সংসদে শ্রীলঙ্কার জননিরাপত্তা মন্ত্রী

কলোম্বোয় ২০১৯ সালের ইস্টার সানডে হামলার ‘মূল পরিকল্পনাকারী’ তৎকালীন গোয়েন্দা প্রধান

আমার দেশ অনলাইন
আমার দেশ অনলাইন

কলোম্বোয় ২০১৯ সালের ইস্টার সানডে হামলার ‘মূল পরিকল্পনাকারী’ তৎকালীন গোয়েন্দা প্রধান

২০১৯ সালে শ্রীলঙ্কায় ইস্টার সানডেতে ভয়াবহ আত্মঘাতী বোমা হামলার পেছনে দেশটির সাবেক গোয়েন্দা প্রধানের সরাসরি জড়িত থাকার কথা প্রথমবারের মতো আনুষ্ঠানিকভাবে স্বীকার করেছে সরকার। বুধবার শ্রীলঙ্কার জননিরাপত্তা মন্ত্রী আনন্দ উইজেপালা পার্লামেন্টে জানান, তৎকালীন গোয়েন্দা প্রধান মেজর জেনারেল সুরেশ সালে নিজেই ওই হামলার দিকনির্দেশনা দিয়েছিলেন। ওই হামলায় ২৭৯ জন নিহত হয়েছিলেন।

মন্ত্রী আনন্দ উইজেপালা বলেন, "তদন্তে দেখা গেছে, অবসরপ্রাপ্ত মেজর জেনারেল তুয়ান সুরেশ সালে ইসলামিক চরমপন্থীদের সাথে ষড়যন্ত্র করেছিলেন এবং কৌশলগতভাবে তাদের এই হামলা চালাতে নির্দেশনা দিয়েছিলেন।" হামলা সঙ্ঘটিত করার অপরাধে "সহায়তা ও প্ররোচনা" দেওয়ার অভিযোগে গত ফেব্রুয়ারিতে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।

বিজ্ঞাপন

তিনি আরও জানান, হামলার মাত্র তিন সপ্তাহ আগে সালে মুসলিম পুরুষদের সাথে দেখা করে হামলার লক্ষ্যবস্তু হিসেবে একটি ক্যাথলিক চার্চের অবস্থান এবং সেখানে সমবেত হওয়া মানুষের বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহ করেছিলেন।

তবে সুরেশ সালে তার আইনজীবীর মাধ্যমে এই সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। সন্ত্রাসবাদ বিরোধী আইনের অধীনে আটক থাকা সালে গত রোববার থেকে কারাগারে অনশন শুরু করার পর তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে বলে মন্ত্রী জানান। এদিকে রাজধানী কলম্বোতে বিরোধী দলীয় কর্মীরা তার মুক্তির দাবিতে বিক্ষোভ করছে।

সাবেক প্রেসিডেন্টের দিকেও সন্দেহের তির: সুরেশ সালে-কে জিজ্ঞাসাবাদের পর তদন্তকারীদের আবেদনের প্রেক্ষিতে শ্রীলঙ্কার একটি আদালত সাবেক প্রেসিডেন্ট গোটাবায়া রাজাপাকসেকে দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা জারি করেছেন। ২০১৯ সালে রাজাপাকসে প্রেসিডেন্ট হওয়ার পরপরই সালেক-কে দেশের প্রধান গোয়েন্দা সংস্থা স্টেট ইন্টেলিজেন্স সার্ভিসের প্রধান হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছিল।

এর আগে ২০২৩ সালে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম 'চ্যানেল ফোর' এক প্রতিবেদনে দাবি করেছিল, সালে আত্মঘাতী বোমা হামলাকারীদের সাথে জড়িত ছিলেন এবং হামলার আগে তাদের সাথে বৈঠক করেছিলেন। একজন তথ্যফাঁসকারী (হুইসেলব্লোয়ার) চ্যানেল ফোর-কে জানিয়েছিলেন, ওই বছরের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে গোটাবায়া রাজাপাকসের পক্ষে জনমত তৈরি ও ফায়দা তোলার উদ্দেশ্যেই এই হামলা সফল হতে দেওয়া হয়েছিল।

উল্লেখ্য, ওই ভয়াবহ হামলার মাত্র দুই দিন পর রাজাপাকসে নিজের প্রার্থিতা ঘোষণা করেন এবং দেশে ইসলামিক চরমপন্থা নির্মূল করার প্রতিশ্রুতি দিয়ে নভেম্বরের নির্বাচনে বিশাল ব্যবধানে জয়লাভ করেন।

ক্রিমিনাল ইনভেস্টিগেশন ডিপার্টমেন্ট এখনো রাজাপাকসেকে সরাসরি সন্দেহভাজন হিসেবে নাম না দিলেও, সরকারি সূত্রগুলো জানিয়েছে যে তাকে খুব শীঘ্রই এই বিষয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হতে পারে।

কলম্বোর তিনটি বিলাসবহুল হোটেল, দুটি রোমান ক্যাথলিক চার্চ এবং কলম্বোর বাইরের একটি প্রোটেস্ট্যান্ট চার্চে চালানো ওই সিরিজ বোমা হামলাটি ছিল শ্রীলঙ্কার ইতিহাসে বেসামরিক নাগরিকদের ওপর চালানো সবচেয়ে বড় সন্ত্রাসী হামলা।

সূত্র: এনডিটিভি

এসআর

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

সর্বশেষ

এলাকার খবর
Loading...