ফরাসি কোম্পানিগুলোর কাছে সৌদি আরব এখন শুধু দেশটির অভ্যন্তরীণ বাজার নয়, বরং মধ্যপ্রাচ্যসহ বৃহত্তর অঞ্চলে ব্যবসা সম্প্রসারণের গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র হয়ে উঠছে। দেশটি উৎপাদন, প্রযুক্তি, রপ্তানি ও আঞ্চলিক ব্যবস্থাপনার ঘাঁটি হিসেবে নিজেদের প্রতিষ্ঠিত করার চেষ্টা করছে।
সৌদি আরবের ‘ভিশন ২০৩০’-এর আওতায় তেলনির্ভর অর্থনীতির বাইরে শিল্প ও প্রযুক্তিসহ বিভিন্ন খাতের বিকাশ ঘটানো হচ্ছে। ২০২৫ সালের শেষ নাগাদ দেশটিতে কারখানার সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১২ হাজার ৯৪৬টিতে। ওই বছর ১ হাজার ৬৬০টি নতুন শিল্প লাইসেন্স দেওয়া হয়, যার সম্ভাব্য বিনিয়োগমূল্য প্রায় ১৭ দশমিক ১ বিলিয়ন ইউরো। একই সময়ে ১ হাজার ২০১টি কারখানা উৎপাদনে যায়।
দেশটিতে বর্তমানে ৩৬টি শিল্পনগরী এবং ৭০০টির বেশি প্রস্তুত কারখানা রয়েছে। চারটি বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চলে যোগ্য বিনিয়োগকারীদের জন্য সর্বোচ্চ ২০ বছর পর্যন্ত ৫ শতাংশ কর সুবিধা দেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি সৌদি ইন্ডাস্ট্রিয়াল ডেভেলপমেন্ট ফান্ড যোগ্য প্রকল্পের ব্যয়ের ৭৫ শতাংশ পর্যন্ত অর্থায়ন করতে পারে।
সৌদি আরবে ইতোমধ্যে শ্নাইডার ইলেকট্রিক, ভ্যালুরেক ও টারকেটের মতো ফরাসি কোম্পানি শিল্প কার্যক্রম সম্প্রসারণ করছে। টারকেট জেদ্দায় উৎপাদনের জন্য একটি যৌথ উদ্যোগও প্রতিষ্ঠা করেছে।
রপ্তানি ক্ষেত্রেও সৌদি আরব নিজেদের অবস্থান শক্তিশালী করছে। ২০২৫ সালে দেশটির তেলবহির্ভূত রপ্তানি ও পুনঃরপ্তানি ৮৩ দশমিক ৪ বিলিয়ন ইউরোতে পৌঁছেছে এবং তা ১৮০টির বেশি দেশে গেছে। ২০৩০ সাল পর্যন্ত পরিবহন ও লজিস্টিক খাতে ৮৫ দশমিক ৬ বিলিয়ন ইউরোর বেশি বিনিয়োগের প্রতিশ্রুতি রয়েছে।
এদিকে রিয়াদকে আঞ্চলিক সদর দপ্তরের কেন্দ্র হিসেবেও গড়ে তোলা হচ্ছে। আঞ্চলিক সদর দপ্তর কর্মসূচির আওতায় রাজধানীতে ৭৫০টির বেশি কোম্পানি কার্যক্রম স্থাপন করেছে। এর মধ্যে ৩৯টি ফরাসি কোম্পানি রয়েছে। যোগ্য প্রতিষ্ঠানগুলো ৩০ বছর পর্যন্ত কর সুবিধা পেতে পারে।
ফরাসি বিনিয়োগও দ্রুত বাড়ছে। ২০২৪ সালে সৌদি আরবে ফরাসি প্রত্যক্ষ বিনিয়োগের পরিমাণ ছিল প্রায় ১৬ দশমিক ৩ বিলিয়ন ইউরো, যা তিন বছরে দ্বিগুণ হয়েছে।
ফরাসি কোম্পানিগুলোর জন্য সৌদি আরব এখন শুধু একটি বিনিয়োগের বাজার নয়; বরং এশিয়া, আফ্রিকা ও ইউরোপের সঙ্গে সংযোগ থাকা একটি বৃহত্তর আঞ্চলিক ব্যবসা ও রপ্তানি কেন্দ্র হিসেবে গুরুত্ব পাচ্ছে।
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

