মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধের প্রভাবে লেবাননে ভয়াবহ মানবিক সংকট তৈরি হচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল ইরান ও তাদের মিত্রদের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান শুরুর পর গত ১২ দিনে দেশটিতে ব্যাপক হারে মানুষের বাস্তুচ্যুতি ঘটেছে।
যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক সংবাদমাধ্যম এনবিসি নিউজের বরাতে জানা গেছে, গত ১২ দিনে লেবাননে প্রায় ৭ লাখ ৫০ হাজারের বেশি মানুষ নিজেদের ঘরবাড়ি ছেড়ে অন্যত্র আশ্রয় নিতে বাধ্য হয়েছেন। লেবানন সরকারের প্রকাশিত তথ্যের ভিত্তিতে এই সংখ্যা তুলে ধরা হয়েছে।
লেবাননের দক্ষিণাঞ্চলে ইসরাইলি বাহিনীর ধারাবাহিক বিমান হামলা এবং ব্যাপক সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশনার কারণে সবচেয়ে বেশি মানুষ সেখান থেকেই বাস্তুচ্যুত হচ্ছেন। ওই অঞ্চলটি দীর্ঘদিন ধরে হিজবুল্লার শক্ত ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত।
জাতিসংঘের লেবাননবিষয়ক মানবিক সমন্বয়কারী ইমরান রেজা বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে বলেন, বাস্তুচ্যুতির এই গতি ‘অভূতপূর্ব’। কেবল সোমবার থেকে মঙ্গলবারের মধ্যেই ১ লাখের বেশি মানুষ নতুন করে বাস্তুচ্যুত হিসেবে নিবন্ধিত হয়েছেন।
এদিকে রাজধানী বৈরুত বিভিন্ন স্কুল ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে অস্থায়ী আশ্রয়কেন্দ্র খোলা হয়েছে। দক্ষিণ লেবাননে ইসরাইলি বিমান হামলা থেকে পালিয়ে আসা বহু পরিবার এখন শহরের বিভিন্ন স্থানে আশ্রয় নিয়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইসরাইলি বাহিনী লেবাননের দক্ষিণাঞ্চলে একাধিক হামলা চালালেও এখন পর্যন্ত সেখানে সরাসরি কোনো হামলা চালায়নি যুক্তরাষ্ট্রের সেনাবাহিনী।
বিশ্লেষকদের মতে, সংঘাত দীর্ঘায়িত হলে লেবাননে বাস্তুচ্যুত মানুষের সংখ্যা আরও দ্রুত বাড়তে পারে এবং দেশটি বড় ধরনের মানবিক সংকটের মুখে পড়তে পারে।
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

