দক্ষিণ আমেরিকার দেশ পেরুর একটি ছোট আন্দীয় জনপদে মেয়র নির্বাচনে জয়ী হয়েছেন হিটলার মুসোলিনি সিমেওন ফ্লোরেস নামের এক রাজনীতিবিদ। তার নামের প্রথম দুটি অংশের সঙ্গে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময়কার দুই স্বৈরশাসক—জার্মানির অ্যাডলফ হিটলার ও ইতালির বেনিতো মুসোলিনির নামের মিল থাকায় ঘটনাটি আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমে ব্যাপক কৌতূহল সৃষ্টি করেছে।
গত ৪ অক্টোবর অনুষ্ঠিত স্থানীয় নির্বাচনে ফ্লোরেস পেরুর বামমধ্যপন্থী রাজনৈতিক দল ‘আহোরা নাসিওন’-এর প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। নির্বাচনী ফলাফল অনুযায়ী, তিনি ২২৯ ভোট পেয়েছেন, যা বৈধ ভোটের ৩৪ দশমিক ৫৪ শতাংশ। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী গাসপার বেনিলদে ওসোরিও জামব্রানো পেয়েছেন ২০৪ ভোট। ফলে মাত্র ২৫ ভোটের ব্যবধানে জয়ী হন ফ্লোরেস।
পেরুর হুয়ানুকো অঞ্চলের লরাইকোচা প্রদেশে অবস্থিত কেরোপালকা জেলায় এ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। দুর্গম আন্দীয় অঞ্চলের ছোট এই জনপদের জনসংখ্যা আনুমানিক ৭৩০ জন। নির্বাচনে মোট ৬৬৩টি বৈধ ভোট গণনা করা হয়। তৃতীয় অবস্থানে থাকা পায়েস পারা তোদোস দলের প্রার্থী ইতালা ইয়োভানা সান্তিলান ভারা পেয়েছেন ১৮৭ ভোট।
নামের কারণে আন্তর্জাতিক আলোচনায়
ফ্লোরেসের নামের সঙ্গে নাৎসি জার্মানির নেতা অ্যাডলফ হিটলার এবং ইতালীয় ফ্যাসিবাদের প্রতিষ্ঠাতা বেনিতো মুসোলিনির নামের মিল থাকায় তার নির্বাচনী জয় আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের শিরোনাম হয়েছে। তবে নামের এই মিল থেকে তার রাজনৈতিক আদর্শ বা ঐতিহাসিক দুই স্বৈরশাসকের প্রতি সমর্থন সম্পর্কে সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর সুযোগ নেই।
ফ্লোরেস এর আগে পেরুর ডানপন্থী রাজনৈতিক দল ফুয়েরসা পপুলার-এর সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। তার নির্বাচনী হলফনামা অনুযায়ী, ২০২৫ সালে তিনি দলটি ছেড়ে দেন। এবার তিনি আহোরা নাসিওন দলের প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে অংশ নেন। তার রাজনৈতিক দলবদলও বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে উঠে এসেছে।
পেরুতে ‘হিটলার’ নামের রাজনীতিক নতুন নন
পেরুতে ‘হিটলার’ নামের কোনো রাজনীতিকের নির্বাচনে জয়ী হওয়ার ঘটনা এটিই প্রথম নয়। ২০১৮ সালে হিটলার আলবা সানচেজ নামের এক রাজনীতিক দেশটির আনকাশ অঞ্চলের ইয়ুঙ্গার জেলার মেয়র নির্বাচিত হয়েছিলেন। এ ছাড়া চিকিৎসক হিটলার সাভেদ্রা কাস্তেরনোক ২০২১ সালে পেরুর কংগ্রেসের সদস্য নির্বাচিত হন; ২০২৪ সালে তার মৃত্যু হয়। তবে এসব ব্যক্তির নামের সঙ্গে ঐতিহাসিক স্বৈরশাসকদের নামের মিল থাকলেও তাদের রাজনৈতিক অবস্থান বা ব্যক্তিগত বিশ্বাস সম্পর্কে মূল্যায়ন করতে হলে পৃথক তথ্য ও প্রমাণ প্রয়োজন।
ফ্লোরেসের নির্বাচনী জয় তাই শুধু একটি অস্বাভাবিক নামকে ঘিরে তৈরি হওয়া কৌতূহলের ঘটনা নয়; এটি পেরুর স্থানীয় রাজনীতিতে অল্প ভোটের ব্যবধানে প্রতিদ্বন্দ্বিতারও একটি উদাহরণ। শেষ পর্যন্ত তার মেয়র হিসেবে দায়িত্ব পালন এবং স্থানীয় প্রশাসনে কাজের ফলাফলই হবে তার রাজনৈতিক ভূমিকা মূল্যায়নের প্রধান ভিত্তি।
সূত্র: পলিটিকো ইউরোপ, ইউরোনিউজ ও দ্য গার্ডিয়ান
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন


