ইউক্রেন বৃহস্পতিবার মস্কোতে কয়েক বছরের মধ্যে সবচেয়ে বড় ড্রোন হামলা চালিয়েছে। এতে রাজধানী ও এর আশপাশের এলাকায় আগুন লেগে যায় এবং দেশের সবচেয়ে বড় বিমানবন্দর থেকে যাত্রীদের সরিয়ে নেওয়া হয়।
দেশটির কর্মকর্তারা এ তথ্য জানিয়েছে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া যাচাই না করা ভিডিওতে শহরের আকাশে ঘন কালো ধোঁয়ার কুণ্ডলী দেখা যায়।
অন্য একটি ভিডিওতে আকাশে ড্রোন উড়তে দেখা গেছে বলে দাবি করা হয়। মস্কো থেকে বার্তা সংস্থা এএফপি এ খবর জানিয়েছে।
রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভøাদিমির পুতিনের মধ্যাঞ্চলীয় শহর কাজানে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার নেতাদের সঙ্গে বৈঠকের কয়েক ঘণ্টা আগে বড় ধরণের এই হামলা চালানো হয়। মস্কো থেকে কাজানের দূরত্ব প্রায় ৭০০ কিলোমিটার।
চার বছরেরও বেশি সময় ধরে চলা যুদ্ধ বন্ধে কূটনৈতিক আলোচনা স্থবির হয়ে থাকায়, সাম্প্রতিক মাসগুলোতে রাশিয়ায় ড্রোন হামলা বাড়িয়েছে কিয়েভ। বিশেষ করে, মস্কোর যুদ্ধ তহবিলে অর্থ জোগানো তেল শোধনাগারগুলোকে লক্ষ্যবস্তু করা হচ্ছে।
মস্কোর মেয়র সের্গেই সোবিয়ানিন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম টেলিগ্রামে লিখেছেন, ‘বিমান প্রতিরক্ষা বাহিনী বড় আকারের হামলা প্রতিহত করে যাচ্ছে। কয়েকটি ড্রোন এমএনপিজেড (মস্কো তেল শোধনাগার) পর্যন্ত পৌঁছাতে সক্ষম হয়েছে।’
শোধনাগারটির ক্ষয়ক্ষতি সম্পর্কে তিনি কিছু জানাননি।
তবে রুশ গণমাধ্যমের কয়েকটি প্রতিবেদনে সেখানে আগুন লাগার কথা বলা হয়েছে।
মস্কোর শেরেমেতিয়েভো বিমানবন্দর জানিয়েছে, হামলার সময় যাত্রীদের ‘নিরাপদ স্থানে’ সরিয়ে নেওয়া হয়েছে এবং বিমান চলাচলে বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে। শেরেমেতিয়েভো রাশিয়ার সবচেয়ে ব্যস্ত বিমানবন্দর।
মস্কো অঞ্চলের ঝুকভস্কি জেলায় একটি আবাসিক ভবনে আরেকটি ড্রোন আঘাত হানে।
মস্কো অঞ্চলের গভর্নর আন্দ্রেই ভোরোবিয়ভ জানান, এছাড়া ড্রোনের ধ্বংসাবশেষ পড়ে রাজধানীর উপকণ্ঠের একটি শপিং সেন্টারে আগুন ধরে যায়।
সোবিয়ানিন জানান, রুশ বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা মস্কোর দিকে আসা ১৮০টি ড্রোন ভূপাতিত করেছে।
অন্যদিকে রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানায়, গত রাতে ইউক্রেনের পাঁচ শতাধিক ড্রোন প্রতিহত করা হয়েছে।
রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা তাস জানায়, অন্তত দুই বছরের মধ্যে মস্কোর ওপর এটিই সবচেয়ে বড় হামলা।
২০২২ সালে যুদ্ধ শুরুর পর থেকে রাশিয়া প্রায় প্রতিদিনই ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র দিয়ে ইউক্রেনের বিভিন্ন এলাকায় হামলা চালিয়ে আসছে।
কাজানে পুতিন
মধ্যাঞ্চলীয় শহর কাজানে অ্যাসোসিয়েশন অফ সাউথইস্ট এশিয়ান নেশনস (আসিয়ান)-এর শীর্ষ সম্মেলনে পুতিনের আয়োজক হওয়ার মাত্র কয়েক ঘণ্টা আগে এই হামলা হয়।
থাইল্যান্ড, ভিয়েতনাম, কম্বোডিয়া, লাওস, মালয়েশিয়া ও সিঙ্গাপুর তাদের প্রধানমন্ত্রীদের পাঠিয়েছে। আর ফিলিপাইন পাঠিয়েছে প্রেসিডেন্ট ফের্দিনান্দ মার্কোসকে।
ইউক্রেনে চার বছরের সামরিক অভিযানের অর্থনৈতিক ও সামাজিক প্রভাব সত্ত্বেও রাশিয়ায় স্থিতিশীলতার চিত্র তুলে ধরতে দীর্ঘদিন ধরেই চেষ্টা করে আসছেন পুতিন।
যুদ্ধমুখী অর্থনীতিতে পরিচালিত রাশিয়া বর্তমানে উচ্চ মূল্যস্ফীতি, শ্রমিক সংকট ও ঋণের উচ্চ সুদের চাপ মোকাবিলা করছে।
এ বছর ইউক্রেনের যুদ্ধক্ষেত্রে রুশ বাহিনীর অগ্রগতি ধীর হয়ে এসেছে। একই সময়ে রাশিয়ার ভেতরে হামলার মাত্রা বাড়িয়েছে কিয়েভ।
চলতি সপ্তাহে ফ্রান্সে অনুষ্ঠিত জি-৭ সম্মেলনে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেন, ইউক্রেন যুদ্ধের অবসানে মস্কোর ‘একটি সমঝোতায় পৌঁছানো উচিত।’
পুতিন বারবার ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির সঙ্গে সরাসরি বৈঠকের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছেন।
তিনি বলে আসছেন, রাশিয়া শক্তি প্রয়োগ করে ইউক্রেনের পূর্বাঞ্চলীয় দনবাস অঞ্চল দখল করবে।
২০২২ সালে ইউক্রেনে রাশিয়ার সামরিক অভিযান শুরুর পর থেকে এটি দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর ইউরোপের সবচেয়ে প্রাণঘাতী সংঘাতে পরিণত হয়েছে।
এতে কয়েক লাখ মানুষ নিহত হয়েছে এবং ইউক্রেনের পূর্ব ও দক্ষিণাঞ্চলের বিস্তীর্ণ এলাকা যুদ্ধের ধ্বংসযজ্ঞে বিপর্যস্ত হয়েছে।
এসআর
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন


