রয়েছে। তাই এসব ঘটনা মোকাবিলায় তাদের পর্যাপ্ত প্রশিক্ষণ ও সহায়তা দেওয়া জরুরি।

ফর বেবিজ সেক ট্রাস্টের প্রধান পরিচালন কর্মকর্তা ও সুরক্ষা বিষয়ক দায়িত্বপ্রাপ্ত জুডিথ রিস বলেন, গর্ভাবস্থা ও সন্তান জন্মের পরের প্রথম সময়টি নির্যাতনের ঘটনায় হস্তক্ষেপের জন্য গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ তৈরি করে। তার মতে, মিডওয়াইফদের নির্যাতনের প্রভাব বুঝতে, ঝুঁকি শনাক্ত করতে, নিরাপদভাবে প্রতিক্রিয়া জানাতে এবং প্রয়োজনে বিশেষায়িত সহায়তা কোথায় পাওয়া যাবে তা জানতে হবে।

এনএইচএস ইংল্যান্ডের প্রধান মিডওয়াইফারি কর্মকর্তা কেট ব্রিন্টওর্থ বলেছেন, মাতৃত্ব ও নবজাতক সেবায় কর্মরত সবাই পারিবারিক নির্যাতনের কথা জানানো হলে সহানুভূতি ও সংবেদনশীলতার সঙ্গে বিষয়টি মোকাবিলা করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। তিনি জানান, মিডওয়াইফদের বাধ্যতামূলক সুরক্ষা প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়। পাশাপাশি নির্যাতন নিয়ে সংবেদনশীল প্রশ্ন করার বিষয়ে বিশেষ প্রশিক্ষণ এবং প্রয়োজন হলে বিশেষায়িত পারিবারিক নির্যাতন সেবায় নারীদের পাঠানোর ব্যবস্থাও রয়েছে।

গর্ভাবস্থায় স্বাস্থ্যসেবা নেওয়ার সময় পারিবারিক নির্যাতনের ঘটনা শনাক্ত করার একটি গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ তৈরি হয়। কিন্তু কোনো নারী নির্যাতনের কথা জানানোর পর কার্যকর সহায়তা নিশ্চিত করতে স্বাস্থ্যকর্মীদের প্রশিক্ষণ, সময় ও প্রয়োজনীয় সম্পদ থাকা জরুরি বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন