উত্তর কোরিয়া তার পূর্ব উপকূলের সাগর লক্ষ্য করে একাধিক ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়েছে। সোমবার এ তথ্য জানিয়েছে দক্ষিণ কোরিয়ার সামরিক বাহিনী। এর মধ্যে পিয়ংইয়ং এলাকা থেকে ছোড়া একটি ক্ষেপণাস্ত্র ৯০০ কিলোমিটারের বেশি পথ পাড়ি দিয়েছে বলে জানিয়েছেন দেশটির জয়েন্ট চিফস অব স্টাফ (জেসিএস)। তবে কতটি ক্ষেপণাস্ত্র শনাক্ত করা হয়েছে, তা জানানো হয়নি।
জাপানের কোস্ট গার্ডও সোমবার উত্তর কোরিয়ার দুটি অজ্ঞাত বস্তু ছোড়ার খবর জানিয়েছে। এগুলো ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র বলে ধারণা করা হচ্ছে। বস্তু দুটি ইতিমধ্যে সাগরে পড়েছে বলে মনে করছে জাপান কোস্ট গার্ড।
দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্টের কার্যালয় বলেছে, উত্তর কোরিয়ার বারবার ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপের ঘটনা জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের প্রস্তাব লঙ্ঘন করছে। এ ধরনের কর্মকাণ্ড অবিলম্বে বন্ধ করার আহ্বান জানিয়েছে সিউল।
কোরীয় উপদ্বীপে উত্তেজনা বৃদ্ধির মধ্যে উত্তর কোরিয়ার সর্বশেষ এই ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপের ঘটনা ঘটল। দুই দেশই সাম্প্রতিক সময়ে বিভিন্ন ধরনের অস্ত্রের পরীক্ষা চালাচ্ছে।
দক্ষিণ কোরিয়ার ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষার পর উত্তর কোরিয়ার পাল্টা পদক্ষেপ
দক্ষিণ কোরিয়ার জয়েন্ট চিফস অব স্টাফের মুখপাত্র জ্যাং দো-ইয়ং বলেছেন, দক্ষিণ কোরিয়ার হাইপারসনিক ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষার পর শক্তি প্রদর্শনের অংশ হিসেবে উত্তর কোরিয়া এই ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়েছে বলে মনে হচ্ছে।
গত বৃহস্পতিবার দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট লি জে মিয়ং দেশটির প্রথম হাইপারসনিক ক্ষেপণাস্ত্রের পরীক্ষামূলক উৎক্ষেপণ প্রত্যক্ষ করেন। দক্ষিণ কোরিয়ার কোনো প্রেসিডেন্টের এ ধরনের ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষার প্রকাশ্য প্রদর্শনীতে অংশ নেওয়ার ঘটনা বিরল।
লি জে মিয়ংয়ের কার্যালয় জানিয়েছে, হাইপারসনিক অস্ত্রটির পূর্ণাঙ্গ উন্নয়ন সম্পন্ন হলে কোরীয় উপদ্বীপের সামরিক অভিযানক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ লক্ষ্যবস্তুতে আকস্মিক হামলা চালানোর সক্ষমতা বাড়বে দক্ষিণ কোরিয়ার।
এর আগে গত ৩ অক্টোবর উত্তর কোরিয়াও একটি মধ্যপাল্লার হাইপারসনিক ক্ষেপণাস্ত্রের পরীক্ষা চালায়। দক্ষিণ কোরিয়া ও জাপানের ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষাব্যবস্থা ফাঁকি দেওয়ার জন্য ক্ষেপণাস্ত্রটি তৈরি করা হয়েছে।
সীমান্তে মাইন বিস্ফোরণেও উত্তেজনা
গত সপ্তাহে দুই কোরিয়ার মধ্যবর্তী অসামরিকীকরণ অঞ্চলে (ডিমিলিটারাইজড জোন) মাইন বিস্ফোরণে দক্ষিণ কোরিয়ার তিন সেনাসদস্য আহত হন। এ ঘটনার পর উত্তর কোরিয়ার কাছে ক্ষমা চাওয়ার দাবি জানায় সিউল।
দক্ষিণ কোরিয়া ও জাতিসংঘের যৌথ তদন্তে বলা হয়েছে, প্রায় এক বছর আগে উত্তর কোরিয়ার সেনারা সেখানে দুটি মাইন পুঁতেছিল। তবে পিয়ংইয়ং এ অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছে। উল্টো দক্ষিণ কোরিয়ার বিরুদ্ধে উসকানি দেওয়ার অভিযোগ তুলেছে দেশটি।
সীমান্তে মাইন বিস্ফোরণের আগে উত্তর কোরিয়া ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে সংলাপের পথ তৈরি করতে ‘প্রাথমিক সমন্বয় প্রচেষ্টা’ চালানোর কথা জানিয়েছিল সিউল।
২০২৫ সালে দায়িত্ব নেওয়ার পর প্রথম ভাষণেই উত্তর কোরিয়ার সঙ্গে সংলাপ পুনরায় শুরুর প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট লি জে মিয়ং।
পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে অনড় কিম
উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং উন তার দেশের পারমাণবিক অস্ত্র কর্মসূচির সক্ষমতা তুলে ধরার প্রচেষ্টা অব্যাহত রেখেছেন। একই সঙ্গে স্থগিত কূটনৈতিক আলোচনা পুনরায় শুরুর বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও দক্ষিণ কোরিয়ার প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করে চলেছেন তিনি।
২০১৯ সালে কিম জং উন ও যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের মধ্যে আলোচনা আকস্মিকভাবে শেষ হয়ে যায়। এরপর থেকে দুই দেশের মধ্যে কূটনৈতিক অচলাবস্থা কাটেনি।
কিমের সরকার এখনো পিয়ংইয়ংয়ের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের ‘শত্রুতামূলক’ নীতি পরিত্যাগ করার দাবি জানিয়ে আসছে। পাশাপাশি আলোচনার শর্ত হিসেবে উত্তর কোরিয়ার পারমাণবিক নিরস্ত্রীকরণের দাবি বাদ দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে দেশটি।
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

