কানাডার পশ্চিমাঞ্চলের একটি সামরিক ঘাঁটিতে গ্রেনেড নিক্ষেপের মহড়া থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়। পরে প্রবল বাতাসে আগুন ছড়িয়ে পড়ে প্রশিক্ষণ এলাকায়। এতে চার সেনা নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন আরো ৩৯ জন। তাদের মধ্যে ২৭ জনকে হাসপাতালে ভর্তি করতে হয়েছে।
বৃহস্পতিবার সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান কানাডার সামরিক পুলিশের প্রধান ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ভেনেসা হানরাহান। তিনি বলেন, শনিবার আলবার্টা প্রদেশের ওয়েনরাইট সামরিক ঘাঁটিতে গ্রেনেড লঞ্চার প্রশিক্ষণ এলাকায় আগুন লাগে। ওই সময় সেখানে সামরিক মহড়া চলছিল। প্রবল বাতাসে আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে ঘাঁটির অন্য অংশে।
হানরাহান বলেন, পরে বাতাসের দিক ও গতিবেগ পরিবর্তিত হওয়ায় আগুনের তীব্রতা অনেক বেড়ে যায়। আগুন ছড়িয়ে পড়ে প্রশিক্ষণ এলাকায়। তবে আগুনটি গ্রেনেড নিক্ষেপের ক্ষেত্রের ‘স্থায়ী বিপজ্জনক এলাকা’র মধ্যে থাকায় অগ্নিনির্বাপণকর্মীরা সরাসরি সেখানে গিয়ে আগুন নেভাতে পারেননি।
শনিবার বিকেলে আগুন ছড়িয়ে পড়ার সময় সেখানে উচ্চমাত্রার যুদ্ধ প্রশিক্ষণ চলছিল। প্রিন্সেস প্যাট্রিসিয়ার কানাডিয়ান লাইট ইনফ্যান্ট্রি বাহিনীর তৃতীয় ব্যাটালিয়নের চার্লি কোম্পানির সদস্যরা ওই মহড়ায় অংশ নিচ্ছিলেন।
শত্রুর অবস্থানে হামলার মহড়াও চলছিল
ওয়েনরাইট সামরিক ঘাঁটিটি কানাডার বিস্তীর্ণ তৃণভূমি অঞ্চলে অবস্থিত। সেখানে খোলা ঘাসের মাঠ, ঢেউখেলানো সমতল ভূমি এবং ছড়িয়ে-ছিটিয়ে থাকা গাছপালা রয়েছে।
ঘটনার সময় প্রায় ৮৪ জন সেনাকে দুটি দলে ভাগ করা হয়েছিল। এক দল গ্রেনেড নিক্ষেপের প্রশিক্ষণ নিচ্ছিল। অন্য দল কৃত্রিম শত্রুর অবস্থানে হামলার অনুশীলন করছিল। একপর্যায়ে আগুন দ্বিতীয় প্রশিক্ষণ এলাকাতেও ছড়িয়ে পড়ে।
এ ঘটনায় চার সেনার মৃত্যু ও ৩৯ জনের আহত হওয়ার ঘটনা কানাডার সামরিক বাহিনীর শান্তিকালীন সময়ের সবচেয়ে ভয়াবহ দুর্ঘটনাগুলোর একটি।
নিহত ও আহত সেনাদের মধ্যে নিয়মিত বাহিনীর সদস্যদের পাশাপাশি রিজার্ভ সদস্যরাও ছিলেন। লাটভিয়ায় সম্ভাব্য মোতায়েনের প্রস্তুতি হিসেবে তারা এ প্রশিক্ষণে অংশ নিচ্ছিলেন। কানাডার সামরিক বাহিনীর সবচেয়ে বড় আন্তর্জাতিক সামরিক অভিযানটি লাটভিয়ায় পরিচালিত হচ্ছে।
ন্যাটো সদস্যদেরও প্রশিক্ষণ হয় এই ঘাঁটিতে
ওয়েনরাইট কানাডার সশস্ত্র বাহিনীর পরিচালিত বৃহত্তম সামরিক ঘাঁটিগুলোর একটি। সেখানে নিয়মিত ন্যাটোভুক্ত দেশগুলোর সেনাদের নিয়ে প্রশিক্ষণ মহড়ার আয়োজন করা হয়।
দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের শেষ কয়েক মাস এবং ১৯৪৬ সালের কয়েক মাস এই ঘাঁটি জার্মান যুদ্ধবন্দীদের আটককেন্দ্র হিসেবেও ব্যবহৃত হয়েছিল।
এএম
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

