রুশ বাহিনীর ক্রমবর্ধমান চাপের মুখে পূর্ব ইউক্রেনের দোনেৎস্ক অঞ্চলের গুরুত্বপূর্ণ শিল্পনগরীগুলোর প্রতিরক্ষা জোরদারে নতুন উদ্যোগ নিয়েছেন প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি। সম্মুখ সারির এলাকা পরিদর্শনের সময় তিনি দেশটির দুই অভিজ্ঞ সামরিক কমান্ডারকে ‘দুর্গবেষ্টনী’ হিসেবে পরিচিত গুরুত্বপূর্ণ শহরগুলোর প্রতিরক্ষা শক্তিশালী করার দায়িত্ব দিয়েছেন।
জেলেনস্কি থার্ড আর্মি কোরের প্রধান আন্দ্রি বিলেতস্কি ও ফার্স্ট কোর আজভের কমান্ডার দেনিস প্রোকোপেনকোকে নতুন সামরিক গ্রুপিংয়ের নেতৃত্ব দিয়েছেন। ন্যাটোর কৌশল ও আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহারে অভিজ্ঞ হিসেবে পরিচিত এ দুই কমান্ডারের ওপর গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব দেওয়াকে ইউক্রেনের প্রতিরক্ষাব্যবস্থায় বড় ধরনের পরিবর্তনের ইঙ্গিত হিসেবে দেখা হচ্ছে।
দোনেৎস্কের কোস্তিয়ানতিনিভকা, ক্রামাতোরস্ক ও স্লোভিয়ানস্ক ইউক্রেনের পূর্বাঞ্চলের গুরুত্বপূর্ণ প্রতিরক্ষা ঘাঁটি। এসব শহরের দিকে রুশ বাহিনী চাপ বাড়িয়েছে। ওপেন-সোর্স সামরিক মানচিত্র বিশ্লেষণকারী সংস্থা ডিপস্টেটের তথ্য অনুযায়ী, রুশ সেনারা কোস্তিয়ানতিনিভকার আরও ভেতরে প্রবেশের চেষ্টা করছে। একই সঙ্গে ক্রামাতোরস্ক ও স্লোভিয়ানস্কে ব্যাপক বিমান ও গোলাবর্ষণ চালিয়ে সম্ভাব্য বড় আক্রমণের প্রস্তুতি নিচ্ছে মস্কো।
ইউক্রেনের সামরিক বিশ্লেষক মাইকোলা বিলেস্কভ বলেছেন, নতুন কমান্ডার নিয়োগের সিদ্ধান্ত সঠিক হয়েছে। এতে ইউক্রেনের নতুন সেনাপ্রধান মিখাইলো দ্রাপাতিইকে সামরিক কৌশল নির্ধারণে আরও বেশি সুযোগ দেওয়া হবে। ইউক্রেনের ড্রোন বাহিনীর কমান্ডার রবার্ট ব্রোভদি এটিকে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর ‘স্মার্ট যুদ্ধের’ দিকে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে উল্লেখ করেছেন।
এদিকে ইউক্রেনও রাশিয়ার ভেতরে হামলা জোরদার করেছে। জেলেনস্কি জানিয়েছেন, গত এক দিনে রাশিয়ার ১৬টি স্থাপনায় হামলা চালিয়েছে ইউক্রেন। এর মধ্যে তেল স্থাপনা, বিমানঘাঁটি, ক্ষেপণাস্ত্র ইউনিট, সামরিক কারখানা ও রসদ সরবরাহের গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো রয়েছে। ইউক্রেনের হামলায় রাশিয়ার নিঝনি নভগোরোদ অঞ্চলের কস্তোভোর একটি লুকঅয়েল তেল শোধনাগারে আগুন ধরে যায়।
রাশিয়াও ইউক্রেনের বিভিন্ন স্থাপনায় হামলা অব্যাহত রেখেছে। খেরসনের একটি তাপ ও বিদ্যুৎকেন্দ্র রুশ হামলায় মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এ ছাড়া মধ্য ইউক্রেনের ক্রিভি রিহ শহরের একটি শিল্প স্থাপনায় ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় দুইজন আহত হয়েছেন। বৃহস্পতিবার সকালে রাজধানী কিয়েভেও বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে।
শান্তি আলোচনা নিয়েও অনিশ্চয়তা বাড়ছে। ব্লুমবার্গের এক প্রতিবেদনের বরাতে দ্য গার্ডিয়ান জানিয়েছে, রাশিয়া কিয়েভ ও ইউক্রেনের গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোর ওপর ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলা বাড়ানোর কথা বিবেচনা করছে। মস্কো মনে করছে, শান্তি প্রতিষ্ঠার আলোচনা কার্যত অচল হয়ে পড়েছে। রাশিয়ার অন্যতম প্রধান দাবি হলো দোনবাস অঞ্চলের পুরো নিয়ন্ত্রণ।
এদিকে ইউক্রেনের সামরিক বাহিনীকে স্টারলিংক সেবা দেওয়ার জন্য ধনকুবের ইলন মাস্ককে দেশের ‘অর্ডার অব ফ্রিডম’ পদক দিয়েছেন জেলেনস্কি। তবে রুশ ভূখণ্ডে স্টারলিংকের ব্যবহার নিয়ে মাস্কের বিধিনিষেধ পরিবর্তনের আহ্বান জানিয়েছে কিয়েভ।
যুদ্ধের পাশাপাশি দুই দেশের মধ্যে সীমিত বন্দি বিনিময়ও হয়েছে। রাশিয়ার মানবাধিকার কমিশনারের তথ্য অনুযায়ী, ইউক্রেন ১০ জন রুশ যুদ্ধবন্দিকে মুক্তি দিয়েছে। এর আগে রাশিয়াও ১০ জন ইউক্রেনীয় যুদ্ধবন্দিকে মুক্তি দেয়।
অন্যদিকে নরওয়ের সরকারি ডিজিটাল সেবা সংস্থা ডিগডিরের ওপর সাইবার হামলার দায় একটি রুশপন্থী হ্যাকার গোষ্ঠী স্বীকার করেছে। ইউক্রেনের সঙ্গে নরওয়ের নিরাপত্তা সহযোগিতা চুক্তির প্রতিবাদে এ হামলা চালানো হয়েছে বলে গোষ্ঠীটি দাবি করেছে। তবে হামলার কারণে নরওয়ের সরকারি ডিজিটাল সেবায় বড় ধরনের বিঘ্ন ঘটেনি।
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

