অবরুদ্ধ ফিলিস্তিনি ভূখণ্ড গাজার উত্তরাঞ্চলে ফিরছেন স্থানীয়রা। সোমবার সকালে ইসরাইলি বাহিনী উপত্যকাটিকে বিভক্ত করা কথিত নেতজারিম করিডোর খুলে দেওয়ার পর আগ্রাসনে উদ্বাস্তু হওয়া উত্তর গাজাবাসী তাদের আবাসে ফিরতে শুরু করেন।
উত্তর গাজায় ফেরার সুযোগ হওয়ায় দিনটিকে নিজেদের ‘বিজয় দিবস’ হিসেবে মনে করছেন গাজাবাসী।
সোমবার স্থানীয় সময় সকাল ৭টা থেকে গাজাবাসী আল-রশিদ সড়ক দিয়ে পায়ে হেঁটে উত্তর গাজা অভিমুখে চলাচল শুরু করে। সকাল ৯টায় যানবাহনে করে সালাহউদ্দিন সড়ক দিয়ে উত্তর গাজা অভিমুখে চলাচল শুরু হয়।
এদিকে নেতজারিম করিডোর থেকেও সেনা প্রত্যাহার শুরু করেছে ইসরাইল। ইসরাইলি টিভি চ্যানেল থারটিনে প্রচারিত এক ফুটেজে দেখা যায়, ইসরাইলি সেনারা স্থানটি খালি করে চলে যেতে শুরু করেছে। তবে গাজার সাংবাদিকরা জানাচ্ছেন, ইসরাইলি বাহিনী এখনো এই স্থানের ওপর শক্ত নিয়ন্ত্রণ রেখেছে।
এর আগে শনিবার চার ইসরাইলি নারী সেনাকে মুক্তির পর নেতানিয়াহুর দপ্তর থেকে জানানো হয়, শর্ত অনুযায়ী গাজায় আটক থাকা বেসামরিক ইসরাইলি নারী আরবেল ইয়েহুদকে মুক্তি দেওয়া হয়নি। যতক্ষণ তাকে মুক্তি দেওয়া না হবে, ততক্ষণ উত্তর গাজায় স্থানীয়দের ফেরার সুযোগ দেওয়া হবে না।
এর জেরে ইসরাইলি বাহিনী উত্তর গাজায় স্থানীয়দের ফেরার পথ বন্ধ করে দেয়। রোববার নেতজারিম করিডোরের কাছে আসা ফিলিস্তিনিদের লক্ষ্য করে গুলি ছোড়ে ইসরাইলি সেনারা। এতে দুজন নিহত হন।
রোববার কাতারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র মাজিদ আল-আনসারি এক বিবৃতিতে বলেন, আগামী শুক্রবার আরাবেল ইয়েহুদসহ তিন জিম্মিকে মুক্তি দেবে হামাস। পরদিন শনিবার আরও তিনজনকে মুক্তি দেওয়া হবে।
এর পরিপ্রেক্ষিতে সোমবার সকাল থেকে ইসরাইলিরা নেতজারিম করিডোর খুলে দেবে বলে বিবৃতিতে জানানো হয়।
এদিকে হামাসের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, চাহিদামাফিক তথ্য রোববার সন্ধ্যায় মধ্যস্থতাকারীদের কাছে পৌঁছে দিয়েছে তারা। প্রথম ধাপে যেসব জিম্মি মুক্তি পাবেন তাদের তথ্য এর মধ্যে রয়েছে।
এদিকে ১৫ মাস আগ্রাসনের জেরে উদ্বাস্তু হওয়া গাজাবাসী নিজেদের আবাসে ফিরতে পেরে উল্লাস করছেন। আলজাজিরাকে ফিরে আসা এক উদ্বাস্তু বাসিন্দা বলেন, ‘আমার বাড়ির প্রতিটি দেয়ালের প্রতিটি ইট আবার গড়ে তুলব। প্রথমেই ধ্বংসস্তূপ পরিষ্কার করব এবং এরপর পুনর্নির্মাণ শুরু করব।’
আলজাজিরার প্রতিনিধি জানান, নিজ ঘরে ফিরতে পেরে আনন্দিত ও উত্তেজিত গাজাবাসী। গত ১৫ মাসে তাদের এতটা খুশি দেখা যায়নি।
তিনি বলেন, ‘একে ঐতিহাসিক মুহূর্ত বলছেন স্থানীয়রা। তারা বলছেন যুদ্ধবিরতির মতোই এটি গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্ত। তাদের জন্য এটি এক বিজয়ের দিন।’
উত্তর গাজার বাসিন্দাদের নিজেদের বাসভূমিতে ফেরার সুযোগকে ‘বিজয়’ হিসেবে মন্তব্য করেছে ফিলিস্তিনি স্বাধীনতাকামী সংগঠন হামাস। সোমবার সংগঠনটির এক বিবৃতিতে বলা হয়, ফিলিস্তিনিদের নিজেদের ঘরে ফিরে যাওয়ার মাধ্যমে গাজার ভূমির প্রতি তাদের সংযোগ প্রমাণিত হয়েছে। একই সঙ্গে গাজার বাসিন্দাদের উচ্ছেদে ও তাদের মনোবল ভেঙে দিতে ইসরাইলিদের আগ্রাসী লক্ষ্য ব্যর্থ হয়েছে।
অপর স্বাধীনতাকামী সংগঠন ইসলামিক জিহাদ তাদের বিবৃতিতে বলেছে, এর মাধ্যমে গাজাবাসী উচ্ছেদের স্বপ্নে বিভোরদের কঠিন জবাব দেওয়া হয়েছে।
যুদ্ধের শুরুতে উত্তর গাজা থেকে অন্তত ১১ লাখ বাসিন্দাকে উচ্ছেদ করেছিল ইসরাইলি বাহিনী।
উত্তর গাজায় স্থানীয়দের ফেরা শুরু হওয়ায় ক্ষোভ জানিয়েছেন ইসরাইলি উগ্র রক্ষণশীল রাজনীতিবিদ ও সাবেক নিরাপত্তা মন্ত্রী ইতামার বেন-গভির।
সোমবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে তিনি বলেন, নেতজারিম করিডোর খুলে হাজার হাজার গাজাবাসীকে উত্তর গাজায় ফিরে যাওয়ার সুযোগকে হামাসের বিজয় হিসেবে দেখা হচ্ছে এবং অপরিণামদর্শী চুক্তির লজ্জাজনক অংশ। এটি ইসরাইলের জয় নয়, বরং সম্পূর্ণ আত্মসমর্পণ।
তিনি বলেন, ইসরাইলি সেনারা এর জন্য গাজায় যুদ্ধ করে তাদের জীবন দেয়নি। সরকারের উচিত যুদ্ধে ফেরা ও সব ধ্বংস করা।
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

