গাজায় ইসরাইলি হামলায় একের পর এক সাংবাদিক হত্যার ঘটনায় তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের বেশ কয়েকজন প্রভাবশালী ডেমোক্র্যাটিক সিনেটর। তারা সাংবাদিকদের সুরক্ষা ও সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা নিশ্চিত করতে ইসরাইলের ওপর চাপ সৃষ্টির জন্য ট্রাম্প প্রশাসনের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন।
বৃহস্পতিবার তুরস্কভিত্তিক গণমাধ্যম আনাদোলু এজেন্সির এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়।
এতে বল হয়, বুধবার সিনেটর ব্রায়ান শ্যাটজের নেতৃত্বে ছয়জন সিনেটর এক যৌথ চিঠিতে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিওকে এই বিষয়ে ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানান। চিঠিতে স্বাক্ষর করেন সিনেটর ক্রিস ভ্যান হোলেন, জেফ মার্কলি, এলিজাবেথ ওয়ারেন, পিটার ওয়েলচ এবং স্বতন্ত্র সিনেটর বার্নি স্যান্ডার্স।
চিঠিতে তারা উল্লেখ করেন, গত ১০ আগস্ট গাজার আল-শিফা হাসপাতালের কাছে সাংবাদিকদের একটি তাঁবুতে ইসরাইলি বিমান হামলায় আল জাজিরার প্রতিবেদক আনাস আল-শরিফ, সাংবাদিক মোহাম্মদ ক্রাইকিয়া, তিনজন ক্যামেরা অপারেটর এবং একজন ফ্রিল্যান্স রিপোর্টার নিহত হন।
গাজা সরকারি মিডিয়া অফিস জানিয়েছে, ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর থেকে ইসরাইলি হামলায় এখন পর্যন্ত ২৩৮ জন সাংবাদিক নিহত হয়েছেন।
চিঠিতে সিনেটররা অভিযোগ করেন, ইসরাইল দাবি করলেও আল-শরিফ হামাসের সদস্য ছিলেন এমন কোনও "প্রত্যয়জনক প্রমাণ" দিতে পারেনি তারা। তারা বলেন, সাংবাদিকদের লক্ষ্যবস্তু করা হলে তা আন্তর্জাতিক মানবাধিকার আইনের লঙ্ঘন হিসেবে গণ্য হবে।
তারা আরও বলেন,“এই হামলার সামরিক উদ্দেশ্যের স্পষ্ট ব্যাখ্যা না থাকায়, এটিকে ইসরাইলের স্বীকারোক্তি হিসেবে ধরা যায় যে তারা ইচ্ছাকৃতভাবে সাংবাদিকদের হত্যা করছে, যারা বিশ্বকে গাজার বাস্তবতা দেখাচ্ছেন।”
চিঠিতে আরও আহ্বান জানানো হয়, ইসরাইল যেন আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমকে গাজায় প্রবেশের অনুমতি দেয় এবং সেন্সরশিপ প্রত্যাহার করে। সিনেটরদের মতে, সাংবাদিকদের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ যুক্তরাষ্ট্রের বিশ্বব্যাপী বিশ্বাসযোগ্যতাকেই ক্ষুণ্ন করছে।
এদিকে, গাজার চলমান মানবিক সংকটে এ পর্যন্ত ইসরাইলি অভিযানে ৬২,১০০ এর বেশি ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন, যা অঞ্চলটিকে এক গভীর মানবিক বিপর্যয়ের দিকে ঠেলে দিয়েছে।
প্রসঙ্গত, গত নভেম্বর মাসে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত ইসরাইলি প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু ও সাবেক প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইয়োভ গ্যালান্টের বিরুদ্ধে যুদ্ধাপরাধ ও মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করে। পাশাপাশি, ইসরাইল এখন আন্তর্জাতিক বিচার আদালতেও গণহত্যার মামলার মুখোমুখি।
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

