ইরানের সঙ্গে ইসরাইলের ও পশ্চিমা বিশ্বের চরম বৈরিতা ও সামরিক সংঘাত থাকলেও তেহরানের ইহুদিদের দৈনন্দিন জীবন ও শিক্ষা কার্যক্রমে তার বিপরীত এক অনন্য চিত্র দেখা গেছে। তেহরানের ইহুদি অধ্যুষিত একটি বিদ্যালয়ে ইহুদিদের ধর্মীয় প্রতীকের ঠিক পাশেই সম্মানের সঙ্গে টাঙানো রয়েছে ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির ছবি।
মার্কিন প্রভাবশালী আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম সিএনএন-এর এক বিশেষ অনুসন্ধানী ভিডিও প্রতিবেদনে ইরানের রাজধানী তেহরানের ইহুদিদের জীবনযাত্রার এই ব্যতিক্রমী ও বাস্তব চিত্র তুলে ধরা হয়েছে।

প্রতিবেদনে তেহরানের কেন্দ্রস্থলে অবস্থিত ‘মুসা ইবনে ইমরান’ বালক বিদ্যালয় পরিদর্শনের দৃশ্য দেখানো হয়। সেখানে দেখা যায়, শ্রেণিকক্ষের দেয়ালে একদিকে ইহুদি সংস্কৃতির অন্যতম প্রধান প্রতীক ঐতিহ্যবাহী মেনোরাহ, আর ঠিক তার পাশেই শোভা পাচ্ছে দেশটির সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ খামেনির প্রতিকৃতি।
বিদ্যালয়টিতে অধ্যয়নরত শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রায় সবাই ইহুদি ধর্মাবলম্বী। তবে সেখানে শিক্ষকতায় নিয়োজিত রয়েছেন ইহুদি ও মুসলিম উভয় সম্প্রদায়ের শিক্ষকরাই। ইরানি সাধারণ জাতীয় পাঠ্যক্রমের পাশাপাশি শিক্ষার্থীরা সেখানে তাদের ধর্মীয় অনুশাসন এবং হিব্রু ভাষার পাঠ গ্রহণ করছে। ধর্মীয় উৎসব সংক্রান্ত নির্দেশিকাগুলোও তাদের ফার্সি ও হিব্রু—উভয় ভাষাতেই শিক্ষা দেওয়া হচ্ছে।

একইভাবে ইহুদি বালিকা বিদ্যালয়ের পরিবেশেও ধর্ম ও স্থানীয় সংস্কৃতির এক অদ্ভুত মেলবন্ধন তুলে ধরা হয়েছে। সেখানে শিক্ষার্থীরা ফার্সি জনপ্রিয় গানের সঙ্গে মেতে ওঠার পাশাপাশি নিয়ম মেনে হিজাব পরিধান করছে, যা দেশটির নিয়মানুযায়ী সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের জন্যই প্রযোজ্য। শিক্ষার্থীরা স্পষ্ট জানিয়েছে, মুসলিম ও ইহুদিদের মধ্যে স্থানীয়ভাবে কোনো শত্রুতা নেই; বরং তারা পরস্পরের সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রেখে দীর্ঘদিন ধরে শান্তিতে বসবাস করে আসছে।
সিএনএন-এর প্রতিনিধি জানান, বাহ্যিকভাবে পশ্চিমা বিশ্বে ইরান সম্পর্কে যে ধরনের ধারণা প্রচলিত রয়েছে, তেহরানের ইহুদি স্কুলের এই দৃশ্যপট তার সম্পূর্ণ বিপরীত ও অপ্রত্যাশিত।
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন


