গাজার বাসিন্দাদের জন্য সব ধরনের ভিজিটর ভিসা স্থগিত করেছে যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রণালয় সামাজিক মাধ্যম এক্সে দেওয়া পোস্টে একথা জানিয়েছে। সাম্প্রতিক কিছু আবেদন প্রক্রিয়া নিয়ে বিতর্কের প্রেক্ষাপটে এই সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। খবর বিবিসির।
মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রণালয় বলছে, ভিসা প্রদানের প্রক্রিয়া এখন থেকে সম্পূর্ণ ও পুঙ্খানুপুঙ্খ পর্যালোচনা করা হবে। এই সিদ্ধান্তের নিন্দা জানিয়েছে কিছু ফিলিস্তিনি অধিকার গোষ্ঠী।
প্যালেস্টাইন চিলড্রেনস রিলিফ ফান্ড এক বিবৃতিতে বলেছে, এই সিদ্ধান্তের ফলে গাজা থেকে আহত এবং গুরুতর অসুস্থ শিশুদের চিকিৎসার জন্য যুক্তরাষ্ট্রে আনার প্রক্রিয়ায় গুরুতর প্রভাব পড়বে।
ঘটনার সূত্রপাত হয় গত শুক্রবার। কট্টর ডানপন্থি কর্মী লরা লুমার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে লেখেন, গাজার শরণার্থী পরিচয়ে কয়েকজন ফিলিস্তিনি চলতি মাসে সান ফ্রান্সিসকো ও হিউস্টন হয়ে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করেছেন। এ ভিসা কর্মসূচির সমালোচনা করে ভিসা প্রদার বন্ধ করার আহ্বান জানিয়ে একাধিক পোস্ট করেন তিনি। এরপর পররাষ্ট্র দপ্তরের নীতিগত পরিবর্তন আসে।
ভিসা সাময়িকভাবে বন্ধ করার জন্য পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিওকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন তিনি।
শনিবার স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা দেয়, ‘গাজা থেকে আসা ব্যক্তিদের ভিসা প্রদান প্রক্রিয়া স্থগিত করা হচ্ছে যতক্ষণ না সাম্প্রতিক ‘কিছু সীমিত মেডিকেল ভিসার আবেদন’ সংক্রান্ত তদন্ত শেষ হচ্ছে। তবে কতজন গাজা থেকে যুক্তরাষ্ট্রে এসেছেন, তা প্রকাশ করা হয়নি।
প্যালেস্টাইন চিলড্রেন’স ফ্রান্ড জানিয়েছে, তারা বিদেশে চিকিৎসা কর্মসূচির অংশ হিসেবে ২০২৪ সালে গাজা থেকে ১৬৯ জন শিশুকে সরিয়ে নিয়েছে। তাদের মধ্যপ্রাচ্য, ইউরোপ, দক্ষিণ আফ্রিকা এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে নিয়ে যাওয়া হয়েছে।
রয়টার্সের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের মে মাসে ফিলিস্তিনি অথরিটি ট্রাভেল ডকুমেন্টধারীদের ৬৪০টি মার্কিন ভিসা দেয়া হয়েছিল। এর মধ্যে বি১/বি২ ক্যাটাগরির ভিসা থাকায় অনেক ফিলিস্তিনি যুক্তরাষ্ট্রে চিকিৎসা নিতে পারতেন।
এই সিদ্ধান্ত এসেছে এমন সময়ে যখন ইসরায়েল গাজায় হামলা আরো তীব্র করেছে। স্থানীয় স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ২২ মাসে গাজায় নিহতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে অন্তত ৬১ হাজার ৮২৭ জনে। জাতিসংঘ সতর্ক করেছে, খাদ্য সংকট, অপুষ্টি ও রোগব্যাধির কারণে দুর্ভিক্ষজনিত মৃত্যু বেড়ে চলেছে।
আরএ
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন


