ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে জয়ী হয়ে চতুর্থবারের মতো, তবে বিরতি দিয়ে, ক্ষমতায় ফিরছেন লুইজ ইনাসিও লুলা দা সিলভা। দ্বিতীয় দফার ভোটে উগ্রডানপন্থি সিনেটর ফ্লাভিও বলসোনারোকে হারিয়েছেন তিনি। লুলার জয়ে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের নেতা ও রাজনীতিকেরা অভিনন্দন জানিয়েছেন। অন্যদিকে ভোটের সময় দুই ঘণ্টা বাড়ানোর সিদ্ধান্তকে ‘অগ্রহণযোগ্য’ আখ্যা দিয়ে নির্বাচন বাতিলের দাবি তুলেছেন বলসোনারো।
রোববারের নির্বাচনের ফল ঘোষণার পর বিশ্বজুড়ে প্রতিক্রিয়া দেখা যায়। বিশেষ করে বামপন্থি রাজনীতিকেরা লুলার বিজয়কে স্বাগত জানিয়েছেন। কেউ গণতন্ত্রের বিজয় হিসেবে এ ফলকে বর্ণনা করেছেন, কেউ আবার ব্রাজিলের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক আরো জোরদারের প্রত্যাশা জানিয়েছেন।
মেক্সিকোর প্রেসিডেন্ট ক্লদিয়া শেনবাউম
মেক্সিকোর প্রেসিডেন্ট ক্লদিয়া শেনবাউম সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে লুলাকে অভিনন্দন জানান। তিনি লেখেন, ‘গণতন্ত্র দীর্ঘজীবী হোক, ব্রাজিলের জনগণ জয়ী হয়েছেন।’
কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নি
কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নি অভিনন্দনবার্তায় কানাডা ও ব্রাজিলের সম্পর্ক এগিয়ে নেওয়ার ক্ষেত্রে লুলার ভূমিকার প্রশংসা করেন। তিনি বলেন, দুই দেশের সম্পর্ক আরো জোরদার করার সুযোগ কাজে লাগানো উচিত। এর মাধ্যমে নতুন বাণিজ্যিক সম্ভাবনা তৈরি, পরিবেশ সুরক্ষা এবং দুই দেশের মানুষের সমৃদ্ধি নিশ্চিত করা সম্ভব হবে।
যুক্তরাষ্ট্রের রাজনীতিকদের প্রতিক্রিয়া
যুক্তরাষ্ট্রে লুলার জয়ে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জুনিয়র নির্বাচনের ফলের সমালোচনা করেছেন। ব্রাজিলের সুপ্রিম কোর্ট ভোট গ্রহণের সময় দুই ঘণ্টা বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নেওয়ায় তিনি প্রশ্ন তোলেন।
ট্রাম্প জুনিয়র বলেন, ব্রাজিলে কোনো রক্ষণশীল সরকার এমন সিদ্ধান্ত নিলে যুক্তরাষ্ট্রের মূলধারার সংবাদমাধ্যমগুলো ব্যাপক প্রতিক্রিয়া দেখাত।
তার অভিযোগ, এবার বিষয়টি নিয়ে সংবাদমাধ্যমগুলো নীরব রয়েছে।
অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রগতিশীল সিনেটর বার্নি স্যান্ডার্স লুলার ‘অসাধারণ পুনর্নির্বাচনী বিজয়কে’ অভিনন্দন জানিয়েছেন। তিনি বলেন, লুলা শ্রমজীবী মানুষ ও গণতন্ত্রের পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন। আগামী চার বছরের মেয়াদেও তিনি এ ভূমিকা পালন করবেন বলে আশা প্রকাশ করেন স্যান্ডার্স।
কংগ্রেস সদস্য রো খান্না এক্সে দেওয়া পোস্টে বলেন, বিশ্বজুড়ে মানুষ উগ্রবাদের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তুলছে। ব্রাজিলে লুলার জয় সেই লড়াইয়েরই অংশ।
তার ভাষায়, কর্তৃত্ববাদী নেতারা সব সময় গণতন্ত্রের ওপর আঘাত করেন, কারণ তারা জনগণের ইচ্ছার কাছে টিকতে পারেন না।
খান্না আরো বলেন, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের উচিত নির্বাচনের ফল মেনে নেওয়া এবং ব্রাজিলের নির্বাচনকে দুর্বল করার চেষ্টা না করা।
ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসমের প্রেস দপ্তর থেকেও বিবৃতি দেওয়া হয়েছে। এতে বলা হয়, গণতন্ত্র রক্ষা, পরিবেশ সুরক্ষা, শ্রমিকদের অধিকার শক্তিশালী করা এবং শ্রমজীবী পরিবারের উপযোগী অর্থনীতি গড়ার বিষয়ে ব্রাজিল ও বিশ্বের অন্যান্য অংশীদারের পাশে থাকতে পেরে নিউসম গর্বিত।
কিউবার প্রেসিডেন্ট মিগুয়েল দিয়াজ-কানেল
কিউবার প্রেসিডেন্ট মিগুয়েল দিয়াজ-কানেল লুলার বিজয়কে ‘ঐতিহাসিক’ বলে উল্লেখ করেছেন। তিনি বলেন, এ জয়ের মধ্য দিয়ে ব্রাজিলের জনগণের শান্তি, সার্বভৌমত্ব ও সামাজিক ন্যায়বিচারের পথে এগিয়ে চলা অব্যাহত থাকবে।
এক্সে দেওয়া পোস্টে দিয়াস-কানেল আরো লেখেন, লাতিন আমেরিকা ও ক্যারিবীয় অঞ্চলের দেশগুলোর ঐক্য ও সংহতি গড়ে তোলার ক্ষেত্রে ব্রাজিল কিউবাকে পাশে পাবে।
চিলির প্রেসিডেন্ট হোসে অ্যান্তোনিও কাস্ত
চিলির প্রেসিডেন্ট হোসে অ্যান্তোনিও কাস্ত এক্সে জানান, তিনি ফোনে লুলাকে অভিনন্দন জানিয়েছেন।
কাস্ত বলেন, চিলি ও ব্রাজিলের সামনে একসঙ্গে এগিয়ে যাওয়ার অনেক সুযোগ রয়েছে। অর্থনৈতিক সংহতি জোরদার এবং অঞ্চলে সংগঠিত অপরাধ দমনে দুই দেশ কাজ চালিয়ে যাবে বলেও তিনি জানান।
বলিভিয়া ও পানামার অভিনন্দন
বলিভিয়ার প্রেসিডেন্ট রদ্রিগো পাজ বলেন, বলিভিয়া ও ব্রাজিল প্রতিবেশী ও ভ্রাতৃপ্রতিম দেশ। অভিন্ন ইতিহাস ও একই ধরনের চ্যালেঞ্জ দুই দেশকে একসূত্রে বেঁধেছে। সম্পর্ক আরো জোরদার এবং দুই দেশের মানুষের জন্য নতুন সুযোগ তৈরিতে একসঙ্গে কাজ করার প্রত্যয় জানান তিনি।
পানামার প্রেসিডেন্ট হোসে রাউল মুলিনো ব্রাজিলের জনগণকে গণতান্ত্রিক নির্বাচনের জন্য অভিনন্দন জানান। একই সঙ্গে লুলার বিজয়কে স্বাগত জানিয়ে তিনি বলেন, দুই দেশের স্বার্থে একসঙ্গে কাজ চালিয়ে যাবেন তারা।
এএম
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

