আমার দেশ জনপ্রিয় বাংলা নিউজ পেপার

সালতামামি

ট্রাম্পের শুল্কারোপ এবং বিশ্বব্যাপী এর প্রভাব

তাহমিনা তাসির

ট্রাম্পের শুল্কারোপ এবং বিশ্বব্যাপী এর প্রভাব
ছবি: এএফপি

দ্বিতীয় মেয়াদে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট হিসেবে ডোনাল্ড ট্রাম্প ২০২৫ সালের ২০ জানুয়ারি দায়িত্ব নেন। দায়িত্ব নেওয়ার প্রথম দিনই তিনি কঠোর হন অবৈধ অভিবাসী নিয়ন্ত্রণের ওপর।

সরকারের রাজস্ব বাড়াতে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ওপর আরোপ করেছেন উচ্চমাত্রার শুল্ক, যা মূলত দেশটির কয়েক দশক ধরে চলে আসা বাণিজ্যনীতি পুরোপুরি উল্টে দিয়েছে।

বিজ্ঞাপন

গত বছর থেকে যুক্তরাষ্ট্রের সেই বাণিজ্যনীতি বদলে ফেলেন ট্রাম্প। ‘আমেরিকা ফার্স্ট’ নীতি বাস্তবায়নে একের পর এক সিদ্ধান্ত নেন। গত ১৩ ফেব্রুয়ারি ট্রাম্প ঘোষণা দেন, যুক্তরাষ্ট্রের পণ্যে বিভিন্ন দেশ যে পরিমাণ শুল্ক আরোপ করে, ওই সব দেশের ওপর তিনিও একই পরিমাণ শুল্ক আরোপ করবেন।

পরে ২ এপ্রিল বিশ্বের প্রায় প্রতিটি দেশের আমদানি পণ্যের ওপর দুই অঙ্কের শুল্ককর আরোপের ঘোষণা দেন ট্রাম্প, যা বিশ্বব্যাপী বাণিজ্যকে ব্যাহত করেছে। তবে এতে যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল কোষাগারে জমা হয়েছে ২৩৬ বিলিয়ন ডলারেরও বেশি, যা বিগত বছরের তুলনায় অনেক বেশি।

গত বছরের জানুয়ারি থেকে এপ্রিল পর্যন্ত দেশটির বাণিজ্যক্ষেত্রে গড় শুল্কহার ২ শতাংশ থেকে বেড়ে প্রায় ২৪ শতাংশে পৌঁছায়, যা এক দশকের মধ্যে সর্বোচ্চ।

শুল্ক আরোপের ঘোষণা, পরে তা স্থগিত বা পরিবর্তন এবং নতুন শুল্ক আরোপ- সব মিলিয়ে ২০২৫ সালকে সবচেয়ে অস্থির অর্থনৈতিক বছরগুলোর একটিতে পরিণত করেছেন ট্রাম্প, যা তাকে দেশে-বিদেশে ব্যাপক সমালোচনার মুখে ফেলেছে।

ক্ষমতা গ্রহণের পর জানুয়ারি থেকে মার্চ সময়টাতে ট্রাম্প প্রতিবেশী এবং দুই বড় বাণিজ্য অংশীদার দেশ কানাডা ও মেক্সিকোর ওপর শুল্কারোপ করেন। গত ৪ মার্চ থেকে ২৫ শতাংশ শুল্কারোপ করা হয়েছিল দেশ দুটিতে। তবে এর ঠিক দুই দিন পরই তা স্থগিত করেন ট্রাম্প। জানান, ২ এপ্রিল পর্যন্ত বহাল থাকবে তার এই স্থগিতাদেশ।

এপ্রিলে এসে ট্রাম্পের বাণিজ্যযুদ্ধ নতুন উচ্চতায় পৌঁছায়। ২ এপ্রিলকে ‘মুক্ত দিবস’ হিসেবে উল্লেখ করে বিভিন্ন দেশের ওপর ‘প্রতিশোধমূলক’ শুল্কারোপের ঘোষণা দেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। সেই হিসেবে ৫ এপ্রিল থেকে শুল্ক কার্যকর হবে এমন একটি নির্বাহী আদেশে সই করেন তিনি। ফলে ধস নামে শেয়ার বাজারে।

নতুন ঘোষণায় যুক্তরাষ্ট্রের রপ্তানি করা সব পণ্যের ওপর ন্যূনতম ১০ শতাংশ শুল্ক আরোপ করা হয়। ৫৭টি দেশের আমদানির ওপর ১১ শতাংশ থেকে ৫০ শতাংশ পর্যন্ত উচ্চ হারে শুল্ক আরোপের পরিকল্পনা ছিল ৯ এপ্রিল থেকে। কিন্তু কয়েক দিন পরেই ট্রাম্প চীন ছাড়া সব দেশের ক্ষেত্রে এটি ৯০ দিনের জন্য স্থগিত করেন। চীনের পণ্যের ওপর ১৪৫ শতাংশ শুল্কারোপ করেন ট্রাম্প। এর বিপরীতে চীন যুক্তরাষ্ট্রের পণ্যে ১২৫ শতাংশ শুল্কারোপ করে।

আগস্টে ভারতের ওপর ৫০ শতাংশ শুল্ক আরোপ করে যুক্তরাষ্ট্র। প্রথমে ২৫ শতাংশ শুল্ক আরোপ করলেও রাশিয়ার কাছ থেকে জ্বালানি তেল কেনার ‘শাস্তি’ হিসেবে দিল্লির ওপর আরো ২৫ শতাংশ শুল্কারোপ করা হয়। এছাড়া ব্রাজিলের ওপরও ৫০ শতাংশ শুল্কারোপ করা হয়।

ট্রাম্পের এই শুল্কারোপের ধাক্কা লাগে বাংলাদেশসহ দক্ষিণ এশিয়ার বিভিন্ন দেশে। বাংলাদেশের ওপর আরোপ করা হয় ৩৭ শতাংশ শুল্ক। বিশ্বের বিভিন্ন দেশের সঙ্গে আলোচনা শেষে ৬৯টি দেশে শুল্ক হার পুনর্নির্ধারণ করেন ট্রাম্প। নতুন আদেশে বিভিন্ন দেশের পণ্যে ১০ থেকে ৪১ শতাংশ পর্যন্ত শুল্ক নির্ধারণ করা হয়েছে। কানাডা ৩৫ শতাংশ, সিরিয়া ৪১ শতাংশ, লাওস ও মিয়ানমারের ওপর ৪০ শতাংশ এবং ১০ শতাংশ করে ব্রিটেন, ফকল্যান্ড দ্বীপপুঞ্জ ও ব্রাজিলের ওপর শুল্কারোপ করা হয়। এছাড়া বাংলাদেশ ২০ শতাংশ, পাকিস্তান ১৯ শতাংশ, শ্রীলঙ্কার ওপর ২০ শতাংশ শুল্ক নির্ধারণ করা হয়।

৯ এপ্রিল থেকে কার্যকর হয় বিশ্বব্যাপী এই নতুন শুল্কহার। তবে যুক্তরাষ্ট্রের এই বাণিজ্যনীতির রোলারকোস্টারে বছরে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন বিনিয়োগকারীরা।

এসআই

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

এলাকার খবর
Loading...