যুদ্ধবিরতিতে পৌঁছাতে মধ্যস্ততা করায় মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে ধন্যবাদ জানিয়েছে থাইল্যান্ড ও কম্বোডিয়া। রোববার এক প্রতিবেদনে একথা জানিয়েছে সংবাদমাধ্যম বিবিসি।
দুই দেশই চলমান সংঘর্ষ ও প্রাণহানি নিয়ে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের উদ্বেগ এবং প্রচেষ্টার জন্য তাকে ধন্যবাদ জানিয়েছে। কম্বোডিয়া যুদ্ধবিরতির জন্য তার অনুরোধ এরইমধ্যে গ্রহণ করেছে। অন্যদিকে থাইল্যান্ড দুই দেশের মধ্যে সংলাপের প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দিয়েছে।
তবে মার্কিন প্রেসিডেন্টের আহ্বানের পরও গত রাতভর সীমান্তে গোলাগুলি অব্যাহত ছিল।
ট্রাম্প শনিবার তার সামাজিক মাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে বলেন, তিনি স্কটল্যান্ড সফরের সময়ই দুই নেতার সঙ্গে ফোনে কথা বলেন এবং সাফ জানিয়ে দেন, সীমান্ত সংঘর্ষ না থামলে যুক্তরাষ্ট্র কোনো বাণিজ্যচুক্তিতে যাবে না।
ট্রাম্পের সাথে ফোনালাপে থাইল্যান্ড এবং কম্বোডিয়ার প্রধানমন্ত্রীদের প্রতিক্রিয়া ইতিবাচক। তারপরও তাদের কেউই এখন পর্যন্ত তাদের অবস্থান পরিবর্তন করেনি।
কম্বোডিয়া এরমধ্যেই যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব দিয়েছিল। তাদের সামরিক বাহিনী থাইল্যান্ডের তুলনায় দুর্বল।
ফোনালাপের পর কম্বোডিয়ার প্রধানমন্ত্রী হুন মানেত বলেন ‘আমি প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পকে স্পষ্ট করে দিয়েছি যে কম্বোডিয়া দুই সশস্ত্র বাহিনীর মধ্যে তাৎক্ষণিক এবং নিঃশর্ত যুদ্ধবিরতির প্রস্তাবে একমত।’
তিনি আরো বলেন, ‘ট্রাম্পের মধ্যস্থতা অনেক সেনা এবং বেসামরিক নাগরিকের জীবন রক্ষায় সত্যিই সাহায্য করবে।’
অন্যদিকে, থাইল্যান্ড বলেছে যে তারা যুদ্ধবিরতি বিবেচনা করতে ইচ্ছুক। থাইল্যান্ডের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, ভারপ্রাপ্ত প্রধানমন্ত্রী ফুমথাম ওয়েচায়াচাই প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পকে তার উদ্বেগের জন্য ধন্যবাদ জানিয়েছেন। তিনি বলেছেন থাইল্যান্ড নীতিগতভাবে যুদ্ধবিরতিতে সম্মত। তবে, থাইল্যান্ড কম্বোডিয়ার পক্ষ থেকে আন্তরিকতা দেখতে চায়।
শনিবার সকালেও সংঘর্ষ হয়েছে থাইল্যান্ডের ত্রাট ও কম্বোডিয়ার পুরসাত প্রদেশে, যা আগের সংঘর্ষস্থল থেকে ১০০ কিলোমিটার দূরে। নতুন করে সীমান্তে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ায় উদ্বেগ বাড়ছে।
উভয় দেশই একে অপরকে আগ্রাসনের জন্য দায়ী করছে। থাইল্যান্ড বলছে, মে মাসে এক কম্বোডিয়ান সৈন্য নিহত হওয়ার পর থেকেই উত্তেজনা বেড়েছে। থাই সেনাবাহিনীর দাবি, সংঘর্ষে এখন পর্যন্ত তাদের সাত সেনা ও ১৩ বেসামরিক নিহত হয়েছে। কম্বোডিয়া বলছে, তাদের প্রাণহানির সংখ্যা ১৩, যার মধ্যে পাঁচজন সেনা।
আরএ
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন


