‘রাজনৈতিক স্বার্থে ফ্লাইদুবাইয়ের ঘটনায় ইরানকে যুক্ত করছেন নেতানিয়াহু’

‘রাজনৈতিক স্বার্থে ফ্লাইদুবাইয়ের ঘটনায় ইরানকে যুক্ত করছেন নেতানিয়াহু’
ছবি: সংগৃহীত

ইসরাইলি সরকার রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে ফ্লাইদুবাইয়ের ঘটনাকে ব্যবহার করছে এবং ফ্লাইদুবাইয়ের ইসরাইলগামী ফ্লাইট পুনরায় চালুর বিষয়টি বিলম্বিত করছে। সংযুক্ত আরব আমিরাত সরকারের ঘনিষ্ঠ একটি সূত্রের বরাত দিয়ে একথা জানিয়েছে ইসরাইলি সংবাদমাধ্যম ওয়াইনেট।

শনিবার দুবাইয়ে আটকে পড়া ইসরাইলি যাত্রীদের একটি ‘আর্কিয়া’ উড়োজাহাজে করে ইসরাইলে ফিরিয়ে নেওয়া হয়। এদিকে আরও একটি ‘ইসরায়ার’ উড়োজাহাজ পাঠানোর কথা রয়েছে। তবে ফ্লাইদুবাই জানিয়েছে, পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত ইসরাইলের সঙ্গে তাদের সব ফ্লাইট স্থগিত থাকবে।

বিজ্ঞাপন

ওয়াইনেটের প্রতিবেদনে বলা হয়, যাত্রীদের সঙ্গে তাদের লাগেজ পরিবহনের জন্যও একটি কার্গো বিমান পাঠানোর দাবি ছিল আমিরাতের অন্যতম শর্ত।

আমিরাত সরকারের ঘনিষ্ঠ ওই সূত্র বলেন, ইসরাইল ‘উদ্ধারকারী ফ্লাইট’ নিয়ে এমনভাবে কথা বলছে, যেন দেশেতে যুদ্ধ চলছে। অথচ কোনো যুদ্ধ নেই।

ওই সূত্র আরও দাবি করেন, আমিরাতের কর্মকর্তাদের মধ্যে এমন ধারণা তৈরি হয়েছে যে, ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু আসন্ন নির্বাচনের আগে রাজনৈতিক স্বার্থে বুধবারের ঘটনাটিকে ইরানের সঙ্গে যুক্ত করার চেষ্টা করছেন।

তিনি বলেন, ‘আমিরাতে এমন অনুভূতি রয়েছে যে, পুরো বিষয়টি দীর্ঘায়িত করা হচ্ছে, কারণ এতে ইসরাইলের রাজনৈতিকভাবে লাভ হচ্ছে।’

ইসরাইলের আচরণের তুলনা করে তিনি বলেন, ‘এটা এমন একজন অগ্নিসংযোগকারীর মতো, যে আগুন লাগিয়ে আবার আগুন নেভাতে ছুটে আসে।’

নেতানিয়াহু এর আগে দাবি করেছিলেন, ‘১১ সেপ্টেম্বরের মতো মাত্রার একটি বিপর্যয়’ ঠেকানো হয়েছে। তার ভাষ্য অনুযায়ী, হামলাকারী ‘ইসলামপন্থি উগ্রবাদে প্রভাবিত হয়েছিল এবং যাত্রীসহ উড়োজাহাজটি বিধ্বস্ত করার উদ্দেশ্যে সেটিকে ক্র্যাশ করাতে চেয়েছিল।’

আমিরাতের ওই সূত্র বলেন, ‘ফ্লাইট বন্ধ করে রেখেছে ইসরাইলই। যাত্রীরা যদি আর্কিয়ার ফ্লাইটে উঠতে পারেন, তাহলে ফ্লাইদুবাইতে কেন পারবেন না?’

ইসরাইলের পক্ষ থেকে ‘উদ্ধারকারী ফ্লাইট’ শব্দটি ব্যবহারের সমালোচনা করে তিনি বলেন, এর ফলে এমন ধারণা তৈরি হচ্ছে যে, সংযুক্ত আরব আমিরাত কোনো যুদ্ধ বা জরুরি পরিস্থিতির মুখোমুখি হয়েছে।

তিনি প্রশ্ন করেন, ‘কিসের কাছ থেকে উদ্ধার? কার কাছ থেকে? কোথা থেকে?’

সূত্রটির দাবি, রোববার থেকে ইতিহাদ আবুধাবিতে আটটি ফ্লাইট পরিচালনা করছে এবং এসব ফ্লাইটে আরও কঠোর নিরাপত্তাব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। তার মতে, একই ধরনের নিরাপত্তাব্যবস্থা ফ্লাইদুবাইয়ের ক্ষেত্রেও প্রয়োগ করা যেতে পারে।

তিনি জানান, সন্দেহভাজন ওমানি সহপাইলট বুধবারের ফ্লাইটটি বিধ্বস্ত করার চেষ্টা করেছিলেন কি না, তা নিয়ে আমিরাতি কর্তৃপক্ষ নিজস্ব তদন্ত চালাচ্ছে। বিমানকর্মীদের নিরাপত্তা যাচাইয়ের প্রক্রিয়া আরও কঠোর করতেও তারা প্রস্তুত বলে জানান তিনি।

ওই সূত্র স্বীকার করেন, স্পষ্টতই একটি ব্যর্থতা ঘটেছে। তবে একই সঙ্গে তার অভিযোগ, আমিরাতের সহযোগিতা সত্ত্বেও ইসরাইল সরকার সংকটকে অযথা দীর্ঘায়িত করছে।

তিনি বলেন, ‘ইসরাইলের আচরণে আমরা দিশাহারা হয়ে যাচ্ছি। ইসরাইলি সরকার কী করছে, তা তারা বুঝতে পারছে বলে মনে হচ্ছে না।’

সূত্র: মিডল ইস্ট আই

আরএ

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন