মতপার্থক্যের কারণে অন্য মুসলিমদের সহজেই মুনাফিক বা ধর্মত্যাগী আখ্যা দেওয়ার সমালোচনা করেছেন মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিম। তিনি বলেছেন, ধর্ম সম্পর্কে সীমিত জ্ঞান অর্জন করেই অনেকে অন্যদের বিচার করতে শুরু করেন। অথচ নিজেদের জ্ঞান বাড়ানো এবং প্রজ্ঞার সঙ্গে মতপার্থক্য মোকাবিলা করা উচিত।
বুধবার মালয়েশিয়ার সেরি পেরদানা কমপ্লেক্সে আয়োজিত ‘মাজলিস ইলমু মাদানি’ অনুষ্ঠানে বক্তব্য দিতে গিয়ে এসব কথা বলেন আনোয়ার। অনুষ্ঠানে ইন্দোনেশিয়ার ধর্মীয় পণ্ডিত উস্তাজ আবদুল সামাদও উপস্থিত ছিলেন। তিনি সেখানে ধর্মীয় আলোচনা করেন।
আনোয়ার বলেন, “আজ আমাদের অনেক সমস্যা রয়েছে। মানুষ ধর্ম সম্পর্কে সামান্য কিছু শিখেই অন্যদের বিচার করতে শুরু করে। তারা তাকফিরি হয়ে ওঠে, অন্যদের ধর্মত্যাগী ঘোষণা করে এবং মুনাফিক বলে আখ্যা দেয়।”
ইসলামি মূল্যবোধের সঙ্গে এ ধরনের আচরণ সংগতিপূর্ণ নয় উল্লেখ করে মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী বলেন, মুসলিম সম্প্রদায়কে শক্তিশালী করার প্রচেষ্টা শুরু হওয়া উচিত জ্ঞান অর্জন ও ইসলাম সম্পর্কে গভীর উপলব্ধি তৈরির মধ্য দিয়ে। অন্যদের নিন্দা করা কিংবা বিভিন্ন তকমা দেওয়ার প্রবণতা এ ক্ষেত্রে সহায়ক নয়।
তিনি বলেন, ইসলামি শিক্ষাকে শক্তিশালী করার উদ্যোগের অংশ হিসেবে সরকার ধর্মীয় আলেম ও শিক্ষকদের মতামত নিয়েছে। জাতীয় বাজেট প্রণয়নের ক্ষেত্রেও এ বিষয়ে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
আনোয়ার জানান, সরকার ঐতিহ্যবাহী ইসলামি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোকে পুনরুজ্জীবিত করার কাজ করছে। এর মধ্যে রয়েছে পন্ডক স্কুল ও পেসানত্রেনের মতো প্রতিষ্ঠান। পাশাপাশি ‘তুরাস’ নামে পরিচিত ইসলামি পণ্ডিতদের রচিত প্রাচীন ও ধ্রুপদি গ্রন্থগুলোর অধ্যয়নেও উৎসাহ দেওয়া হচ্ছে।
তিনি বলেন, “আগে আমরা শেখ, ধর্মীয় শিক্ষক ও তুয়ান গুরুর মতো ব্যক্তিদের উপেক্ষা করতাম। আমরা তাদের এখানে আমন্ত্রণ জানিয়েছি, তাদের মতামত নিয়েছি। তারা বলেছিলেন, সবকিছু ঠিক আছে। কিন্তু একটি বড় দুর্বলতা ছিল। সেটি কী? আপনারা তুরাস নিয়ে গভীরভাবে পড়াশোনা করছিলেন না।”
আনোয়ার বলেন, “তাই আমরা এসব প্রাচীন গ্রন্থের অধ্যয়ন পুনরুজ্জীবিত করার পরিকল্পনা করেছি।”
তবে ইসলামি শিক্ষা জোরদারে সরকারের উদ্যোগের পরও কিছু মহল সরকারের নেতা ও বাজেটকে মুনাফিক বলে আখ্যা দেওয়ায় হতাশা প্রকাশ করেন তিনি।
আনোয়ার বলেন, “সংসদে যখন বাজেট নিয়ে আলোচনা হয়, তখন তারা নেতাকে মুনাফিক বলে, বাজেটকেও মুনাফিকি বলে আখ্যা দেয়।”
এ ধরনের বক্তব্যের জবাবে পাল্টা আক্রমণ না করে ধৈর্য ধরার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বলে জানান মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী। তার মতে, যারা ইসলামের পক্ষে কথা বলার দাবি করেন, তাদের নিজেদের আচরণেও আরো ভালো উদাহরণ তৈরি করা উচিত।
তিনি বলেন, “তারা কোনো সাহায্য করছে না। চরিত্র, ব্যক্তিগত আচরণ, মধ্যপন্থা ও সহনশীলতার ক্ষেত্রেও তারা ভালো উদাহরণ স্থাপন করছে না।”
আনোয়ার আরো বলেন, বিভিন্ন ধর্ম ও পটভূমির মানুষ পাশাপাশি বসবাস করেন—এমন মালয়েশিয়ার মতো দেশে প্রজ্ঞা, সদুপদেশ ও পারস্পরিক শ্রদ্ধার ভিত্তিতে আলোচনা করা বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ। মতপার্থক্য থাকলেও পরস্পরের প্রতি সম্মান বজায় রাখার ওপর তিনি গুরুত্ব দেন।
সূত্র: দ্য ভাইবস
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন


