আমার দেশ জনপ্রিয় বাংলা নিউজ পেপার

বিজেপি শাসিত রাজ্যে বাড়ছে ভিন্ন রাজ্যের কর্মীদের ওপর হামলা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

বিজেপি শাসিত রাজ্যে বাড়ছে ভিন্ন রাজ্যের কর্মীদের ওপর হামলা
ছবি: সংগৃহীত

কাজের সন্ধানে ভারতের পশ্চিমবঙ্গ থেকে অনেকেই ‘পরিযায়ী কর্মী’ হয়ে যান অন্য রাজ্যে। বিশেষ করে মুর্শিদাবাদসহ অন্যান্য জেলার মুসলমানদের সংখ্যাই বেশি। কিন্তু সমস্যা দেখা দিয়েছে অন্য স্থানে। ক্ষমতাসীন হিন্দুত্ববাদী বিজেপিশাসিত রাজ্যগুলোতে এসব মুসলিম কর্মী নানাভাবে নির্যাতনের শিকার হচ্ছেন। ওড়িশা রাজ্যে এমন ঘটনা আগের চেয়ে অনেক বেড়েছে। ফলে সেখানকার পরিযায়ী মুসলিম কর্মীরা প্রাণভয়ে কর্মক্ষেত্র ছেড়ে নিজ রাজ্যে ফিরে আসতে বাধ্য হচ্ছেন।

২০২৫ সালজুড়ে ভারতের বিভিন্ন স্থানে মুসলিম নির্যাতনের সংখ্যা ছিল চোখে পড়ার মতো। চলতি বছরের ৪ জানুয়ারি ওড়িশার সম্বলপুরে ঘটেছে মুসলিম নির্যাতনের আরেক ঘটনা। সেখানে মুর্শিদাবাদ জেলা থেকে যাওয়া এক কর্মীকে লাঞ্ছিত করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে বিজেপির বিরুদ্ধে। তাদের নির্যাতনে হাত ভেঙে গেছে সেই কর্মীর। ভারতীয় সংবাদমাধ্যম টেলিগ্রাফ ইন্ডিয়া মঙ্গলবার এক প্রতিবেদনে এমন তথ্য জানিয়েছে।

বিজ্ঞাপন

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ওড়িশাসহ বিজেপিশাসিত রাজ্যগুলোতে কোনোভাবেই থামছে না মুসলিম নির্যাতন। এক্ষেত্রে ‘বাংলাদেশি’ ট্যাগ দিয়ে তাদের ওপর নির্যাতন করা হচ্ছে। এ অবস্থায় কর্ম হারিয়ে অনেকেই বেকার হয়ে পড়েছেন। এর মধ্যে সর্বশেষ নির্যাতনের শিকার হয়েছেন মুর্শিদাবাদ জেলার ধুলিয়ানের বাসিন্দা ২৭ বছর বয়সি এজাজ আলী। পেশায় রাজমিস্ত্রি এজাজ দুই মাস আগে কাজের সন্ধানে সম্বলপুর জেলার পিঠেবালি এলাকায় গিয়েছিলেন। গত সপ্তাহে একদল লোক তার এবং অন্যান্য শ্রমিকের বাড়িতে ঢুকে তাদের আধার ও ভোটার পরিচয়পত্র দেখতে চায়। নথিপত্র পরীক্ষা করার পর তারা এজাজ আলীসহ অন্যদের কাগজপত্র ছিঁড়ে ফেলে এবং শ্রমিকদের ‘বাংলাদেশি’ বলে অভিযোগ করে।

এরপর এজাজসহ অন্যদের লাঠি ও রড দিয়ে মারধর করা হয়। এতে আহত হন কাবের শেখ ও রাশেদ শেখ নামে দুই কর্মী। আর এজাজের বাম হাত ভেঙে যায়। ওড়িশায় কোনো চিকিৎসা না পেয়ে তিনি পরদিন ট্রেনে করে ধুলিয়ানে ফিরে আসেন। পরে চিকিৎসকরা তার হাতে প্লাস্টার করে দেন। তারপর থেকে বাসায় বেকার বসে আছেন তিনি। এখন তিনি স্ত্রী-সন্তানসহ সংসার চালাতে গিয়ে বিপাকে পড়েছেন।

এজাজ জানান, মুর্শিদাবাদে কাজ করলে তিনি প্রতিদিন পান ৪০০ রুপি; কিন্তু বাইরে কাজ করলে পান এক হাজার রুপি। দুই মাস আগে ১৫ জনকে নিয়ে একজন ঠিকাদারের মাধ্যমে একটি নির্মাণ প্রকল্পের কাজে সম্বলপুর গিয়েছিলেন তারা। কাজ থেকে ফিরে তারা নিজেরাই রান্না করে খেতেন। গত সপ্তাহে গেরুয়া পোশাক পরা এবং কপালে তিলক লাগানো সাতজনের একটি দল এসে তাদের আধার ও ভোটার কার্ড দেখতে চাইল। কার্ডে মুসলিম নাম দেখে তারা বাংলাদেশি বলে আমাদের মারধর শুরু করে। গেরুয়া লোকেরা তাদের নগদ রুপি ও মোবাইল ফোন কেড়ে নিয়ে যায়।

ছত্তিশগড়েও একই ধরনের মর্মান্তিক ঘটনা ঘটেছে, যেখানে মুর্শিদাবাদের তিনজন কর্মী নারায়ণপুর শহরের কাছে চরম সহিংসতার শিকার হয়েছেন। সাগরদিঘি এলাকার বাসিন্দা ২৮ বছর বয়সি ইয়াদুল শেখ, ৩০ বছর বয়সি নিয়ামত শেখ, ৬৫ বছরের হানিফ শেখ মোটরসাইকেলে করে ওড়িশা ও এর আশপাশের এলাকায় কম্বল এবং অন্যান্য জিনিসপত্র বিক্রি করতেন। তারা জানান, অর্ডার নেওয়ার জন্য ছত্তিশগড়ের নারায়ণপুরে যাওয়ার সময় গেরুয়া বাহিনী তাদের আটকে আধার ও ভোটার কার্ড দেখতে চায়। কার্ডে মুসলিম নাম দেখেই তাদের ওপর হামলা চালায়। তিনজনকে লাঠি ও রড দিয়ে মারধর করে তারা। ইয়াদুল ও নিয়ামতকে একটি বৈদ্যুতিক খুঁটির সঙ্গে বেঁধে তাদের ওপর পেট্রোল ঢেলে আগুন দেওয়ার চেষ্টা করে। পরে ব্যর্থ হয়ে তাদের ছেড়ে দেওয়া হয়। এ ঘটনায় আহত কর্মীরা কোনো অভিযোগ দায়ের করতে পারেননি।

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন