আমার দেশ জনপ্রিয় বাংলা নিউজ পেপার

ট্রাম্প-কুশনারের পরিকল্পনা ব্যর্থ হওয়ার আশঙ্কা

গাজা কোনো কল্পনার রিয়েল এস্টেট নয়

আমার দেশ অনলাইন

গাজা কোনো কল্পনার রিয়েল এস্টেট নয়
ছবি: সংগৃহীত।

গাজার ধ্বংসযজ্ঞ জরুরি পুনর্গঠনের দাবি রাখে, এ নিয়ে কোনো দ্বিমত নেই। তবে এই পুনর্গঠন যদি মানুষের বাস্তব অভিজ্ঞতা, অধিকার ও ইতিহাসকে পাশ কাটিয়ে কেবল বিনিয়োগ ও মুনাফার ভাষায় উপস্থাপিত হয়, তাহলে তা পুনরুদ্ধারের বদলে নতুন সংকট ডেকে আনবে। সাম্প্রতিক সময়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠ উপদেষ্টা ও জামাতা জ্যারেড কুশনারের প্রস্তাবিত দৃষ্টিভঙ্গি সেই আশঙ্কাই বাড়াচ্ছে।

বিজ্ঞাপন

কুশনারের কল্পনায় গাজা একটি মানসিকভাবে বিপর্যস্ত, অবরুদ্ধ সমাজ নয়; বরং বিলাসবহুল আবাসন, বাণিজ্যিক অঞ্চল, ডেটা হাব ও সমুদ্র সৈকতের প্রমোনাদে ভরা একটি বিনিয়োগ ক্যানভাস। তার বুলিতে পুনর্গঠন কম, রিয়েল এস্টেট প্রসপেক্টাস বেশি। এখানে রাজনৈতিক বাস্তবতার বিপরীতে জায়গা করে নিয়েছে উন্নয়নের শব্দচয়ন, ন্যায়বিচারের জায়গা নিয়েছে বাজার।

কিন্তু গাজা কোনো ব্যর্থ স্টার্টআপ নয়। এটি দুই মিলিয়নেরও বেশি ফিলিস্তিনির আবাসভূমি, যারা কয়েক দশক ধরে ইসরাইলি অবরোধ, বাস্তুচ্যুতি ও বারবার আগ্রাসনের শিকার। পুনর্গঠন কখনোই সফল হবে না যদি গাজাকে একটি অর্থনৈতিক সম্পদ হিসেবে দেখা হয়, মানব সম্প্রদায় হিসেবে নয়।

অনেক ফিলিস্তিনি পরিবারের কাছে গাজার সাধারণ ঘরগুলো শুধু বসবাসের জায়গা ছিল না। এগুলো ছিল স্মৃতি, সামাজিক বন্ধন ও ১৯৪৮ সালে উচ্ছেদ হওয়া ভূমিতে ফিরে যাওয়ার অধিকারের প্রতীক। এই ঘরগুলোর মূল্য বাজারদরে নয়, রাজনৈতিক ও ঐতিহাসিক অর্থে।

বাক্য এবং বাস্তবতার মধ্যে পার্থক্য এত তীব্র হতে পারে না। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং বিশ্ব নেতাদের একটি দল যখন তথাকথিত শান্তি বোর্ডের সনদে স্বাক্ষর করতে এবং চকচকে পুনর্গঠন পরিকল্পনা উন্মোচন করতে সুইজারল্যান্ডের দাভোসে একত্রিত হয়েছেন তখনও গাজায় হত্যাকাণ্ড অব্যাহত ছিল।

১০ অক্টোবর যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পর থেকে, কমপক্ষে ৪৮০ জন ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। বিশ্বের ১৯ জন মন্ত্রী এবং রাষ্ট্রীয় প্রতিনিধি যখন সনদে স্বাক্ষর করেছিলেন সেদিনও চারজন ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন।

চকচকে টাওয়ার কিংবা বিলাসবহুল ভিলার প্রতিশ্রুতি তাই ফিলিস্তিনিদের আকৃষ্ট করতে পারে না। কারণ তাদের অভিজ্ঞতা বলে, বস্তুগত উন্নতি কখনোই মর্যাদা, স্বদেশে ফেরার অধিকার ও আত্মপরিচয়ের বিকল্প হতে পারে না। গাজা পুনর্গঠন তখনই অর্থবহ হবে, যখন তা ফিলিস্তিনিদের অধিকার ও ইতিহাসের স্বীকৃতির সঙ্গে যুক্ত হবে।

আলজাজিরায় সুলতান বারাকাতের মতামত নিবন্ধ থেকে সংক্ষিপ্তাকারে অনূদিত।

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

এলাকার খবর
Loading...