জার্মান স্টার্টআপ ইসার অ্যারোস্পেস শনিবার আর্কটিক নরওয়ের একটি কেন্দ্র থেকে মহাকাশে তাদের প্রথম রকেট উৎক্ষেপণ করেছে। এর মাধ্যমে নিজস্ব ভূখণ্ড থেকে স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণের সক্ষমতা অর্জনের পথে আরও এক ধাপ এগিয়ে গেল ইউরোপ।
মনুষ্যবিহীন স্পেকট্রাম রকেটটি ছিল মহাদেশীয় ইউরোপ থেকে কক্ষপথে পৌঁছানো প্রথম বাণিজ্যিক ফ্লাইট। এই মহাদেশীয় ইউরোপের বেশ কয়েকটি দেশ মহাকাশ অভিযানের ক্রমবর্ধমান বাজারে নিজেদের অংশীদারিত্ব চেয়েছে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে ইসার বলেছে, ‘আমরা কক্ষপথে! ইউরোপের ইতিহাসে নতুন অধ্যায় তৈরি করেছি।’
নরওয়ের শিল্প ও বাণিজ্যমন্ত্রী সিসিলি মাইরসেথ এক বিবৃতিতে এই উৎক্ষেপণকে ইউরোপের মহাকাশ উৎক্ষেপণ শিল্পের জন্য ‘একটি বড় অগ্রগতি’ হিসেবে উল্লেখ করেন। তার মতে, এর ফলে ইউরোপের মহাকাশে প্রবেশাধিকার আরও বাড়বে।
মাইরসেথ বলেন, আন্দোয়া থেকে স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণের সক্ষমতা অর্জন বর্তমান অস্থির সময়ে নরওয়ে ও ইউরোপের নিরাপত্তা আরও শক্তিশালী করবে।
মহাকাশে স্বনির্ভরতা চায় ইউরোপ
জার্মান চ্যান্সেলর ফ্রিডরিখ মের্জ মার্চ মাসে ইসার-এর উৎক্ষেপণ কেন্দ্র পরিদর্শন করেন, যা ইউরোপের বৃহত্তর স্বায়ত্তশাসন প্রতিষ্ঠার প্রচেষ্টাকেই তুলে ধরে। কারণ, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের অধীনে একসময় মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র দ্বারা সমর্থিত বৈশ্বিক ব্যবস্থাটি এখন পরিবর্তিত হচ্ছে।
ইসার-এর তথ্য অনুযায়ী, নরওয়ের আর্কটিক আন্দোইয়া স্পেসপোর্ট থেকে উৎক্ষেপিত মনুষ্যবিহীন স্পেকট্রাম রকেটটি, যা ছোট ও মাঝারি আকারের পেলোডের জন্য ডিজাইন করা, পাঁচটি ছোট স্যাটেলাইট এবং একটি উড্ডয়নকালীন প্রযুক্তিগত পরীক্ষা বহন করছিল।
নরওয়ের আর্কটিক অঞ্চলের আন্দোয়া স্পেসপোর্ট থেকে উৎক্ষেপণ করা স্পেকট্রাম রকেটটি ছোট ও মাঝারি আকারের পেলোড বহনের জন্য তৈরি। ইসার জানিয়েছে, এবারের মিশনে রকেটটি পাঁচটি ছোট স্যাটেলাইট এবং একটি উড্ডয়নকালীন প্রযুক্তিগত পরীক্ষার সরঞ্জাম বহন করে।
এটি ছিল ইসারের দ্বিতীয় রকেট উৎক্ষেপণ। প্রথম উৎক্ষেপণের ১৮ মাস পর এবার দ্বিতীয়বার রকেট পাঠানো হলো। ২০২৫ সালের মার্চে একই উৎক্ষেপণকেন্দ্র থেকে প্রথম রকেটটি উড্ডয়নের কিছুক্ষণ পর সমুদ্রে পড়ে বিস্ফোরিত হয়েছিল। তবে ওই ঘটনায় কেউ আহত হয়নি।
ইসার তখন জানিয়েছিল, রকেটটি বিধ্বস্ত হলেও মিশন থেকে বিপুল পরিমাণ তথ্য সংগ্রহ করা সম্ভব হওয়ায় সেটিকে সফল হিসেবে বিবেচনা করা হয়েছে।
প্রতিষ্ঠানটির ভাষ্য, শনিবারের উৎক্ষেপণ ছিল রকেটটির সক্ষমতা যাচাইয়ের পাশাপাশি পেলোড বহন করে পরিচালিত প্রথম মিশন।
স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণের বৈশ্বিক বাজারে বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের ইলন মাস্কের স্পেসএক্স এবং ফ্রান্সের এয়ারিয়ানগ্রুপ অন্যতম প্রধান প্রতিষ্ঠান। এয়ারিয়ানগ্রুপ হলো এয়ারবাস ও সাফরানের যৌথ উদ্যোগ। প্রতিষ্ঠানটি দক্ষিণ আমেরিকার ফরাসি গায়ানায় অবস্থিত মহাকাশকেন্দ্র ব্যবহার করে।
ইউরোপের মহাকাশ উৎক্ষেপণ সক্ষমতা বাড়ানোর প্রতিযোগিতায় সুইডেনের এসরেঞ্জ উৎক্ষেপণকেন্দ্র এবং যুক্তরাজ্যের স্কটল্যান্ডের শেটল্যান্ড দ্বীপপুঞ্জের স্যাক্সাভর্ড স্পেসপোর্টও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। এসব উদ্যোগের লক্ষ্য হলো মহাকাশে ইউরোপের নিজস্ব ও স্বাধীন উৎক্ষেপণ সক্ষমতা তৈরি করা।
ইসার গত সপ্তাহে জানিয়েছে, নতুন রকেট তৈরি এবং পরীক্ষামূলক ও উৎক্ষেপণ অবকাঠামো সম্প্রসারণের জন্য ইউরোপীয় মহাকাশ সংস্থা (ইসা) থেকে প্রায় ২০ কোটি ইউরো (২৩ কোটি ২০ লাখ ডলার) অর্থায়ন পেয়েছে। এ ছাড়া জার্মান প্রতিষ্ঠানটি কানাডায় দ্বিতীয় একটি উৎক্ষেপণকেন্দ্রও নির্মাণ করছে।
সূত্র: রয়টার্স
এমএমআর
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন


