যুক্তরাষ্ট্র-পাকিস্তানের মধ্যে সত্যিকারের বন্ধুত্ব গড়ে উঠছে

কূটনৈতিক রিপোর্টার

যুক্তরাষ্ট্র-পাকিস্তানের মধ্যে সত্যিকারের বন্ধুত্ব গড়ে উঠছে

মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ চলমান ইরান-যুক্তরাষ্ট্র শান্তি আলোচনায় পাকিস্তানের কূটনৈতিক প্রচেষ্টার প্রশংসা করে বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র ও পাকিস্তানের মধ্যে প্রকৃত বন্ধুত্ব গড়ে উঠছে। তিনি বলেন, ওয়াশিংটন ও তেহরানকে আলোচনার টেবিলে ফিরিয়ে আনার প্রচেষ্টায় প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ এবং প্রতিরক্ষা বাহিনীর প্রধান ফিল্ড মার্শাল সৈয়দ আসিম মুনির অসাধারণ ভূমিকা পালন করছেন।

গত শনিবার সিঙ্গাপুরে এশিয়ার অন্যতম শীর্ষ নিরাপত্তা সংলাপ ‘শাংরি-লা ডায়ালগ’-এ বক্তব্য দেওয়ার পর প্রশ্নোত্তর পর্বে হেগসেথ এ মন্তব্য করেন। তিনি বলেন, পাকিস্তান যুক্তরাষ্ট্রের আন্তরিক ও প্রকৃত বন্ধু। এ মুহূর্তে ওয়াশিংটন ও ইসলামাবাদের মধ্যে ‘অপ্রত্যাশিত অগ্রগতি এবং প্রকৃত বন্ধুত্ব’ গড়ে উঠেছে।

বিজ্ঞাপন

গত ৮ এপ্রিল ইরান-যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধবিরতির ফলস্বরূপ চলমান শান্তি আলোচনায় পাকিস্তান ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে আনুষ্ঠানিক মধ্যস্থতাকারী হিসেবে কাজ করছে। এ আলোচনায় মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং তার শীর্ষ কর্মকর্তারা বেশ কয়েকবার ইসলামাবাদের ভূমিকার প্রশংসা করেছেন।

সিঙ্গাপুরে তিন দিনব্যাপী শাংরি-লা সংলাপে হেগসেথকে মার্কিন জাতীয় গোয়েন্দা সংস্থার সাবেক পরিচালক তুলসি গ্যাবার্ডের মন্তব্য সম্পর্কে প্রশ্ন করা হয়েছিল, যেখানে তিনি পাকিস্তানের ভবিষ্যৎ ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতাকে যুক্তরাষ্ট্রের জন্য সম্ভাব্য হুমকি হিসেবে উল্লেখ করেন। এছাড়া ভারতের অগ্নি-৬ ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচিও একই ধরনের হুমকি সৃষ্টি করে কি না, সে বিষয়েও প্রশ্ন করা হয়।

হেগসেথ তার ভাষণে ইন্দো-প্যাসিফিক ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশগুলোর পাশাপাশি ভারতের সঙ্গে মার্কিন প্রতিরক্ষা সহযোগিতার প্রশংসা করার পর এ প্রশ্ন করা হয়। প্রশ্নের উত্তরে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ এবং চিফ অব ডিফেন্স ফোর্সেস ও চিফ অব দ্য আর্মি স্টাফ ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনিরের প্রশংসা করে হেগসেথ বলেন, আমি এখানে ভারতের কথা উল্লেখ করেছি, কিন্তু আমি খুব সহজেই পাকিস্তান এবং শান্তি আলোচনায় ফিল্ড মার্শাল ও প্রধানমন্ত্রীর ভূমিকার কথা উল্লেখ করতে পারতাম। আমি মনে করি, সেখানে একটি অপ্রত্যাশিত অগ্রগতি এবং সত্যিকারের বন্ধুত্ব গড়ে উঠছে, যা আমার কাছে গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে হয়।

তিনি মনে করিয়ে দেন, গত বছর ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে সামরিক উত্তেজনা চরম আকার ধারণ করলে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের মধ্যস্থতায় দুই প্রতিবেশী দেশের মধ্যে শান্তি ফিরে এসেছিল। বর্তমানের এ নতুন সমীকরণ সে মজবুত সম্পর্কেরই প্রতিফলন।

ভারত ও পাকিস্তান উভয়ই পারমাণবিক শক্তিধর দেশ উল্লেখ করে হেগসেথ বলেন, আমি মনে করি, উভয়পক্ষই একে অপরের কাছ থেকে আসা হুমকি দেখতে পাবে, যার মধ্যে কিছু হয়তো আমরা ভিন্নভাবে দেখব। তিনি বলেন, দুদেশকে আমেরিকা কোনো হুমকি হিসেবে দেখে না। ভারত-পাকিস্তান উভয়ই তাদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বিগ্ন। ফলে তারা কৌশলগত প্রতিরোধ সক্ষমতা গড়ে তোলা অব্যাহত রাখবে। আমরা এ মুহূর্তে কোনো দেশের দিকেই আঙুল তুলছি না এবং আমাদের জন্য হুমকি বলে তাদের আখ্যা দিচ্ছি না।

হেগসেথ বলেন, ২০২৫ সালের মে মাসের সংঘাতের সময় পাকিস্তান ও ভারতের মধ্যে যুদ্ধবিরতিতে মধ্যস্থতা করেছিলেন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প। এ বিষয়টি ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি অস্বীকার করেন, যা প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পকে ক্ষুব্ধ করেছে।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট একাধিকবার প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ এবং চিফ অব ডিফেন্স ফোর্সেস ও চিফ অব দ্য আর্মি স্টাফ ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনিরের প্রশংসা করেছেন। গত এপ্রিলে প্রধানমন্ত্রীকে মহান এবং সেনাপ্রধানকে চমৎকার বলে অভিহিত করেছেন তিনি। ফেব্রুয়ারিতে, মার্কিন নেতৃত্বাধীন ‘বোর্ড অব পিস’-এর উদ্বোধনী সভায় প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প শাহবাজ শরিফের প্রশংসা করার পাশাপাশি ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনিরকে একজন কঠোর মানুষ ও দুর্দান্ত যোদ্ধা হিসেবে বর্ণনা করেন। মার্কিন প্রেসিডেন্ট সেনাপ্রধানকে ‘আমার প্রিয় ফিল্ড মার্শাল’ বলেও উল্লেখ করেন।

গত বছরের নভেম্বরে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও বলেন, যুক্তরাষ্ট্র পাকিস্তানের সঙ্গে তার কৌশলগত সম্পর্ক সম্প্রসারণের একটি সুযোগ দেখছে এবং দুদেশের মধ্যে সাম্প্রতিক সম্পর্ক জোরদার হওয়ার বিষয়টি নয়াদিল্লির সঙ্গে ওয়াশিংটনের সম্পর্কের অবনতি ঘটিয়ে হয়নি।

মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত প্রসঙ্গে মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী বলেন, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প স্পষ্ট করে দিয়েছেন, কোনো অবস্থাতেই ইরানকে পারমাণবিক অস্ত্র রাখার অনুমতি দেওয়া যাবে না। ইরান বিষয়ে আমাদের লক্ষ্যের কোনো পরিবর্তন হয়নি। তিনি বলেন, একটি চুক্তিতে পৌঁছানোর জন্য কী করতে হবে, তা ইরান জানে এবং তেহরানের সঙ্গে যেকোনো চুক্তিকে অবশ্যই একটি ভালো চুক্তি হতে হবে, যা আমেরিকার স্বার্থ রক্ষা করবে। হেগসেথ বলেন, কূটনীতি ব্যর্থ হলে যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধের জন্য পুরোপুরি প্রস্তুত।

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

সর্বশেষ

এলাকার খবর
Loading...