ফ্লাইদুবাইয়ের ঘটনায় ফায়দা হাসিলের চেষ্টা নেতানিয়াহুর

ফ্লাইদুবাইয়ের ঘটনায় ফায়দা হাসিলের চেষ্টা নেতানিয়াহুর

দুবাই থেকে তেল আবিবগামী ‘ফ্লাইদুবাইয়ে’ ছুরিকাঘাতের ঘটনা নিয়ে এখনো অনেক অনেক প্রশ্নের উত্তর মেলেনি। তদন্তে হামলাকারী সহকারী পাইলটের উদ্দেশ্য কী ছিল বা তিনি কারো নির্দেশে কাজ করেছিলেন কি না, তা এখনো নিশ্চিত নয়।

তবে ঘটনার পরপরই ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু হামলাটিকে ইসরাইলবিরোধী ‘প্রচারাণা’ ও ‘ইসলামপন্থি উগ্রবাদের’ সঙ্গে যুক্ত করার চেষ্টা করেন। তিনি ইরান ও তার মিত্র গোষ্ঠীগুলোর সম্ভাব্য ভূমিকার কথাও তুলে ধরেন। নেতানিয়াহু দাবি করেন, সহকারী পাইলট ‘ইসলামপন্থি উগ্রবাদী মতাদর্শে প্রভাবিত’ হয়েছিলেন। যদিও একই সঙ্গে তিনি স্বীকার করেন, হামলার প্রকৃত উদ্দেশ্য নির্ধারণের জন্য সময় প্রয়োজন।

বিজ্ঞাপন

নির্বাচনের আগে রাজনৈতিক বিতর্ক

ঘটনাটি ইসরাইলের আসন্ন পার্লামেন্ট নির্বাচনকে ঘিরে রাজনৈতিক বিতর্কও উসকে দিয়েছে। সমালোচকদের অভিযোগ, নিরাপত্তা সংকটকে সামনে এনে নেতানিয়াহু নিজের রাজনৈতিক অবস্থান শক্তিশালী করার চেষ্টা করছেন। সাবেক সরকারি কর্মকর্তা ড্যানিয়েল লেভি মনে করেন, ঘটনাটি ইরান-সংক্রান্ত উত্তেজনা বাড়ানোর পাশাপাশি নেতানিয়াহুর অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক সমস্যাগুলো থেকে দৃষ্টি সরাতে পারে।

লেভির মতে, ইরানের সঙ্গে কোনো যোগসূত্র প্রমাণিত হলে তা ইরানের বিরুদ্ধে আরো কঠোর সামরিক পদক্ষেপের পক্ষে নেতানিয়াহুর অবস্থানকে শক্তিশালী করতে পারে। তবে এটি যে বাস্তবে তার রাজনৈতিক অবস্থানকে কতটা প্রভাবিত করবে, তা এখনই বলা যাচ্ছে না।

নিরাপত্তা বিশ্লেষক আহরন ব্রেগম্যানও মনে করেন, নেতানিয়াহু ঘটনাটি থেকে রাজনৈতিক সুবিধা নেওয়ার চেষ্টা করেছেন। তবে তার মতে, হামলাটি নেতানিয়াহুর জন্য স্বয়ংক্রিয়ভাবে কোনো রাজনৈতিক লাভ বয়ে আনবে—এমন নিশ্চয়তা নেই। বরং হামলার মাধ্যমে বিমানবন্দরের নিরাপত্তা ও গোটা নিরাপত্তাব্যবস্থার দুর্বলতাও সামনে এসেছে।

ইরানের যোগসূত্র নিয়ে অনিশ্চয়তা

নেতানিয়াহুর বক্তব্যের বিপরীতে বিরোধীদলীয় নেতা ইয়ার লাপিদ দাবি করেন, ঘটনার আগের রাতে নেতানিয়াহুর কাছ থেকে পাওয়া নিরাপত্তা ব্রিফিংয়ে বিমান ছিনতাই বা এ ধরনের হামলার কোনো নির্দিষ্ট সতর্কতা উল্লেখ করা হয়নি। ফলে নেতানিয়াহুর আগের নিরাপত্তা সতর্কবার্তার সঙ্গে বিমান হামলার ঘটনাটির সরাসরি সম্পর্ক আছে কি না, তা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।

এদিকে ইসরাইলি প্রতিরক্ষামন্ত্রী হামলাটিকে ‘সন্ত্রাসী হামলার চেষ্টা’ হিসেবে অভিহিত করলেও, তদন্ত শেষ হওয়ার আগেই এর পেছনে নির্দিষ্ট কোনো গোষ্ঠী বা দেশের সংশ্লিষ্টতা নিশ্চিত করা হয়নি।

নেতানিয়াহু এর আগে ইসরাইলের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক সমালোচনাকেও নিরাপত্তা হুমকির বৃহত্তর প্রেক্ষাপটে তুলে ধরেছেন। জাতিসংঘে দেওয়া এক বক্তব্যে তিনি আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ইসরাইলবিরোধী প্রচারণার অভিযোগ করেন। তার বক্তব্য অনুযায়ী, ইসরাইলকে ঘিরে আন্তর্জাতিক সমালোচনা এবং ‘ঘৃণা’ দেশটির নিরাপত্তার জন্য নতুন একটি চ্যালেঞ্জ তৈরি করেছে।

তবে এসব বক্তব্যের সঙ্গে ফ্লাইদুবাইয়ে হামলার সরাসরি সম্পর্ক এখনো প্রতিষ্ঠিত হয়নি। হামলার উদ্দেশ্য, সহকারী পাইলটের মতাদর্শগত প্রভাব, সম্ভাব্য সহযোগী এবং ইরানের সঙ্গে কোনো যোগসূত্র—সবই তদন্তের ফলাফলের ওপর নির্ভর করছে। আপাতত নিশ্চিতভাবে বলা যায়, ঘটনাটি যেমন একটি গুরুতর বিমান-নিরাপত্তা প্রশ্ন তৈরি করেছে, তেমনি ইসরাইলের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতেও নতুন বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।

সূত্র: আল জাজিরা

আরএ

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন