ভারতে হিন্দু জাতীয়তাবাদ ও ক্ষমতাসীন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সরকারের বিভিন্ন কর্মকাণ্ডের সমালোচনা করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রভাবশালী ডেমোক্র্যাট কংগ্রেসম্যান রো খান্না। একই সঙ্গে দুর্নীতির বিরুদ্ধে এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক সমাজের দাবিতে রাজপথে আন্দোলনরত ভারতীয় শিক্ষার্থীদের প্রতি সমর্থন জানিয়েছেন তিনি।
সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে (সাবেক টুইটার) ভারতের রাজনীতি ও মোদি সরকারের বিষয়ে নিজের অবস্থান স্পষ্ট করতে রো খান্নার প্রতি আহ্বান জানান যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক শিক্ষাবিদ গৌরব সাবনিস। জবাবে খান্না বলেন, তিনি হিন্দু জাতীয়তাবাদের কঠোর বিরোধিতা করেছেন এবং দুর্নীতির বিরুদ্ধে ও সমাজে সবার অন্তর্ভুক্তি নিশ্চিত করার দাবিতে রাজপথে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের প্রশংসা করেছেন।
গৌরব সাবনিস তার পোস্টে লেখেন, নিজেকে প্রগতিশীল রাজনীতিক হিসেবে পরিচয় দিলেও ভারতে মোদি সরকারের আমলে রাজনৈতিক বন্দিত্ব ও সংখ্যালঘুদের অধিকার সংকুচিত হওয়ার মতো ঘটনাগুলো নিয়ে রো খান্না নীরব রয়েছেন। হিন্দুত্ববাদ, রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘ (আরএসএস) এবং মোদি সরকারের বিষয়ে তার অবস্থান স্পষ্ট করার আহ্বান জানান তিনি।
এর জবাবে রো খান্না লেখেন, আমি দ্ব্যর্থহীনভাবে হিন্দু জাতীয়তাবাদের নিন্দা জানিয়েছি এবং দুর্নীতির বিরুদ্ধে ও অন্তর্ভুক্তির পক্ষে রাজপথে কথা বলা শিক্ষার্থীদের সাধুবাদ জানিয়েছি। আমার দাদা মহাত্মা গান্ধী স্বাধীনতা আন্দোলনের অংশ ছিলেন। আমি গান্ধী ও নেহরুর বহুত্ববাদী আদর্শে বিশ্বাস করি।
রো খান্না যুক্তরাষ্ট্রের রাজনীতিতে প্রভাবশালী প্রগতিশীল কণ্ঠগুলোর একজন। তিনি ক্যালিফোর্নিয়ার ১৭তম কংগ্রেশনাল ডিস্ট্রিক্টের প্রতিনিধি, যার আওতায় সিলিকন ভ্যালির একটি অংশ রয়েছে। ২০১৬ সালে প্রথম কংগ্রেস সদস্য নির্বাচিত হন তিনি। ২০২০ সালের মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে বার্নি স্যান্ডার্সের প্রচারশিবিরের সহসভাপতির দায়িত্বও পালন করেন।
সম্প্রতি অনুষ্ঠিত মধ্যবর্তী নির্বাচনে রিপাবলিকান প্রতিদ্বন্দ্বী ব্যবসায়ী রিতেশ ট্যান্ডনকে ৪২ হাজারের বেশি ভোটের ব্যবধানে পরাজিত করে ষষ্ঠ মেয়াদে কংগ্রেস সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন খান্না।
এদিকে মধ্যবর্তী নির্বাচনে ডেমোক্র্যাটদের বড় জয়ের মধ্য দিয়ে মার্কিন প্রতিনিধি পরিষদ ও সিনেট—উভয় কক্ষেই দলটি নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করেছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। এই রাজনৈতিক পরিবর্তনকে অনেকে ডোনাল্ড ট্রাম্প-পরবর্তী মার্কিন রাজনীতির সূচনা হিসেবে দেখছেন।
সূত্র: দ্য টেলিগ্রাফ অনলাইন
এআরবি
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন


