আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বাণিজ্য উপদেষ্টা পিটার নাভারো বলেছেন, ভারত রাশিয়ার অপরিশোধিত তেল কিনে ইউক্রেন যুদ্ধে মস্কোকে অর্থায়ন করছে। এটি বন্ধ করতে হবে। ওয়াশিংটন মস্কো থেকে জ্বালানি আমদানি বন্ধ করার জন্য নয়াদিল্লির ওপর চাপ বাড়িয়েছে।
গতকাল সোমবার ফিন্যান্সিয়াল টাইমসে প্রকাশিত একটি মতামত নিবন্ধে নাভারো এ কথা বলেন।
নাভারো বলেন, ‘ভারত বিশ্বব্যাপী রুশ তেলের ক্লিয়ারিং হাউস হিসেবে কাজ করছে, যেখানে নিষেধাজ্ঞা আরোপিত অপরিশোধিত তেলকে উচ্চমূল্যের রপ্তানি পণ্যে রূপান্তরিত করে এবং মস্কোকে প্রয়োজনীয় ডলার এনে দেয়।’
তিনি আরো বলেন, রাশিয়ার অপরিশোধিত তেলের ওপর ভারতের নির্ভরতা একটি সুবিধাবাদী সিদ্ধান্ত। এছাড়া পুতিনের যুদ্ধ অর্থনীতিকে বিচ্ছিন্ন করার জন্য বিশ্বব্যাপী যে প্রচেষ্টা, তার জন্য এটি মারাত্মক ক্ষতিকর।
চীনের পর রাশিয়া থেকে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ তেল আমদানি করে ভারত। দেশটি তার মোট তেলের ৩০ শতাংশের বেশি রাশিয়া থেকে আমদানি করে থাকে। যেটা পশ্চিমা বিশ্বের নিষেধাজ্ঞার মধ্যে ক্রেমলিনের রাজস্ব আয়ে ভূমিকা রাখছে।
এ বিষয়টিকে কেন্দ্র করে চলতি মাসের শুরুতে আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ভারতের পণ্যের ওপর ৫০ শতাংশ শুল্ক আরোপ করে, যা ভারত এবং আমেরিকার মধ্যে দীর্ঘদিনের সম্পর্কে টানাপড়েন সৃষ্টি করে।
গত শুক্রবার স্বাধীনতা দিবসে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এক বক্তৃতায় ট্রাম্প প্রশাসনের এই পদক্ষেপের তীব্র প্রতিবাদ জানান। এ সময় তিনি যে কোনো পরিস্থিতিতে দেশের কৃষকদের স্বার্থ রক্ষার প্রতিশ্রুতি দেন।
তিনি বলেন, ‘তাদের স্বার্থের জন্য হুমকিস্বরূপ যেকোনো নীতির বিরুদ্ধে মোদি প্রাচীরের মতো দাঁড়িয়ে থাকবেন। কৃষকদের স্বার্থ রক্ষায় ভারত কখনো আপস করবে না বলেও ঘোষণা দেন তিনি।’
বিশ্লেষকরা বলছেন, ভারত রাশিয়াকে অন্যতম প্রতিরক্ষা সহযোগী হিসেবে গণ্য করে থাকে। আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা এস-৪০০ সহ ভারতের অনেক অস্ত্রের জোগান দেয় রাশিয়া। ইউক্রেন যুদ্ধের মধ্যেও রাশিয়ার সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিক রেখেছে ভারত। এ যুদ্ধের মধ্যেও রাশিয়ার প্রেসিডেস্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে মস্কোতে সাক্ষাৎ করেছেন মোদি।
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

