ইসরাইল ফিলিস্তিনের গাজা ভূখণ্ডে শুধুমাত্র বোমা হামলাই চালাচ্ছে না, অবরুদ্ধ করেছে ত্রাণ সহায়তা কার্যক্রমও। ফলে প্রাণে বেঁচে যাওয়া সাধারণ ফিলিস্তিনিরা পড়েন চরম খাদ্য সংকটে। এ অবস্থায় ২৬ মে থেকে আমেরিকা ও ইসরাইল সমর্থিত গাজা হিউম্যানিটেরিয়ান ফাউন্ডেশন (জিএইচএফ) ত্রাণ বিতরণ কার্যক্রম শুরু করে। কিন্তু সেই ত্রাণ সংগ্রহ করতে গিয়ে প্রতিদিনই প্রাণ হারাচ্ছে নিরীহ ও ক্ষুধার্ত মানুষ। গত এক মাসে ত্রাণ নিতে গিয়ে প্রাণ হারিয়েছেন ৫৮৩ ফিলিস্তিনি। আহত হয়েছেন চার হাজারেরও বেশি মানুষ। দুর্ভিক্ষের শিকার মানুষগুলো তারপরও প্রতিদিনই যাচ্ছে ‘মৃত্যুফাঁদ’ নামে পরিচিত সেই ত্রাণকেন্দ্রে। আর হতাহতের এই ঘটনাগুলো ঘটছে ত্রাণকেন্দ্রে বা তার কাছাকাছি স্থানে। আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলো কয়েক সপ্তাহ ধরে সতর্ক করে আসছে যে, গাজার ২১ লাখ বাসিন্দা ভয়াবহ খাদ্য সংকটের মুখোমুখি হচ্ছে। কারণ, এ অঞ্চলে খাবার, বিশুদ্ধ পানিসহ প্রয়োজনীয় সামগ্রীর সরবরাহ নেই বললেই চলে।
জিএইচএফের কার্যক্রম শুরুর প্রথম আট দিনে ইসরাইলের গুলিতে প্রাণ হারিয়েছে ত্রাণ সংগ্রহ করতে আসা ১০০ জনেরও বেশি ফিলিস্তিনি।
গাজা শহর থেকে আলজাজিরার প্রতিনিধি হানি মাহমুদ জানান, বর্তমানে এ উপত্যকায় খাদ্যের একমাত্র উৎস জিএইজএফ। কারণ, অন্য কোনো ত্রাণ সংস্থাকে এখানে প্রবেশের ওপর কঠোর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে ইসরাইল।
মাহমুদ আরো বলেন, খাদ্য জরুরি হলেও ‘মৃত্যুফাঁদ’ নামে পরিচিত এই কেন্দ্র থেকে অনেকটাই দূরে থাকছেন ফিলিস্তিনিরা। কারণ এখানে খাবার নিতে আসা মানুষদের ওপর ইচ্ছাকৃতভাবে গুলি চালাচ্ছে ইসরাইল। তবে খাবার সংগ্রহ করতে না আসাও কোনো সমাধান নয়; কারণ খাবার না নিলে শিশুদের ক্ষুধার্ত অবস্থায় ঘুমাতে হবে।
গাজায় ইসরাইলি আগ্রাসন শুরুর পর থেকে সেখানে প্রায় ৪০০ কেন্দ্র পরিচালনা করছে জাতিসংঘের নেতৃত্বাধীন সংস্থা। কিন্তু জিএইচএফ কাজ শুরুর পর সেখানে সশস্ত্র বেসরকারি নিরাপত্তা বাহিনী নিয়োগ দেয় ইসরাইল। মাত্র চারটি মেগাসাইট স্থাপন করেছে, দক্ষিণে তিনটি এবং মধ্য গাজায় একটি-এই চারটি মেগাসাইট স্থাপন করে সেখান থেকে খাদ্য বিতরণ করছে তারা। উত্তরে কোনো কেন্দ্র না থাকায় যেখানে পরিস্থিতি সবচেয়ে গুরুতর। আর এ তিন কেন্দ্র একেবারেই অনিয়মিতভাবে কাজ করে। কখনো কখনো তারা মাত্র এক ঘণ্টার জন্য কেন্দ্র খোলা রাখে। তারপরই বন্ধ করে দেয় তাদের কার্যক্রম। অনেকটা আগে আসলে আগে পাবেন--এই ভিত্তিতে কাজ চলায় কেন্দ্রগুলোতে শুরুর দিন থেকেই চরম বিশৃঙ্খলা দেখা দিয়েছে। তার ওপর খাবারও অপ্রতুল। ফলে এই কেন্দ্রগুলোতে প্রবেশ করা বেশ বিপজ্জনক। ফিলিস্তিনিদের মাঝে মাঝে সক্রিয় যুদ্ধক্ষেত্রের মধ্য দিয়ে কয়েক কিলোমিটার হেঁটে যেতে হয়, পার করতে হয় বায়োমেট্রিক চেক পয়েন্ট। খাবার মিললেও তা কষ্ট করে বহন করে আনতে হয়। এই ব্যবস্থায় সবচেয়ে ঝুঁকির মধ্যে থাকতে হয় বয়স্ক, আহত ও প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের।
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

