যুক্তরাষ্ট্রে মধ্যবর্তী নির্বাচন অনুষ্ঠিত হচ্ছে আজ মঙ্গলবার। নির্বাচনে মার্কিন আইনসভা কংগ্রেসের নিম্নকক্ষ প্রতিনিধি পরিষদের ৪৩৫ আসনেই ভোট হচ্ছে। এছাড়া উচ্চকক্ষ সিনেটের ৩৫ আসনে নির্বাচিত হবেন নতুন সদস্য। একই সঙ্গে ৩৬ রাজ্যে গভর্নর নির্বাচন অনুষ্ঠিত হচ্ছে। এর মধ্যে গতকাল সোমবার সর্বশেষ দিন প্রচার চালিয়েছে ক্ষমতাসীন রিপাবলিকান ও বিরোধী ডেমোক্রেটিক পার্টি।
শেষ মুহূর্তের প্রচারের দৌড়ে ডেমোক্র্যাটদের প্রতিই জোরালো সমর্থন অব্যাহত রয়েছে। বিভিন্ন জনমত জরিপ অনুযায়ী, সংখ্যাগরিষ্ঠ ভোটার ডেমোক্র্যাটদের প্রতিই সমর্থন জানিয়েছেন। গত রোববার প্রকাশিত নিউ ইয়র্ক টাইমস ও সিয়েনা বিশ্ববিদ্যালয়ের যৌথভাবে পরিচালিত জরিপে দেখা যায়, সমর্থনের দিক থেকে ডেমোক্র্যাট শিবির বেশ খানিকটা এগিয়ে রয়েছে। গত ২৩ অক্টোবর থেকে ১ নভেম্বর পর্যন্ত আলাস্কা, আইওয়া, ক্যানসাস, মেইন, ওহাইও, মিশিগান ও টেক্সাসের ৫,৭০৮ ভোটারের ওপর এ জরিপ চালানো হয়।
জরিপ অনুযায়ী সবগুলো রাজ্যেই ডেমোক্র্যাট প্রার্থী এগিয়ে রয়েছেন। অংশগ্রহণকারীদের সিনেট নির্বাচনের ক্ষেত্রে ৫০ শতাংশই ডেমোক্র্যাট প্রার্থীর প্রতি সমর্থন জানান। অন্যদিকে ৪৪ শতাংশ ভোটার রিপাবলিকানদের প্রতি সমর্থন জানান। অন্যদিকে রাজ্য গভর্নর নির্বাচনে ৫০ শতাংশ
ডেমোক্র্যাট প্রার্থীর পক্ষে সমর্থন জানান। রিপাবলিকান প্রার্থীর পক্ষে সমর্থন জানান
৪৩ শতাংশ। ভিন্ন ভিন্ন ভাবে সাত আসনেই ডেমোক্র্যাট প্রার্থীরা এগিয়ে রয়েছেন। এমনকি টেক্সাস ও ক্যানসাসের মতো রিপাবলিকান অধ্যুষিত আসনেও এগিয়ে রয়েছেন ডেমোক্র্যাটরা।
বর্তমানে সিনেটের ১০০-এর মধ্যে ৫৩ আসন নিয়ে সংখ্যাগরিষ্ঠতা রয়েছে রিপাবলিকানদের। অন্যদিকে ডেমোক্র্যাট সমর্থিত সদস্য রয়েছে ৪৭। সিনেটে সংখ্যাগরিষ্ঠতার জন্য ডেমোক্র্যাটদের আরো চারটি আসনে জয় পেতে হবে। তবে ডেমোক্র্যাটদের জন্য এ লড়াই কঠিন হয়ে পড়েছিল, কেননা সংখ্যাগরিষ্ঠতার জন্য প্রয়োজনীয় সব আসনই রিপাবলিকান ঘাঁটি থেকেই জিততে হবে। তবে জরিপ অনুযায়ী, রিপাবলিকানদের হাতে থাকা পাঁচ আসনে বর্তমানে ডেমোক্র্যাট প্রার্থীরা এগিয়ে রয়েছে। এগুলো হচ্ছে ক্যানসাস, মেইন, ওহাইও, টেক্সাস ও আলাস্কা। এছাড়া আইওয়াতে উভয় দলের প্রার্থীই সমান অবস্থানে রয়েছেন।
এদিকে জরিপ হওয়া মিশিগানের আসনটিতে বর্তমানে ডেমোক্র্যাট সদস্য রয়েছেন। এখানেও ডেমোক্র্যাট প্রার্থী আবদুর রহমান আল-সাইয়েদ ১২ পয়েন্টে এগিয়ে রয়েছেন। জরিপে অংশগ্রহণকারীদের ৫৩ শতাংশ আল-সাইয়েদের পক্ষে সমর্থন জানান। অন্যদিকে রিপাবলিকান প্রার্থী মাইক রজার্সের পক্ষে সমর্থন জানান ৪২ শতাংশ।
টেক্সাসে ১৯৮৮ সালের পর কোনো ডেমোক্র্যাট প্রার্থী জয় পাননি। কিন্তু জরিপ অনযায়ী এ আসনেও ডেমোক্র্যাট প্রার্থী জেমস ট্যালারিকো রিপাবলিকান প্রার্থী কেন প্যাক্সটন থেকে সাত পয়েন্টে এগিয়ে রয়েছেন। ৫০ শতাংশ ভোটার ট্যালারিকোকে সমর্থন দিয়েছেন। অন্যদিকে প্যাক্সিটনকে সমর্থন দিয়েছেন ৪৩ শতাংশ ভোটার।
অন্যদিকে ১৯৩২ সালের পর ক্যানসাসে জয় পাননি কোনো ডেমোক্র্যাট প্রার্থী। সেখানেও ডেমোক্রেটিক দলের অ্যাডাম হ্যামিল্টন ৯ পয়েন্টে এগিয়ে রয়েছেন। তার প্রতি সমর্থন রয়েছে ৪৯ শতাংশ ভোটারের। অন্যদিকে রিপাবলিকান প্রার্থী রজার মার্শালের প্রতি সমর্থন জানিয়েছেন ৪৪ শতাংশ ভোটার।
চলতি বছরের শুরুতেও টেক্সাস ও ক্যানসাসে ডেমোক্র্যাট নিয়ন্ত্রণের কোনো লক্ষণই ছিল না। কিন্তু মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রতি ক্ষোভের জেরে চিরায়ত সমর্থনের এমন বাঁকবদল হয়েছে।
গভর্নর নির্বাচনেও সমর্থনে এগিয়ে ডেমোক্র্যাট প্রার্থীরা
নিউ ইয়র্ক টাইমস/সিয়েনা জরিপে দেখা যায়, গভর্নর নির্বাচনেও সমর্থনের দিক এগিয়ে রয়েছে ডেমোক্র্যাটরা। আইওয়া, আলাস্কা, মেইন, মিশিগান ও ওহাইওতে ডেমোক্র্যাট প্রার্থীর প্রতি সংখ্যাগরিষ্ঠ সমর্থন রয়েছে। এছাড়া ক্যানসাস ও টেক্সাসের মতো রিপাবলিকান রাজ্যে সমানে সমান প্রতিযোগিতা চলছে।
টেক্সাসে বর্তমান গভর্নর গ্রেগ অ্যাবট চতুর্থ মেয়াদে নির্বাচন করছেন। তিনি তার ডেমোক্রেটিক প্রতিদ্বন্দ্বী জিনা ইনোহোসা থেকে সামান্য ব্যবধানে পিছিয়ে রয়েছেন। তার প্রতি সমর্থন রয়েছে ৪৭ শতাংশ ভোটারের। অন্যদিকে ইনোহোসার প্রতি সমর্থন রয়েছে ৪৮ শতাংশের। ইনোহোসা যদি নির্বাচিত হন, তবে তিনি হবেন রাজ্যের প্রথম হিস্পানিক নারী গভর্নর।
ক্যানসাসেও লড়াই অনেকখানি সমানে সমান চলছে। সেখানে ডেমোক্র্যাট প্রার্থীর প্রতি সমর্থন রয়েছে ৪৮ শতাংশের। অন্যদিকে রিপাবলিকান প্রার্থীর প্রতি সমর্থন রয়েছে ৪৭ শতাংশের।
এছাড়া মিশিগানে ৫২ বনাম ৩৯ শতাংশ, মেইনে ৪৯ বনাম ৩৭ শতাংশ, আইওয়ায় ৫১ বনাম ৪৩ শতাংশ, আলাস্কায় ৫৪ বনাম ৪৬ শতাংশ, ওহাইওতে ৪৯ বনাম ৪৩ শতাংশ সমর্থন নিয়ে ডেমোক্র্যাট প্রার্থীরা এগিয়ে রয়েছেন।
জরিপের সঙ্গে বাস্তবতার ব্যবধান
তবে জনমত জরিপে এগিয়ে থাকলেও যুক্তরাষ্ট্রের রাজনৈতিক ইতিহাসে ভিন্ন ফলাফল আসার উদাহরণ রয়েছে। ২০১৬ সালে বর্তমান মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রথম মেয়াদে কোনো জরিপেই তিনি জনপ্রিয় প্রার্থী ছিলেন না। কিন্তু জরিপের ফল ভুল প্রমাণ করে হোয়াইট হাউসে জায়গা করে নিয়েছিলেন তিনি। আবার ২০২০ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনেও ডেমোক্র্যাট প্রার্থী জো বাইডেনের সহজ জয়ের পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু ট্রাম্প প্রচণ্ড লড়াই করে অল্প ভোটের ব্যবধানে হেরে যান।
এ প্রসঙ্গে জরিপ সংস্থা ইপসোসের প্রেসিডেন্ট ক্লিফোর্ড ইয়াং ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসিকে বলেন, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে মার্কিন ভোটারদের কাছে পৌঁছানো কঠিন হয়ে পড়েছে। বেশির ভাগই যোগাযোগের ক্ষেত্রে ফোনকল রিসিভ করেন না বা জরিপের প্রশ্ন এড়িয়ে চলেন।
তিনি বলেন, ‘এর মধ্যে রক্ষণশীলরা আরো বেশি জরিপ এড়িয়ে চলতে চান। তারা কিছুতেই অংশ নিতে চান না। তারা পুরো সিস্টেমকেই ঘৃণা করেন। এটিই বর্তমানে বড় চ্যালেঞ্জ।’
যদি এভাবে রিপাবলিকান সমর্থকরা গণনায় বাদ পরে যান, সেখানে জরিপে শুধু ডেমোক্র্যাটদের তথ্যই প্রদর্শিত হয়। এ কারণে জরিপগুলো অনেক ক্ষেত্রেই সঠিক পূর্বাভাস দিতে ব্যর্থ হয়।
তবে জরিপের তথ্য কতটুকু সঠিক, তা জানা যাবে আজকের নির্বাচনের মধ্য দিয়ে।
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

