নেপালে ভয়াবহ হিমবাহজনিত বন্যায় মৃতদের স্মরণে সোমবার জাতীয় শোক দিবস পালন করা হয়েছে।
এদিকে নিখোঁজ জলবিদ্যুৎকেন্দ্রের শ্রমিকদের স্বজনেরা আশা করছেন, গভীর সুড়ঙ্গে আটকে থাকা তাদের প্রিয়জনদের হয়তো এখনো জীবিত অবস্থায় উদ্ধার করা সম্ভব।
গত ২৬ আগস্ট চীন-নেপাল সীমান্তে হিমবাহ ও পাহাড় ধসে সৃষ্ট ভয়াবহ বন্যায় অন্তত ১ হাজার ৩৯৮ জন প্রাণ হারিয়েছেন। এখনো ৫ হাজার ৫০০ জনের বেশি নিখোঁজ রয়েছেন। নিখোঁজদের মধ্যে প্রায় ৮০০ জন বিদেশি নাগরিক।
জাতীয় শোক দিবস উপলক্ষে দেশজুড়ে জাতীয় পতাকা অর্ধনমিত রাখা হয়। দিনের শেষভাগে বিভিন্ন স্থানে মোমবাতি প্রজ্বলন করে মৃতদের স্মরণ করার কর্মসূচিও রয়েছে।
হিন্দু ধর্মীয় রীতি অনুযায়ী মৃত্যুর ১৩তম দিনে শোক পালনের অংশ হিসেবেই এসব কর্মসূচি নেওয়া হয়েছে।
নিখোঁজদের মধ্যে শত শত জলবিদ্যুৎকেন্দ্রের শ্রমিক রয়েছেন। তবে সম্প্রতি গভীর সুড়ঙ্গ থেকে তিন শ্রমিককে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে।
শুক্রবার দুই নেপালি শ্রমিক ও শনিবার একজন চীনা নাগরিককে উদ্ধার করা হয়। তাদের উদ্ধারের ঘটনায় অন্য নিখোঁজ শ্রমিকদেরও জীবিত পাওয়ার আশা বেড়েছে।
নেপাল সেনাবাহিনীর মুখপাত্র রাজা রাম বাসনেট সোমবার এএফপিকে বলেন, প্রথম দিনের মতো একই গতিতে উদ্ধার অভিযান চলছে।
তিনি আরো বলেন, ‘আমাদের লক্ষ্য তিনভাবে অনুসন্ধান ও উদ্ধার অভিযান চালানো— স্থলপথে, আকাশপথে এবং সুড়ঙ্গের ভেতরে। আমরা নিশ্চিত করতে চাই, কেউ এখনো কোথাও আটকে থাকলে যেন তাকে উদ্ধার করা যায়।’
বন্যা ও পাহাড়ধসে পুরোপুরি নিশ্চিহ্ন হয়ে গেছে অনেক জনপদ। ধ্বংস হয়েছে সড়ক, ভেঙে পড়েছে অসংখ্য বাড়িঘর।
তবে নিখোঁজ শ্রমিকদের কয়েকটি পরিবারের সদস্যরা সোমবার রাজধানী কাঠমান্ডুতে জড়ো হয়ে অভিযোগ করেন, সরকারকে উদ্ধার অভিযান আরও দ্রুত করতে হবে।
নিখোঁজ ভাইয়ের সন্ধানে থাকা রীনা আমাত্য শ্রেষ্ঠা বলেন, ‘আমাদের অনেক আশা আছে।’
তারা বলছে উদ্ধার অভিযান চলছে। যদি সত্যিই উদ্ধার অভিযান চলে, তাহলে তার ফল কোথায়? আমরা ফলাফল দেখতে চাই।’
নেপালি উদ্ধারকারী দলকে পরামর্শ দেওয়া অস্ট্রেলীয় সুড়ঙ্গ উদ্ধার বিশেষজ্ঞ আর্নল্ড ডিক্স বলেন, এই উদ্ধার অভিযান তার দেখা সবচেয়ে কঠিন পরিস্থিতিগুলোর একটি।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে তিনি বলেন, ‘আমরা এমন একটি পরিস্থিতির মুখোমুখি হয়েছি, যা আগে কখনো দেখিনি।’
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

