ট্রাম্পের গাজা দখলের পরিকল্পনা জানতেন না কর্মকর্তারা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ট্রাম্পের গাজা দখলের পরিকল্পনা জানতেন না কর্মকর্তারা

২০ জানুয়ারি আমেরিকার ৪৭তম প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের এক সপ্তাহ পরই গাজা নিয়ে নিজের পরিকল্পনার কথা ঘোষণা করেছিলেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। ফিলিস্তিনের স্বাধীনতাকামী সংগঠন হামাস নিয়ন্ত্রিত গাজা থেকে ফিলিস্তিনিদের সরিয়ে গাজা পুরোপুরি ‘খালি’ করার পরিকল্পনার কথা বলেছিলেন তিনি। মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি প্রতিষ্ঠার উদ্যোগের অংশ হিসেবে তাদের মিসর ও জর্ডানসহ অন্য আরব দেশে পাঠানোর ইচ্ছাও প্রকাশ করেছিলেন ট্রাম্প। এরপর তিনি গাজা আমেরিকার দখলে নেওয়ার কথা জানিয়েছেন। গত মঙ্গলবার ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর সঙ্গে হোয়াইট হাউজে অনুষ্ঠিত এক বৈঠকে এ কথা জানান। তার এসব পরিকল্পনা বিশ্বজুড়ে আলোড়ন সৃষ্টি করে। তবে ট্রাম্পের এমন পরিকল্পনা সম্পর্কে একেবারেই অবগত নন হোয়াইট হাউজের কর্মকর্তারা। ট্রাম্প প্রশাসনের শীর্ষ কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ট্রাম্পের গাজা দখল ও ফিলিস্তিনিদের বিতাড়নের পরিকল্পনার কিছু অংশ প্রত্যাখ্যান করেছেন তারা। এর মধ্যে গাজা খালি করার জন্য আমেরিকার সেনা মোতায়েনের কোনো প্রতিশ্রুতি দেননি ট্রাম্প। এমনকি ফিলিস্তিনিদের স্থানান্তরও হবে অস্থায়ী।

বুধবার গাজা থেকে প্রায় ২০ লাখ ফিলিস্তিনিকে সরিয়ে নিয়ে এটিকে আমেরিকার ভূখণ্ড হিসেবে দখল ও পুনর্নির্মাণের সাহসী প্রস্তাব দেন ট্রাম্প। তাই নিয়ে শুরু হয় তোলপাড়। বিশ্ব নেতা, আমেরিকার গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার এবং কর্মকর্তাদের কাছ থেকে তাৎক্ষণিক বিরোধিতার মুখোমুখি হন তিনি। অনেকে ফিলিস্তিনি রাষ্ট্রের প্রতি সমর্থন প্রকাশ করে এই ধারণাটিকে আন্তর্জাতিক আইনের স্পষ্টত লঙ্ঘন বলে অভিহিত করেন। এরই পরিপ্রেক্ষিতে ট্রাম্পের পরিকল্পনাটি ঘোষণার ২৪ ঘণ্টারও কম সময়ের মধ্যে তার প্রশাসনের শীর্ষ কর্মকর্তারা এ বিষয়টিকে নমনীয়ভাবে উপস্থাপনের চেষ্টা করেছিলেন।

বিজ্ঞাপন

ট্রাম্প প্রশাসনের ভেতরে, পররাষ্ট্র দপ্তর বা পেন্টাগনের সঙ্গে এ নিয়ে কোনো বৈঠক করেননি ট্রাম্প। সাধারণত যে কোনো গুরুত্বপূর্ণ বৈদেশিক নীতি প্রস্তাবের ক্ষেত্রে সরকারের শীর্ষ কর্মকর্তাদের সঙ্গে প্রেসিডেন্টের আলোচনা হয়। কিন্তু এবার তার কিছুই হয়নি। প্রতিরক্ষা দপ্তর প্রয়োজনীয় সেনা সংখ্যা, ব্যয়ের হিসাব, এমনকি এটি কীভাবে কাজ করতে পারে তার কোনো রূপরেখাও তৈরি করা হয়নি। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পসহ পূর্ববর্তী প্রেসিডেন্টদের সঙ্গে বড় বড় বৈদেশিক নীতি ঘোষণার আগে আলোচনা হয় প্রশাসনের কর্মকর্তাদের। কিন্তু গাজা নিয়ন্ত্রণ প্রসঙ্গে কোনো কিছুই হয়নি বলে জানিয়েছে হোয়াইট হাউজ।

এদিকে, পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও গুয়াতেমালায় সাংবাদিকদের কাছে এক প্রশ্নের জবাবে বলেছিলেন, ট্রাম্পের শুধু গাজা খালি করে তা পুনর্নির্মাণের পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন। গাজাকে স্থায়ীভাবে দখলের কোনো কথা বলেননি।

এদিকে মিসৌরি রিপাবলিকান সিনেটর জশ হোলি বলেছেন, মধ্যপ্রাচ্যের বিশেষ দূত স্টিভ ইউটকফ সিনেটরদের বলেছেন, ট্রাম্প গাজায় সেনাবাহিনী মোতায়েন করতে চান না। শুধু তাই নয়, গাজার পেছনে কোনো অর্থও ব্যয় করতে চান না তিনি।

হোয়াইট হাউজের প্রেস সেক্রেটারি ক্যারোলিন লেভিট বলেছেন, ট্রাম্প গাজায় সেনা মোতায়নের কোনো প্রতিশ্রুতি দেননি। তবে সেনা মোতায়েন ছাড়া গাজার নিয়ন্ত্রণ কীভাবে নেবেন সে বিষয়ে কোনো সুস্পষ্ট বক্তব্য দেননি তিনি।

ট্রাম্পের ন্যাশনাল সিকিউরিটি অ্যাডভাইজার মাইক ওয়ালজ বলেছেন, গাজা নিয়ে ট্রাম্পের পরিকল্পনার সমালোচনা করার কিছু নেই। মধ্যপ্রাচ্যের শান্তি প্রতিষ্ঠা করতে চাইলে আরব বিশ্বকে এর সমাধান বের করতে হবে। নয়তো ট্রাম্পের পরিকল্পনাকেই মেনে নিতে হবে।

মঙ্গলবার ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর হোয়াইট হাউস সফর ও ট্রাম্পের সঙ্গে বৈঠক করেন। সেই বৈঠকে গাজা নিয়ে ট্রাম্প যে প্রস্তাব উত্থাপন করেন, তা কয়েক দশকের আন্তর্জাতিক কূটনীতিকে উল্টে দিয়েছে এবং মধ্যপ্রাচ্যের জন্য সুদূরপ্রসারী প্রভাবসহ একটি ভূ-রাজনৈতিক আশা-নিরাশার দোলাচলে ঠেলে দিয়েছে। তাৎক্ষণিকভাবে বলতে গেলে, ট্রাম্পের এমন সব যুক্তি ইসরাইল এবং হামাসের মধ্যে যুদ্ধবিরতি চুক্তিকে আরো ভঙ্গুর করে তুলবে। যা মধ্যপ্রাচ্য পরিস্থিতিকেও জটিল করবে।

ট্রাম্পের এমন প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছে মিসর এবং জর্ডানসহ আরব বিশ্ব। একই সঙ্গে এটি ইসরাইলের সঙ্গে সৌদি আরবের মধ্যে স্বাভাবিক কূটনৈতিক সম্পর্ক স্থাপনকেও হুমকির মুখে ফেলেছে।

তবে ট্রাম্পের পরিকল্পনাকে স্বাগত জানিয়েছেন ইসরাইল। দেশটির ডানপন্থি নেতারা বলেছেন, এটি কয়েক দশক ধরে চলা ইসরাইল-ফিলিস্তিনি সংঘাত দূর করবে এবং ফিলিস্তিনি রাষ্ট্র তৈরি না করে গাজাকে জঙ্গিগোষ্ঠী তৈরি হওয়া থেকে দূরে রাখবে।

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

সর্বশেষ

এলাকার খবর
Loading...