নাইজেরিয়ার পশ্চিমাঞ্চলীয় কুয়ারা রাজ্যের দুটি গ্রামে সশস্ত্র সন্ত্রাসীদের হামলায় অন্তত ১৬২ জন নিহত হয়েছেন। স্থানীয় সময় মঙ্গলবার (৪ ফেব্রুয়ারি) ওরু ও নুকু গ্রামে সংঘটিত এই হামলাকে চলতি বছরে দেশটির সবচেয়ে প্রাণঘাতী সহিংসতা হিসেবে দেখা হচ্ছে।
স্থানীয় সংসদ সদস্য মোহাম্মদ ওমর বায়ো বুধবার নিহতের সংখ্যা নিশ্চিত করে এএফপিকে জানান, ইসলামিক স্টেটের (আইএস) সঙ্গে সম্পৃক্ত ‘লাকুরাওয়া’ নামের একটি সশস্ত্র গোষ্ঠী এই হামলার সঙ্গে জড়িত বলে সন্দেহ করা হচ্ছে। তবে এখনো পর্যন্ত কোনো গোষ্ঠী আনুষ্ঠানিকভাবে দায় স্বীকার করেনি।
প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় রাজনৈতিক নেতাদের ভাষ্য অনুযায়ী, হামলাকারীরা গ্রামের বাসিন্দাদের একত্র করে হাত পেছনে বেঁধে সারিবদ্ধভাবে দাঁড় করিয়ে গুলি চালায়। কায়ামা অঞ্চলের রাজনীতিবিদ সাইদু বাবা আহমেদ জানান, হত্যাকাণ্ডের পাশাপাশি বন্দুকধারীরা বহু ঘরবাড়ি ও দোকানপাটে আগুন ধরিয়ে দেয়।
তিনি আরও বলেন, সেনাবাহিনীর সহায়তায় বর্তমানে গ্রাম থেকে মরদেহ উদ্ধার করা হচ্ছে এবং আশপাশের বন ও ঝোপঝাড়ে তল্লাশি অভিযান চলছে। এই ঘটনায় গ্রামের ঐতিহ্যবাহী শাসকসহ বেশ কয়েকজন এখনো নিখোঁজ রয়েছেন।
মানবাধিকার সংস্থা অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়ে বলেছে, নিহতের সংখ্যা ১৭০ জনেরও বেশি হতে পারে। সংস্থাটি অভিযোগ করেছে, গত পাঁচ মাস ধরে বন্দুকধারীরা গ্রামবাসীদের হুমকিমূলক চিঠি পাঠালেও নিরাপত্তা বাহিনীর যথাযথ পদক্ষেপের অভাবে এই বিপর্যয় ঠেকানো যায়নি।
গ্রামবাসীরা জানিয়েছেন, হামলাকারীরা জিহাদি মতাদর্শে বিশ্বাসী এবং নিয়মিত গ্রামে এসে প্রচারণা চালাত। তারা নাইজেরিয়া রাষ্ট্রের প্রতি আনুগত্য ত্যাগ করে শরিয়া আইন অনুসরণের দাবি জানিয়ে আসছিল। মঙ্গলবার একটি ধর্মীয় সমাবেশে গ্রামবাসীরা সেই দাবি প্রত্যাখ্যান করলে হামলাকারীরা নির্বিচারে গুলি চালায়।
কুয়ারা রাজ্যের গভর্নর আবদুল রহমান আবদুল রাজাক এই হামলাকে ‘সন্ত্রাসীদের কাপুরুষোচিত কাজ’ বলে আখ্যা দিয়েছেন। বিশ্লেষকদের মতে, এই ঘটনা নাইজেরিয়াজুড়ে ক্রমবর্ধমান নিরাপত্তা সংকটকে আরও স্পষ্ট করে তুলেছে। দেশটির উত্তর-পূর্বাঞ্চলে জিহাদি বিদ্রোহ, উত্তর-পশ্চিমে সশস্ত্র ডাকাতদের তৎপরতা এবং মধ্যাঞ্চলে সাম্প্রদায়িক সহিংসতায় সাধারণ মানুষ চরম অনিশ্চয়তার মধ্যে রয়েছে।
উল্লেখ্য, গত ৩০ জানুয়ারি নাইজেরিয়ার সামরিক বাহিনী কুয়ারা রাজ্যে অভিযানে ১৫০ জন সন্ত্রাসী নিহত হওয়ার দাবি করেছিল। তবে তার কয়েক দিনের মধ্যেই এই ভয়াবহ বেসামরিক হত্যাকাণ্ড দেশটির নিরাপত্তা ব্যবস্থার দুর্বলতাকেই নতুন করে সামনে নিয়ে এসেছে।
এসআর
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

