লন্ডনে মুসলিমবিদ্বেষী ও উগ্র ডানপন্থিদের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ মিছিল করেছে দেশটির হাজারো মানুষ। শনিবার সেন্ট্রাল লন্ডনের পার্ক লেন থেকে শুরু হয় এই বিক্ষোভ সমাবেশ। এর আগে পার্লামেন্ট ভবনের কাছে হোয়াইট হলে জড়ো হন তারা। ‘টুগেদার অ্যালায়েন্স’ নামের একটি সংগঠনের ডাকে চরম ডানপন্থি রাজনীতির বিরুদ্ধে ঐক্য প্রদর্শনে ট্রেড ইউনিয়ন, বর্ণবাদবিরোধী প্রচারক এবং মুসলিম প্রতিনিধি সংস্থাসহ প্রায় ৫০০ গোষ্ঠীর লাখো মানুষ এতে অংশ নেন। ব্রিটেনের ইতিহাসে এটিই বৃহত্তম বহুসাংস্কৃতিক সমাবেশ।
এই সমাবেশে অংশ নিতে প্রায় ৫ লাখ মানুষ শহরে এসেছিলেন। তবে লন্ডন মেট্রোপলিটন পুলিশের দাবি, অংশগ্রহণকারীর সংখ্যা ৫০ হাজারের কাছাকাছি। যদিও তারা বলেছেন, অতিরিক্ত জনসমাগমের কারণে অংশগ্রহণকারীর সঠিক সংখ্যা নিরূপণ করতে পারেননি তারা।
টুগেদার অ্যালায়েন্সের চেয়ারম্যান কেভিন কোর্টনি বলেন, এই মিছিল সবাইকে মুসলিমবিদ্বেষী ও উগ্র ডানপন্থিদের বিরুদ্ধে এগিয়ে যাওয়ার আত্মবিশ্বাস জোগায়।
ট্রেড ইউনিয়নকর্মী আদম মুস আলজাজিরাকে বলেছেন, এ দেশে বর্ণবাদ ও ইসলামোফোবিয়া প্রান্তিক পর্যায় থেকে মূলধারার রাজনীতিতে চলে এসেছে এবং সংসদ সদস্যরাই এর পেছনে ইন্ধন জোগাচ্ছেন।
এদিকে এই বিক্ষোভের বিপরীতে ইসরাইলি পতাকা এবং ইরানের ১৯৭৯-পূর্ববর্তী রাজতান্ত্রিক পতাকা হাতে নিয়ে পাল্টা একটি সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।
এই প্রতিবাদ ছিল গত বছরের সেপ্টেম্বরে টমি রবিনসনের ‘ইউনাইট দ্য কিংডম’ সমাবেশের প্রতিক্রিয়ার অংশ, যেখানে ১ লাখ ১০ হাজার মানুষ সেন্ট্রাল লন্ডনে মিছিল করেছিল।
বিক্ষোভকারী, কর্মী ও লেখক হামজা আহসান বলেন, রবিনসনের সেই সমাবেশ সহিংসতায় পূর্ণ ছিল, যেখানে বেশ কয়েকজন পুলিশ কর্মকর্তা আহত হয়েছিলেন। রবিনসন আগামী মে মাসে আরেকটি মিছিলের আয়োজন করতে যাচ্ছেন।
আহসান বলেন, শনিবারের পরিবেশটি ছিল নটিং হিল কার্নিভালের মতো। কারণ এতে অংশ নেয় অবসরপ্রাপ্ত ব্যক্তি থেকে শুরু করে শিশু পর্যন্ত।
সমাবেশে যোগ দেন বেশ কয়েকজন বামপন্থি রাজনীতিবিদ, স্বতন্ত্র এমপি জেরেমি করবিন, গ্রিন পার্টির নেতা জ্যাক পোলানস্কি, ডায়ান অ্যাবট এবং গ্রেটার ম্যানচেস্টারের মেয়র অ্যান্ডি বার্নহ্যাম।
এদিকে, নিউ স্কটল্যান্ড ইয়ার্ডের বাইরে প্যালেস্টাইন অ্যাকশনের সমর্থনে বিক্ষোভ করার সময় ১৮ জনকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন


ইসরাইলের পার্লামেন্টে বাজেট পাস, সামরিক খাতে বরাদ্দ কত বাড়ল
ইরানের জ্বালানি তেল ও খারগ দ্বীপের নিয়ন্ত্রণ চায় ট্রাম্প