যুক্তরাষ্ট্রের নৌ অবরোধ তুলে নেওয়ার শর্ত দিয়েছে ইরান

যুক্তরাষ্ট্রের নৌ অবরোধ তুলে নেওয়ার শর্ত দিয়েছে ইরান

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনায় বসতে এখনো আগ্রহী ইরান। তবে এর জন্য দেশটির বন্দরগুলোতে যুক্তরাষ্ট্রের নৌ অবরোধ তুলে নেওয়ার শর্ত দিয়েছে তেহরান। পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় হওয়া অন্তর্বর্তী চুক্তির আওতায় আলোচনায় বসতে ইরান প্রস্তুত বলে জানিয়েছেন ইসলামাবাদে নিযুক্ত দেশটির রাষ্ট্রদূত।

শনিবার পাকিস্তানের ইসলামাবাদে এক সেমিনারে ইরানের রাষ্ট্রদূত রেজা আমিরি মোগাদ্দাম এসব কথা বলেন। তিনি অভিযোগ করেন, যুক্তরাষ্ট্র কূটনৈতিক উদ্যোগ বাধাগ্রস্ত করছে এবং হরমুজ প্রণালিকে কেন্দ্র করে অচলাবস্থা দীর্ঘায়িত করছে।

বিজ্ঞাপন

রাষ্ট্রদূত জানান, সম্প্রতি পাকিস্তানের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রকে একটি প্রস্তাব দিয়েছে ইরান। এতে মার্কিন নৌ অবরোধ তুলে নেওয়া হলে হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেওয়ার কথা বলা হয়েছে। তবে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের বন্দরগুলোতে অবরোধ অব্যাহত রাখার কথা বলায় প্রস্তাবটি প্রত্যাখ্যাত হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।

পাকিস্তান ও কাতারের মধ্যস্থতায় চুক্তি

গত জুনে পাকিস্তান ও কাতারের মধ্যস্থতায় যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে একটি অন্তর্বর্তী চুক্তি হয়েছিল। এর লক্ষ্য ছিল হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক করা, যুক্তরাষ্ট্রের নৌ অবরোধ প্রত্যাহার এবং ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে বৃহত্তর সমঝোতার লক্ষ্যে আলোচনা শুরু করা।

ইরানের রাষ্ট্রদূত বলেন, পাকিস্তানের সেনাপ্রধান ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনির তেহরান সফরের সময় ইরানি কর্মকর্তারা অবরোধ তুলে নেওয়া হলে প্রণালিটি খুলে দেওয়ার বিষয়ে নিজেদের আগ্রহের কথা জানিয়েছেন।

তবে আলোচনার বিষয়ে ইরানের আগ্রহ থাকলেও দুই দেশের মধ্যে অচলাবস্থা কাটেনি। হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল এবং ইরানের বন্দরগুলোতে মার্কিন অবরোধ প্রত্যাহারের বিষয়টি এখনো দুই পক্ষের বিরোধের কেন্দ্রে রয়েছে।

মক্কা যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তি পর্যালোচনা করবে ইরান

এদিকে পাকিস্তান, সৌদি আরব ও তুরস্কের মধ্যে স্বাক্ষরিত মক্কা যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তি নিয়েও মন্তব্য করেছেন ইরানের রাষ্ট্রদূত। তিনি বলেন, চুক্তিটিকে সমর্থন করার বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে তেহরান এটি পর্যালোচনা করবে।

মোগাদ্দাম বলেন, ‘আমরা মক্কা চুক্তিটি পর্যালোচনা করব। এটি ভালো হলে আমরা সমর্থন করব।’

ইয়েমেনে ইরান-সমর্থিত হুথি বিদ্রোহীদের সৌদি আরবে নতুন করে হামলার পর তিন দেশ এই চুক্তিতে সই করে। সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর ভাষ্য অনুযায়ী, এর লক্ষ্য পারস্পরিক প্রতিরোধক্ষমতা বাড়ানো এবং প্রতিরক্ষা সহযোগিতা সম্প্রসারণ করা।

তুরস্ক চুক্তিটি অনুমোদনের জন্য দেশটির পার্লামেন্টে পাঠিয়েছে। তুরস্ক ও পাকিস্তানের কর্মকর্তারা বলেছেন, এটি প্রতিরক্ষামূলক উদ্যোগ; ইরান বা অন্য কোনো দেশকে লক্ষ্য করে করা হয়নি। ইয়েমেনে হুথিদের বিরুদ্ধে অভিযান চালাতে সেনা পাঠানোর পরিকল্পনাও নাকচ করেছে তুরস্ক। পাকিস্তানও জানিয়েছে, চুক্তির আওতায় তাদের ভূমিকা হবে সম্পূর্ণ প্রতিরক্ষামূলক।

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন