কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই মানুষের নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যেতে পারে—গবেষকদের এমন সতর্কবার্তায় এই প্রযুক্তির নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ ক্রমেই বাড়ছে। সম্প্রতি একজন কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা গবেষক দাবি করেছেন যে, পৃথিবীর গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোগুলোকে হ্যাক করে এর নিয়ন্ত্রণ নিতে পারবে এআই।
এমন সম্ভাব্য পরিস্থিতির কথা বলেছেন ব্রিটিশ কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা গবেষক জ্যাকব কক্সটন। তিনি আগে ওপেনএআই ও পরে অ্যানথ্রপিকে গবেষক হিসেবে কাজ করেছেন। চলতি মাসের শুরুতে পদত্যাগের সময় তিনি মানবজাতির জন্য এআইয়ের ঝুঁকি নিয়ে সতর্ক করে বলেছিলেন, প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলো ‘মানুষের জীবন নিয়ে জুয়া খেলছে’।
কক্সটনের ভাষ্য, এআইয়ের অবিশ্বাস্য দ্রুত অগ্রগতির কারণে একসময় যেসব বিষয় কেবল বিজ্ঞান কল্পকাহিনির অংশ ছিল, সেগুলো এখন বাস্তবে পরিণত হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।
তার দেওয়া একটি উদাহরণ হলো—এআই পৃথিবীর গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোগুলোতে সাইবার হামলা চালাতে পারে। তার কল্পিত পরিস্থিতিতে নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাওয়া কোনো এআই ইন্টারনেট সেবাদাতা প্রতিষ্ঠান কিংবা বিদ্যুৎ গ্রিডের মতো গুরুত্বপূর্ণ নেটওয়ার্কে প্রবেশ করতে পারে।
এ ধরনের অবকাঠামো অচল হয়ে গেলে বিদ্যুৎ, তাপ নিয়ন্ত্রণ, শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ ও ইন্টারনেট সংযোগের মতো মৌলিক সেবা ব্যাহত হতে পারে। এর ফলে ব্যাপক বিশৃঙ্খলা তৈরি হতে পারে। কেউ কেউ আরও ভয়াবহ পরিস্থিতির কথা বলে সম্ভাব্য পারমাণবিক বিপর্যয়ের আশঙ্কাও করেছেন।
সম্প্রতি প্রকাশিত কিছু পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, আগামী এক দশকের মধ্যে এআইয়ের কারণে পুরো মানবজাতি নিশ্চিহ্ন হয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা ১০ শতাংশেরও বেশি। তবে এআই খাতের অনেকেই এমন আশঙ্কার বাস্তবতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। তাদের মতে, এআইয়ের সবচেয়ে বড় ঝুঁকি হয়তো মানুষের বিরুদ্ধে এআইয়ের ব্যবহার নয়, বরং মানুষই এআইকে ব্যবহার করে অন্য মানুষের ওপর বড় ধরনের ক্ষতি করতে পারে।
এ ধরনের ভয়াবহ ভবিষ্যৎ নিয়ে সতর্ক করা এআই বিশেষজ্ঞদের একটি অংশকে প্রায়ই ‘এআই ডুমার’ বলা হয়। কিন্তু প্রশ্ন হলো, তাদের কল্পিত পরিস্থিতিতে ঠিক কীভাবে একটি এআই ব্যবস্থা মানবজাতির অস্তিত্বের জন্য হুমকি হয়ে উঠতে পারে
সূত্র: বিবিসি বাংলা
এমএমআর
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন


