মার্কিন নির্বাচনে ডেমোক্র্যাটদের জয়ে বিশ্বজুড়ে তোলপাড়, যা বলছেন বিশ্বনেতারা

মার্কিন নির্বাচনে ডেমোক্র্যাটদের জয়ে বিশ্বজুড়ে তোলপাড়, যা বলছেন বিশ্বনেতারা

যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে ক্ষমতাসীন রিপাবলিকানদের বড় ব্যবধানে হারিয়ে সিনেট ও প্রতিনিধি পরিষদের নিয়ন্ত্রণ নিয়েছে বিরোধী ডেমোক্র্যাটরা। ওয়াশিংটনের এই নাটকীয় ক্ষমতার পালাবদলকে ঘিরে তোলপাড় শুরু হয়েছে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে। বিশ্লেষক ও বিশ্বনেতাদের বড় অংশের মতে, এই ফলাফল সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের আগ্রাসী যুদ্ধনীতি ও উগ্র জাতীয়তাবাদের বিরুদ্ধে সাধারণ আমেরিকানদের স্পষ্ট অনাস্থার বহিঃপ্রকাশ। বিশেষ করে তেলের দাম বৃদ্ধি, ইরান যুদ্ধ ও লাগামহীন মূল্যস্ফীতিই রিপাবলিকানদের ভরাডুবির প্রধান কারণ হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে।

ফলাফল ঘোষণার পর থেকেই বিশ্বনেতাদের মিশ্র ও তাৎপর্যপূর্ণ প্রতিক্রিয়া আসতে শুরু করেছে।

বিজ্ঞাপন

ওবামা ও সানচেজ

সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা এই ঐতিহাসিক বিজয়কে স্বাগত জানিয়ে বলেন, বিভক্ত করার রাজনীতির বিরুদ্ধে দেশের মানুষ আজ স্পষ্ট বার্তা দিয়েছে। সমাধানমুখী এবং মানুষকে ঐক্যবদ্ধ করার রাজনীতিই আমেরিকানরা বেছে নিয়েছে। অন্যদিকে স্পেনের প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সানচেজ মন্তব্য করেন, মানুষ এমন নীতির বিরুদ্ধে রায় দিয়েছে যা জনগণকে দরিদ্র করে এবং সমাজে ঘৃণা ও লিঙ্গবৈষম্য ছড়ায়। অভিজাত শ্রেণির সুযোগ-সুবিধার বিপরীতে এটি গণমানুষের জয়।

ইরান

ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ এই ফলাফলকে যুদ্ধবিরোধী গণরায় হিসেবে আখ্যা দিয়ে বলেন, ‘আমেরিকান জনগণ যুদ্ধকে ‘না’ বলে দিয়েছে এবং আমরা এই বার্তাকে সমর্থন করি।’ তবে তিনি হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেন, আন্তর্জাতিক ব্ল্যাকমেইলারদের তুষ্ট করতে ওয়াশিংটন যদি তাদের জনগণের ইচ্ছার সাথে বিশ্বাসঘাতকতা করে, তবে সেই ‘না’-এর পরিণতি তাদের জন্য দুঃস্বপ্নে রূপ নেবে।

ইউরোপের সতর্কতা

ইউরোপীয় পার্লামেন্টের আন্তর্জাতিক বাণিজ্য কমিটির প্রধান বার্নড ল্যাঞ্জ এই ফলাফলকে গণতন্ত্রের বড় জয় আখ্যা দিয়ে বলেন, ট্রাম্প কেবল নিজের স্বার্থ নিয়ে ভাবতেন, আজ ভোটাররা তাকে সেই মূল্য বুঝিয়ে দিয়েছেন। তবে তিনি সতর্ক করে বলেন, রাজনৈতিকভাবে কোণঠাসা ট্রাম্প এখন আরো বেশি আক্রমণাত্মক ও বিপজ্জনক হয়ে উঠতে পারেন। জার্মানির কট্টর ডানপন্থি দল এএফডি-র নেত্রী অ্যালিস ওয়েইডেল বলেন, ভোটারদের কাছে হস্তক্ষেপহীন পররাষ্ট্রনীতির প্রতিশ্রুতি দিয়ে তা ভঙ্গ করাই ট্রাম্পের জন্য কাল হয়ে দাঁড়িয়েছে। ফ্রান্সের প্রভাবশালী নেতা জর্ডান বারদেলা উল্লেখ করেন, ইরানে মার্কিন আগ্রাসনের কারণে বিশ্ববাজারে জ্বালানির যে মূল্যবৃদ্ধি ঘটেছে, তা সরাসরি ইউরোপের নাগরিকদের জীবনযাত্রায় আঘাত হেনেছে এবং নির্বাচনে ভোটাররা এর প্রতিফলন ঘটিয়েছেন।

রাশিয়া

নির্বাচনের ফলাফলে মস্কোর নীতিতে কোনো পরিবর্তন আসবে না বলে সাফ জানিয়ে দিয়েছে ক্রেমলিন। রুশ উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই রিয়াবকভ জানান, ডেমোক্র্যাটদের অবস্থান ঐতিহাসিকভাবেই রাশিয়ার বিপক্ষে, তবে ইউক্রেন সংকট বা পররাষ্ট্রনীতিতে মস্কো কোনো দেশের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক পরিবর্তনের ওপর নির্ভর করে না। অন্যদিকে ক্রেমলিন মুখপাত্র দিমিত্রি পেসকভ ট্রাম্পের শান্তি আলোচনার প্রক্রিয়া অব্যাহত রাখার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন।

জাপান

জাপানের প্রধান মন্ত্রিপরিষদ সচিব মিনোরু কিহারা জানিয়েছেন, ক্ষমতার রদবদল হলেও জাপান-মার্কিন নিরাপত্তা জোটের কোনো পরিবর্তন হবে না। তাইওয়ানও আশা প্রকাশ করেছে যে কংগ্রেসে তাদের জোরালো দ্বিপক্ষীয় সমর্থন বজায় থাকবে।

আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, প্রতিনিধি পরিষদ ও সিনেট ডেমোক্র্যাটদের হাতে চলে যাওয়ায় ট্রাম্প প্রশাসনের শেষ দুই বছরের মেয়াদ চরম রাজনৈতিক অচলাবস্থা, অভিশংসন ও ভেটোর লড়াইয়ের মধ্য দিয়ে কাটবে। একই সঙ্গে মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন যুদ্ধনীতি ও ইউক্রেন সহায়তার ক্ষেত্রেও ওয়াশিংটনকে এখন থেকে নতুন এক বাস্তবতার মুখোমুখি হতে হবে।

সূত্র: রয়টার্স

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন