ইরান কয়েক দশকের মধ্যে সবচেয়ে ভয়াবহ খরার মুখোমুখি হওয়ায় কৃত্রিমভাবে বৃষ্টি সৃষ্টির উদ্দেশ্যে ক্লাউড সিডিং বা মেঘ বপন কার্যক্রম শুরু করেছে। শনিবার রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা আইআরএনএ এ তথ্য জানিয়েছে।
আইআরএনএর প্রতিবেদন অনুসারে, চলতি জলবর্ষে (সেপ্টেম্বর থেকে শুরু) প্রথমবারের মতো উর্মিয়া হ্রদ অববাহিকায় মেঘ বপনের ফ্লাইট পরিচালিত হয়েছে। একসময় ইরানের বৃহত্তম হ্রদ উর্মিয়া এখন প্রায় শুকিয়ে বিশাল লবণ মরুভূমিতে পরিণত হয়েছে।
পশ্চিম ও পূর্ব আজারবাইজান প্রদেশে আরও ক্লাউড সিডিং অভিযান পরিচালনার পরিকল্পনা রয়েছে বলে জানিয়েছে আইআরএনএ।
ক্লাউড সিডিংয়ে সাধারণত বিমান থেকে মেঘে সিলভার আয়োডাইড বা লবণের কণা ছড়িয়ে বৃষ্টিপাত প্ররোচিত করা হয়। ইরান গত বছর জানায় যে তারা নিজস্ব প্রযুক্তি তৈরি করেছে।
আইআরএনএ জানায়, শনিবার পশ্চিম ইরানের ইলাম, কেরমানশাহ, কুর্দিস্তান, লোরেস্তান এবং উত্তর-পশ্চিমের পশ্চিম আজারবাইজান প্রদেশে বৃষ্টি হয়েছে।
দেশটির আবহাওয়া সংস্থা বলেছে, দীর্ঘমেয়াদি গড়ের তুলনায় এ বছরে বৃষ্টিপাত ৮৯ শতাংশ কমেছে।
সংস্থা আরও জানায়, “এটি গত ৫০ বছরের মধ্যে শুকনোতম শরৎ।”
এক শতকে সর্বনিম্ন বৃষ্টি
রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম দেখিয়েছে, আলবোর্য পর্বতমালা সংলগ্ন তেহরানের তোচাল পাহাড় ও স্কি রিসোর্টে এ বছরের প্রথম তুষারপাত হয়েছে।
স্থানীয় কর্মকর্তাদের মতে, রাজধানী তেহরানে এ বছর এক শতকের মধ্যে সর্বনিম্ন বৃষ্টিপাত হয়েছে এবং দেশের অর্ধেক প্রদেশে মাসের পর মাস এক ফোঁটা বৃষ্টিও পড়েনি।
এদিকে দেশের বিভিন্ন প্রদেশে পানীয় জলের প্রধান উৎস হিসেবে ব্যবহৃত জলাধারগুলোর পানি রেকর্ড নিম্নমাত্রায় নেমে এসেছে।
চলতি মাসের শুরুর দিকে প্রেসিডেন্ট মাসউদ পেজেশকিয়ান সতর্ক করে বলেন, শীতের আগে পর্যাপ্ত বৃষ্টি না হলে তেহরান থেকে বাসিন্দাদের সরিয়ে নিতে হতে পারে, যদিও তিনি বিস্তারিত কিছু জানাননি।
উল্লেখ্য, ইরানের পাশাপাশি সংযুক্ত আরব আমিরাতসহ মধ্যপ্রাচ্যের অন্যান্য দেশও কৃত্রিম বৃষ্টি সৃষ্টির প্রযুক্তি ব্যবহার করছে।
এসআর
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

