খামেনির জানাজা চার মাস পর কেন

আমার দেশ অনলাইন
আমার দেশ অনলাইন

খামেনির জানাজা চার মাস পর কেন

ইতিহাসে খুব কম রাষ্ট্রীয় দাফন এত বড় পরিসর, এত বিশাল আয়োজন এবং এত গুরুত্ব নিয়ে অনুষ্ঠিত হয়েছে, যতটা আয়োজন করছে ইরান সরকার। দেশটির সাবেক সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের হামলায় নিহত হন। শুক্রবার থেকে শুরু হয়েছে তার শেষ বিদায়ের আনুষ্ঠানিকতা। আজ তাদের নেতার প্রতি শ্রদ্ধা জানাচ্ছেন ইরানের সাধারণ মানুষ।

যুদ্ধ চলার সময় নিরাপত্তার কারণে শেষকৃত্য কিছুদিন পিছিয়ে দেওয়া হয়েছিল। এখন তেহরানে মূল অনুষ্ঠান হচ্ছে। পরে ইরানের কোম ও মাশহাদ শহরে বড় শোকমিছিল হবে। পাশাপাশি ইরাকেও বিভিন্ন ধর্মীয় অনুষ্ঠান আয়োজন করা হচ্ছে।

বিজ্ঞাপন

খামেনির লাশ তিন দিন গ্র্যান্ড মোসাল্লায় রাখা হবে। পুরো স্থানটি তার ছবি ও বাণীসম্বলিত ব্যানারে সাজানো হয়েছে। এটিকে ইরানের ইতিহাসের সবচেয়ে বড় রাষ্ট্রীয় শেষ বিদায় বলা হচ্ছে।

জানাজা চার মাস পর কেন
ইসলামি রীতি অনুযায়ী মৃত্যুর পর দ্রুত দাফনের প্রচলন থাকলেও খামেনির দাফন তার মৃত্যুর চার মাসেরও বেশি সময় পর অনুষ্ঠিত হচ্ছে, যা অত্যন্ত অস্বাভাবিক। দীর্ঘদিন দাফন না হওয়ায় এমনও গুঞ্জন ওঠে যে, খামেনির লাশ সাময়িকভাবে দাফন করা হয়েছিল।

তবে ইরানি কর্মকর্তারা তা নাকচ করে দিয়ে জোর দিয়ে বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের সঙ্গে চলমান যুদ্ধ এবং নিরাপত্তাজনিত অস্থিতিশীল পরিস্থিতির কারণেই বিলম্বিত হয়েছে দাফন। তাদের দাবি, পুরো সময়জুড়ে লাশ ধর্মীয় বিধান মেনেই সংরক্ষণ করা হয়েছে। ইসলামে সাধারণত রাসায়নিক পদার্থ ব্যবহার করে লাশ সংরক্ষণ নিরুৎসাহিত করা হয়।

সন্ত্রাসবাদবিষয়ক বিশ্লেষক ড. মোহাম্মদ ওমর ফক্স নিউজকে বলেন, ‘খামেনির লাশ প্রায় নিশ্চিতভাবেই রাসায়নিক সংরক্ষণ নয়, বরং হিমায়িত শীতল সংরক্ষণাগারে রাখা হয়েছিল। কারণ ইসলামে রাসায়নিক সংরক্ষণ অনুমোদিত নয়।’

তিনি বলেন, ‘ব্যতিক্রমী পরিস্থিতিতে শিয়া শরিয়তে দাফনে বিলম্ব এবং শীতল পরিবেশে লাশ সংরক্ষণের অনুমতি রয়েছে। আর সর্বোচ্চ নেতার ক্ষেত্রে ধর্মীয় অনুমোদন পাওয়াও কঠিন নয়।’

আরএ

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন