ভারতের উত্তরাখণ্ড রাজ্যে প্রবল বর্ষণের ফলে সৃষ্ট ভয়াবহ আকস্মিক বন্যায় ১০০ জনের বেশি মানুষ নিখোঁজ রয়েছেন। কমপক্ষে চারজনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। নিখোঁজদের মধ্যে ১১ জন সেনাও রয়েছেন। খবর বিবিসির।
মঙ্গলবার পাহাড়ি ঢলে উত্তরকাশিতে আকস্মিক বন্যা দেখা দেয়। নদীর পানি পাহাড় থেকে নেমে মুহূর্তের মধ্যেই ভাসিয়ে নিয়ে যায় ধরালি গ্রামের বিস্তির্ণ এলাকা। এ সময় তীব্র স্রোতের কারণে অসংখ্য বাড়িঘর ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। পানিতে ডুবে গেছে রাস্তাঘাট ও ভবন।
মঙ্গলবার থেকে ধরালিতে সেনা সদস্যদের উদ্ধারকাজের জন্য পাঠানো হয়েছে। তবে ক্ষতিগ্রস্ত রাস্তাঘাট এবং ভারী বৃষ্টিপাতের কারণে উদ্ধারকাজ চালানো কঠিন হয়ে পড়েছে। বন্ধ রয়েছে স্কুল, দোকান, হোটেল।
বুধবার সকালে উত্তরাখণ্ডের মুখ্যমন্ত্রী পুষ্কর সিং ধামি সাংবাদিকদের জানান, উত্তরকাশী থেকে এখন পর্যন্ত ১৩০ জনকে উদ্ধার করা হয়েছে।
আজও (বুধবার) ভারী বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকায় উদ্ধারকাজ জটিল হয়ে পড়েছে। প্রবল বৃষ্টিতে প্রধান মহাসড়কের অনেক রুট ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। উত্তরকাশী জেলার অনেক রাস্তায় ফাটল দেখা দিয়েছে।
হিন্দুস্তান টাইমস এক প্রতিবেদনে জানায়, ধরালি গ্রামের ক্ষীরগঙ্গা নদীর অববাহিকায় বন্যার পানি একাধিক হোটেলে ঢুকে পড়েছে। বন্যার পানির সঙ্গে ঘরবাড়ি ও দোকানেও কাদা-মাটি ঢুকে পড়েছে। ধ্বংসস্তূপের নীচে অনেক মানুষ চাপা পড়ে আছেন বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
গত কয়েক সপ্তাহ ধরে হিমালয়ের কোল ঘেঁষা এই রাজ্যে ভারী বৃষ্টিপাত হচ্ছে।
আগামী দিন এই অঞ্চলে ভারী বৃষ্টিপাতের পূর্বাভাস দিয়েছে আবহা্ওয়া বিভাগ। সেইসঙ্গে ভূমিধসের ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় ভ্রমণ এড়িয়ে চলার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
মঙ্গলবার দুপুর ১ টা ৫০ মিনিটের দিকে, ধরালি গ্রামে প্রথম মেঘভাঙা বৃষ্টি হয়। বৃষ্টির তীব্রতায় ক্ষীরগঙ্গা নদীর পানি ধেয়ে আসে নিচের দিকে। সেই পানিতে ভেসে যায় গ্রাম। ডুবে যায় বহু ঘরবাড়ি, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান।
উত্তরকাশিতে পানির তোড়ে ভেঙে পড়েছে ৪০ থেকে ৫০টা বাড়ি। ধারালির কাছে ভাটওয়াড়িতে প্রায় দেড়শো মিটার রাস্তা নিশ্চিহ্ন হয়ে গেছে।
আরএ
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন



