জার্মানির উগ্র ডানপন্থি দল অলটারনেটিভ ফর জার্মানি (এএফডি) দেশ থেকে অভিবাসীদের ব্যাপকভাবে সরিয়ে দেওয়ার যে নীতি প্রচার করছে, সেটিকে ‘জাতিগত নির্মূলের’ সমার্থক বলে মন্তব্য করেছেন দেশটির চ্যান্সেলর ফ্রিডরিখ মের্জ। একই দিনে মের্জের সঙ্গে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নির্ধারিত ফোনালাপও স্থগিত করা হয়েছে।
রোববার স্যাক্সনি-আনহাল্ট রাজ্যের নির্বাচনে এএফডির বড় জয়ের পর বুধবার জার্মান পার্লামেন্টে দলটির বিরুদ্ধে প্রথমবারের মতো প্রকাশ্যে সরব হন মের্জ।
জার্মানির ফেডারেল পার্লামেন্ট বুন্ডেসটাগে উত্তপ্ত বিতর্কে তিনি বলেন, এএফডির কথিত ‘রি-মাইগ্রেশন’ নীতি আসলে বর্ণবাদী ভিত্তিতে ব্যাপক অভিবাসী বহিষ্কারের পরিকল্পনা। ‘রি-মাইগ্রেশন’ শব্দটি বংশপরিচয় ও গায়ের রঙের ভিত্তিতে জাতিগত নির্মূলের আরেকটি নাম ছাড়া কিছুই নয়, বলেন তিনি।
মের্জের বক্তব্যের সময় পার্লামেন্টের অন্য দলগুলোর সদস্যরা করতালি দেন। তবে এএফডির আইনপ্রণেতারা বারবার চিৎকার ও বিদ্রূপ করে তার বক্তব্যে বাধা দেওয়ার চেষ্টা করেন।
এএফডির সংসদীয় দলের উদ্দেশে দেওয়া বক্তব্যে মের্জ বলেন, জার্মানিতে কর্মরত লাখ লাখ অভিবাসী দেশটির সমাজ ও অর্থনীতির জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তাদের ‘রি-মাইগ্রেশন’ নীতির কারণে দেশ ছাড়তে হলে জার্মানির গুরুত্বপূর্ণ সেবা খাতগুলো বড় সংকটে পড়বে।
তিনি বলেন, অভিবাসী কর্মীদের দেশ ছাড়তে হলে জার্মানির কারিগরি ও সেবা খাত আর স্বাভাবিকভাবে চলবে না। কোনো বৃদ্ধনিবাস খোলা রাখা সম্ভব হবে না, হাসপাতালগুলো কার্যক্রম চালাতে পারবে না এবং কোনো রেস্তোরাঁও ব্যবসা চালিয়ে যেতে পারবে না।
মের্জ আরো বলেন, এএফডির এমন বক্তব্যই জার্মান সমাজে গভীর বিভাজন তৈরি করছে। নাৎসি আমলের পর জার্মানির কোনো রাজ্য নির্বাচনে উগ্র ডানপন্থি কোনো দলের এটাই সবচেয়ে শক্তিশালী ফলাফল।
এএফডি দীর্ঘদিন ধরে অনিয়মিত অভিবাসীদের বড় পরিসরে বহিষ্কারের দাবি জানিয়ে আসছে। তবে জার্মান আইনের অধীনে এ ধরনের নীতি বাস্তবায়নে বড় ধরনের আইনি বাধার মুখে পড়তে হবে।
সূত্র: দ্য গার্ডিয়ান
এমএমআর
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন


