ইংল্যান্ডে তরুণদের মধ্যে ঘনিষ্ঠ বন্ধুত্ব কমে যাওয়ায় একাকিত্ব ও সামাজিক বিচ্ছিন্নতা উদ্বেগজনক মাত্রায় পৌঁছেছে। বিশেষ করে জেন-জেড ও তরুণ প্রজন্মের মধ্যে এই প্রবণতা তাদের আত্মবিশ্বাস, মানসিক সুস্থতা এবং ভবিষ্যৎ নিয়ে আশাবাদকে প্রভাবিত করছে। বিষয়টি নিয়ে সতর্ক করেছে যুক্তরাজ্যের গবেষণা প্রতিষ্ঠান ইনস্টিটিউট ফর পাবলিক পলিসি রিসার্চ (আইপিপিআর)।
ইংল্যান্ডের ১১ থেকে ২৪ বছর বয়সি তরুণদের মধ্যে ঘনিষ্ঠ বন্ধুত্বের সংকট দ্রুত বাড়ছে। ২০১৪ সালের তুলনায় ঘনিষ্ঠ বন্ধু নেই—এমন তরুণের সংখ্যা প্রায় পাঁচ গুণ বেড়েছে। ১৬ থেকে ২১ বছর বয়সিদের মধ্যে অন্তত তিনজন ঘনিষ্ঠ বন্ধু থাকার হারও ২০১২–১৪ সালের ৮৫ শতাংশ থেকে ২০২৩–২৫ সময়ে ৭২ শতাংশে নেমে এসেছে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের অতিরিক্ত ব্যবহার, কোভিড-১৯ মহামারির দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব এবং তরুণদের জন্য বিভিন্ন সামাজিক পরিসর সংকুচিত হয়ে যাওয়ার সঙ্গে এই বিচ্ছিন্নতার সম্পর্ক রয়েছে। একসময় তরুণদের সামাজিক যোগাযোগ ও বন্ধুত্ব তৈরির গুরুত্বপূর্ণ জায়গা হিসেবে কাজ করা ইয়ুথ ক্লাবসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান বন্ধ হয়ে যাওয়াও পরিস্থিতিকে আরও জটিল করেছে।
তবে আইপিপিআর বলছে, বর্তমান তরুণ প্রজন্মকে আগের প্রজন্মের তুলনায় কম সহনশীল বা সামাজিকভাবে দুর্বল হিসেবে দেখলে সমস্যার প্রকৃত কারণ আড়াল হয়ে যাবে। বরং আবাসনের উচ্চ ব্যয়, শিক্ষার্থী ঋণ, প্রবেশপর্যায়ের চাকরির সংকট, কমে যাওয়া শিক্ষানবিশের সুযোগ এবং পর্যাপ্ত মানসিক স্বাস্থ্য সহায়তার অভাব তরুণদের ওপর বাড়তি চাপ তৈরি করছে।
দারিদ্র্য ও সামাজিক বৈষম্যও এই সংকটকে আরও তীব্র করছে। অপেক্ষাকৃত দরিদ্র এলাকার তরুণদের জীবন নিয়ে সন্তুষ্টি ও ভবিষ্যৎ সম্পর্কে আশাবাদ কমে যাওয়ার প্রবণতা বেশি। ফলে একাকিত্বকে শুধু ব্যক্তিগত সমস্যা হিসেবে না দেখে বৃহত্তর সামাজিক ও অর্থনৈতিক সংকটের অংশ হিসেবে বিবেচনার প্রয়োজন রয়েছে।
তরুণদের সঙ্গে সমাজ ও রাষ্ট্রের যে সামাজিক চুক্তি থাকার কথা, তা দুর্বল হয়ে পড়ছে। শুধু ব্যক্তিগত উদ্যোগে এই সংকট মোকাবিলা সম্ভব নয়। তরুণদের জন্য সাশ্রয়ী আবাসন, কর্মসংস্থানের সুযোগ, নিরাপদ সামাজিক পরিসর এবং স্থানীয় পর্যায়ে কমিউনিটি কার্যক্রম বাড়ানোর মতো নীতিগত উদ্যোগ প্রয়োজন।
অনলাইন যোগাযোগ বাস্তব জীবনের বন্ধুত্বের বিকল্প হতে পারে না। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিপুল সংখ্যক মানুষের সঙ্গে যুক্ত থাকা সত্ত্বেও একজন তরুণ বাস্তব জীবনে একাকী হয়ে পড়তে পারেন। তাই তরুণদের জন্য পরিবার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, স্থানীয় কমিউনিটি ও রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে অর্থবহ সামাজিক সম্পর্ক তৈরির সুযোগ সৃষ্টি করা জরুরি।
তরুণদের মধ্যে বন্ধুত্ব ও সামাজিক বন্ধন দুর্বল হয়ে পড়ার এই প্রবণতা শুধু মানসিক স্বাস্থ্যের প্রশ্ন নয়; এর সঙ্গে সমাজের সামগ্রিক সংহতি, পারস্পরিক আস্থা ও ভবিষ্যৎ প্রজন্মের নাগরিক অংশগ্রহণও জড়িত। ফলে একাকিত্ব মোকাবিলাকে জনস্বাস্থ্য ও সামাজিক নীতির গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে দেখার আহ্বান জানানো হচ্ছে।
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

