যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে রিপাবলিকানদের পরাজয়ের পর প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিরুদ্ধে দেশের স্বার্থের চেয়ে ইসরাইলকে বেশি প্রাধান্য দেওয়ার অভিযোগ তুলেছেন মার্কিন রক্ষণশীল ভাষ্যকার টাকার কার্লসন। খবর আনাদোলুর।
বৃহস্পতিবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে প্রকাশিত এক পডকাস্টে তিনি বলেন, একজন নেতার জন্য নিজের দেশের মানুষের চেয়ে অন্য একটি দেশকে বেছে নেওয়া অনৈতিক।
ট্রাম্পের কর্মকাণ্ড বোঝাতে প্রতিবেশীর সন্তানদের ডিজনিল্যান্ডে নিয়ে যাওয়ার উদাহরণ দেন কার্লসন। তিনি বলেন, নিজের সন্তানরা যখন না খেয়ে থাকে, তখন প্রতিবেশীর সন্তানদের বিনোদনের ব্যবস্থা করা অনৈতিক। ট্রাম্পও ঠিক এমন কাজ করেছেন।
কার্লসন বলেন, ‘তিনি যুক্তরাষ্ট্রের চেয়ে ইসরাইলকে বেছে নিয়েছেন। মানুষ এ নিয়ে মিথ্যা বললেও সবাই বিষয়টি দেখতে পাচ্ছে। মার্কিন প্রেসিডেন্টের এই কাজ সম্পূর্ণ ভুল।’
মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতগুলোতে যুক্তরাষ্ট্রের জড়িত হওয়ারও সমালোচনা করেন তিনি। তার অভিযোগ, ইসরাইলের স্বার্থে বারবার যুদ্ধে জড়িয়ে ওয়াশিংটন নিজেদের জাতীয় স্বার্থ ক্ষতিগ্রস্ত করছে।
কার্লসন বলেন, ‘আপনার দেশ যদি ইসরাইলের হয়ে মধ্যপ্রাচ্যে একের পর এক অর্থহীন যুদ্ধ শুরু করে এবং প্রতিবারই পরাজিত হয়, তাহলে দেশটির ক্ষমতা ও প্রভাব কমবে, নিজেদের নাগরিকদের প্রাণহানি ঘটবে এবং অর্থনীতি ধীরে ধীরে দেউলিয়া হয়ে পড়বে।’
তিনি আরও বলেন, ‘একসময় হয়তো তাদের মনে হবে, এটি একটি খারাপ সিদ্ধান্ত। ইসরাইলের সঙ্গে আর কোনো যুদ্ধে জড়ানো যাবে না। কিন্তু এখনো তেমনটি ঘটেনি। কারণ, প্রকৃত ঘটনা তুলে ধরার মতো সাহস কেউ দেখায়নি।’
২০০৩ সালের ইরাক যুদ্ধের প্রসঙ্গ টেনে কার্লসন দাবি করেন, ইসরাইলের দাবির পরিপ্রেক্ষিতেই ওই যুদ্ধে জড়িয়েছিল যুক্তরাষ্ট্র। দুই দশকেরও বেশি সময় ধরে একই ধারা অব্যাহত রয়েছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর কথা উল্লেখ করে কার্লসন বলেন, ‘২৩ বছর আগে ইরাক যুদ্ধেও আমরা ইসরাইলের দাবি অনুসরণ করে যুদ্ধে গিয়েছিলাম। ওই ঘটনার সঙ্গে জড়িত যে কাউকে জিজ্ঞাসা করলে তাঁরা বলবেন, ঠিক এটাই ঘটেছিল। তখনও নেতানিয়াহুই ছিলেন।’
সবশেষে তিনি বলেন, ‘ভালো খবর হলো, এখন সবাই বিষয়টি দেখতে পাচ্ছে। শেষ পর্যন্ত এটিই হবে ডোনাল্ড ট্রাম্পের রেখে যাওয়া দীর্ঘস্থায়ী অবদান।’
এমএমআর
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন


